জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬ ৩:০৮ পিএম

দীর্ঘ ১৯ মাসেও সম্মেলন করতে না পারায় চরম সাংগঠনিক স্থবিরতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি। স্থানীয় পর্যায়ে বিবাদ মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় জেলার এই কোন্দল শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে দলটির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত। গত ১৭ই জুন মৌলভীবাজার সফরকালে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। উদ্ভূধ পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জেলায় অধীনস্থ সব ইউনিটের কাউন্সিল শেষ করে দ্রুত জেলা সম্মেলন আয়োজনের করার তাগিদ দিয়েছেন দলীয়প্রধান।

দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে এম নাসের রহমানকে সভাপতি ও মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপি’র সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়েছিল। তবে কিছুদিন পরই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং দলটি দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে কোন্দল মেটাতে ২০২৪ সালের ৪ঠা নভেম্বর ফয়জুল করিম ময়ুনকে আহ্বায়ক এবং আব্দুর রহিম রিপনকে সদস্যসচিব করে একটি ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এই কমিটি জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করতে পারেনি। ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটের সম্মেলন ঝুলে থাকায় আটকে আছে মূল জেলার কাউন্সিল।

গত ১৭ই জুন মৌলভীবাজারের স্থানীয় দুসাই রিসোর্টে জেলা ও সিলেট বিভাগীয় বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় বসেন তারেক রহমান। সেখানে তৃণমূলের একাংশ সরাসরি দলীয়প্রধানের কাছে জেলার সাংগঠনিক স্থবিরতার চিত্র তুলে ধরেন। সব শুনে তারেক রহমান অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঝুঁলে থাকা ৫টি ইউনিটের কাউন্সিল শেষ করে মূল জেলা সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র, যুগ্ম আহ্বায়ক, আবুল হোসেন জানান:-“দলীয়প্রধানের নির্দেশনা পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব কমলগঞ্জ উপজেলা কমিটির কাউন্সিল আয়োজনের প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে ইউনিয়নের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে।”

জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার বিএনপিতে এখন নেতৃত্ব পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। তৃণমূলের একটি বড় অংশ চাচ্ছে সরাসরি কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন ও গতিশীল কমিটি গঠন করা হোক। শীর্ষ পদের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন হেভিওয়েট নেতারা:

সভাপতি ১.এম নাসের রহমান (সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য)

২.ফয়জুল করিম ময়ুন (বর্তমান আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র) |

সাধারণ সম্পাদক ১.মিজানুর রহমান (সাবেক সাধারণ সম্পাদক)

২.আব্দুর রহিম রিপন (বর্তমান সদস্যসচিব)

গণমাধ্যমকে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন বলেন, “নানা প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আহ্বায়ক কমিটি বসে ছিল না। আমরা দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে কাজ করেছি। দলীয় প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে ত্যাগী ও যোগ্যদের নিয়ে একটি সুন্দর পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দেওয়াই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

দলীয়প্রধানের এই কড়া নির্দেশনার পর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র নতুন নেতৃত্বের পথে কতটা এগিয়ে যেতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বিএসটিআইর মোবাইল কোর্ট: চাঁদপুরে তিন বেকারি মালিকের অর্থদণ্ড

চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য উৎপাদন এবং লাইসেন্স ছাড়াই বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ...

হাসনাত আব্দুল্লাহ সরকারের প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গার কারণে সবকিছু হতাশায় পরিণত হয়েছে

বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ...

নামজারিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি: আব্দুল মান্নান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নামজারি ও ভূমিসংক্রান্ত সেবায় সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত ...

কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং আধুনিক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ...

যানজট নিরসনে নবীনগর বাজারে উচ্ছেদ অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর সদর বাজারে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে সড়ক ...

মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ

‎মাদকবিরোধী সচেতনতামুলক সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ ...