জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬ ২:৪৪ পিএম

সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকলেও মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি ও সম্পদ রক্ষায় প্রতি মাসে সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটাতে এই বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। একসময়ের লাভজনক মিলটি দফায় দফায় বন্ধ হওয়ায় এর ওপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার শ্রমিক বর্তমানে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রায়পুর এলাকায় ১৯৬০ সালে ৭৫ একর জায়গার ওপর মিলটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি জাতীয়করণ করে জাতীয় জুট মিল নামকরণ করা হয়। একসময় এটি অত্যন্ত লাভজনক থাকলেও দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে লোকসানে পড়ে ২০০৭ সালে প্রথমবার এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে পুনরায় চালু হলেও সোমবার (১ জুন) ২০২০ সালে এটি দ্বিতীয় দফায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সর্বশেষ ২০২২ সালে কুষ্টিয়ার রশিদ গ্রুপ মিলটি লিজ নিয়ে পুনরায় উৎপাদন শুরু করে। তবে মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০২৪ সালে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস বকেয়া রেখেই লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানটি মিলটি আবার বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে মিলটির কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অলস পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে এসব সম্পদ দেখাশোনার জন্য নিয়োজিত ১৮৯ জন কর্মীর বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।

মিলটি বন্ধ হওয়ায় পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন বহু শ্রমিক। সাবেক শ্রমিক রতন আলী জানান, মিল চালু থাকাকালীন সপ্তাহে তার ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় হতো। বর্তমানে তিনি ঘটকালি ও সামান্য জমিতে কৃষিকাজ করে কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন। আরেক শ্রমিক বেলাল হোসেন জানান, পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হারিয়ে তিনি এখন চরম সংকটে দিন পার করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয়করণ ও লুটপাটের কারণেই ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি বারবার বন্ধের মুখে পড়েছে। দ্রুত মিলটি পুনরায় চালুর মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

জাতীয় জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেন জানান, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বন্ধ মিলটি পুনরায় চালু করতে বিজেএমসি থেকে লিজ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়মিত বেতন ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান মিলটি লিজ নিলেই দ্রুত পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

সুন্দরবনের উপকূলে লবণাক্ত জমিতে সবুজের বিপ্লব

বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের উপকূলঘেঁষা বাগেরহাটের বিস্তীর্ণ জনপদে এবার সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। একসময় লবণাক্ততার ...

কলকাতায় আবাসিক হোটেলে আগুন, কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন নিহত

ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ একই ...

বাণিজ্য প্রতিদিনে সংবাদ প্রকাশের পর মানিকগঞ্জে ভেজাল ছানা-ঘির কারখানা সিলগালা, জরিমানা ৫০ হাজার

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছানা তৈরির কারখানা নিয়ে জাতীয় দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিন-এ সংবাদ প্রকাশের পর মানিকগঞ্জে অভিযান ...