
সুন্দরবন সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার ২০১৭ সালে ‘রক্ষিত এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা’ প্রণয়ন করে। বিধিমালা অনুযায়ী গ্রাম সংরক্ষণ ফোরাম, পিপলস ফোরাম ও কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রতিটি রেঞ্জে সহ–ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটি গঠনের কথা। বন ব্যবস্থাপনা, সিপিজি নিয়োগ, পর্যটন থেকে প্রাপ্ত আয় বণ্টন এবং বননির্ভর মানুষের বিকল্প জীবিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এই কমিটির ওপর ন্যস্ত।
তবে সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে এই সহ–ব্যবস্থাপনা কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে আছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে। এরপর বিধিমালা পরিবর্তন হলেও নতুন করে আর কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। ফলে খুলনা রেঞ্জের আয়ের অংশ দীর্ঘদিন ধরে পাশের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সক্রিয় সহ–ব্যবস্থাপনা কমিটির তহবিলে জমা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, খুলনা রেঞ্জে সহ–ব্যবস্থাপনা কমিটি হালনাগাদ না থাকায় দুই রেঞ্জের আয়ই সাতক্ষীরা কমিটির তহবিলে আসে। এর ফলে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বেশির ভাগই সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং সভাগুলোও সেখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই অর্থবছরে খুলনা ও সাতক্ষীরা মিলিয়ে প্রতি বছর প্রায় ২৯ লাখ টাকা করে তহবিলে জমা হয়েছে, যা সাতক্ষীরা রেঞ্জের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে।
বন বিভাগের নথিপত্র বলছে, ২০১৬ সালে গঠিত খুলনা রেঞ্জের সর্বশেষ কমিটিতে বননির্ভর মানুষের বদলে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রাধান্য ছিল। সভাপতি ছিলেন কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার সরদার, সহসভাপতি অসিত কুমার মণ্ডল এবং কোষাধ্যক্ষ কয়রার রিয়াছাদ আলী। ২০১৭ সালে নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে বনজীবী না হওয়ায় তাঁরা যোগ্যতা হারান। গেজেটে উল্লেখ ছিল, নতুন কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত পুরোনো কমিটি আর্থিক সিদ্ধান্ত ছাড়া অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই কমিটির কয়েকজন সদস্য সহ–ব্যবস্থাপনার প্রভাব ব্যবহার করে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। নিষিদ্ধ এলাকায় জেলেদের পাঠানো, বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং অবৈধভাবে পারশের পোনা আহরণের মতো কর্মকাণ্ডে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘ আট বছর পর ২০২৪ সালে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে আবারও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, বননির্ভর নন আগের কমিটির এমন কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তিকেও তালিকায় রাখা হয়েছে। অভিযোগের পর গত বছরের ৬ মে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দেন। লিখিত নির্দেশনায় বলা হয়, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল প্রকৃত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে নির্বাচন করা যাবে না। একই সঙ্গে বন বিভাগকে দুই মাসের মধ্যে বননির্ভর মানুষের তালিকা চূড়ান্ত করবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
বন বিভাগের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের তৎকালীন কর্মকর্তা নির্মল কুমার মণ্ডল বলেন, ইউএনও–র নির্দেশনার পর গ্রাম সংরক্ষণ ফোরাম, পিপলস্ ফোরাম ও সিপিজির তালিকা পুনর্গঠন করা হয়েছিল এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হয়। শুধু সহ–ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটি গঠনের কাজটি বাকি ছিল, পরে দেশের পরিস্থিতির কারণে সেটি আর এগোয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির ‘ইকোসিস্টেম প্রতিবেশ’ প্রকল্পে আড়াই বছরের বেশি সময় কাজ করা মো. আলাউদ্দিন বলেন, বন বিভাগের আন্তরিকতার ঘাটতির কারণে খুলনা রেঞ্জে নতুন কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। তাঁর ভাষায়, ‘বন বিভাগ মনে করে মানুষ চোর, আর মানুষ মনে করে বন বিভাগের লোকজন চোর—এই অবিশ্বাসের মূল কারণ ঘুষ ও অনিয়ম। নতুন কমিটি হলে জবাবদিহি বাড়বে, এ কারণেই কাঠামোটি সক্রিয় করতে অনীহা দেখা যায়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুরোনো কমিটির অনেক সদস্য সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে বন বিভাগের নির্দেশেই কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এমনকি সিপিজিতে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদেরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, সাতক্ষীরা রেঞ্জে নিয়মিত কমিটি থাকায় সেখানে বিভিন্ন সুবিধা পৌঁছালেও খুলনা রেঞ্জে কমিটি না থাকায় প্রকৃত বনজীবীরাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, খুলনা রেঞ্জের সহ–ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটি গঠনে বন বিভাগ আন্তরিক। বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনে আমাদের কিছুটা সময় প্রয়োজন।’
বিএইচ
- ১ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে যা বললেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
- ২হাতকড়া খুলে পালিয়ে যাওয়া ৩২ মামলার আসামি সম্রাট গ্রেফতার
- ৩দর বৃদ্ধির কারণ জানে না দুলামিয়া কটন
- ৪শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিসিএসের স্বপ্নে প্রিয়ন্তী
- ৫চাঁদপুরে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে বাড়ির মালিকের মৃত্যু
- ৬বন্যায় চট্টগ্রামে ৬৭ নদী ও খালের ৩৭১ স্থানে ভাঙন, ঝুঁকিতে শতাধিক জনপদ
- ৭রসিদ ছাড়া টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর
- ৮ইস্টার্ন ব্যাংকের বোর্ড সভা ২৭ জুলাই
- ৯ফাস ফাইন্যান্সের বোর্ড সভা ২৭ জুলাই
- ১০কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ২৭ জুলাই
- ১রণক্ষেত্র দিল্লি: ভারতের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় আন্দোলনের’ ডাক সিজেপির
- ২গ্রাহকদের জন্য নিজস্ব ওএমএস চালু করছে মর্ডান সিকিউরিটিজ
- ৩মতিগঞ্জে টর্নেডোয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান
- ৪চাঁদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছাড়া খাবার তৈরি করায় জরিমানা
- ৫সাতক্ষীরায় বিলে মৎস্য ঘের থেকে গাড়িচালকের মরদেহ উদ্ধার
- ৬যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অভিনন্দন
- ৭জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
- ৮৯৯৯-এ ফোনে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১০ শিক্ষার্থী উদ্ধার
- ৯সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
- ১০ঝুঁকিতে চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প





পাঠকের মতামত