প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৫, ২০২৪ ৮:৫৮ পিএম , আপডেট: ডিসেম্বর ২৫, ২০২৪ ১০:৪০ পিএম
মিল্টন বম: স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ, পাঞ্জাবি ইউনিভার্সিটি, ভারত: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করে এখন ভারতের পাঞ্জাবি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে পড়াশোনা করছি। বান্দরবানের রোয়াংছড়ির রৌনিন পাড়ায় আমার বাড়ি। বেশ দুর্গম এলাকা। সেখানে প্রায় শত বম পরিবারের লোকেরা বসবাস করে। আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে আমার পূর্বপুরুষেরা সেখানে প্রথম বসতি স্থাপন করেন।
এই গ্রামে এখন পর্যন্ত আমিই একমাত্র দেশের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি। শুধু তা-ই নয়, আমিই প্রথম এই গ্রাম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ছাত্র। আমার কোয়ান্টামে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই গ্রাম থেকে আরো আট জন শিশু-কিশোর কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে পড়ছে। গ্রামের মানুষেরা এখন স্বপ্ন দেখে, এরাও আমার মতো পড়াশোনা করবে। আমি স্বপ্ন দেখি, তারা আমার চেয়ে আরো এগিয়ে যাবে।
কিন্তু শুরুর চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৪ সালে ভর্তি হয়েছিলাম কোয়ান্টাম কসমো স্কুলে। বয়স তখন সাত বছর বা তারও কম হবে। প্রথমে আমাকে শিশুশ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিছুদিন পর ক্লাস ওয়ানে উঠিয়ে দেয়া হলো। যেহেতু ক্লাস ওয়ানের পড়ালেখা আমার আয়ত্তে ছিল, তাই ঐ বছরই ক্লাস টু-তে দেয়া হলো।
ভর্তি পরীক্ষার সময় বাবা আসতে পারেন নি। আমার চাচার সাথে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম। আমরা একসাথে পাঁচ জন এসেছিলাম ভর্তি পরীক্ষা দিতে কিন্তু ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলাম দুই জন।
আমার স্মৃতিতে এখনো জ্বলজ্বল করছে সেই সময়টা। বাসা থেকে কীভাবে রওনা দিলাম আর রাস্তায় ভ্রমণের সময়গুলো এবং কসমো স্কুলে পৌঁছানোর পর শিক্ষক, স্টাফ আর ছাত্রদের মুখগুলো আমার স্মৃতিতে এখনো সুস্পষ্ট।
আমার বাবা-মায়ের একটাই চাওয়া ছিল। ছেলে পড়ালেখা শিখে শিক্ষিত হবে, পরিবার ও সমাজের আশা পূরণ করবে। পরিবারের অগাধ ভরসা ছিল—আমি কসমো স্কুলে ভর্তি হলে মানুষের মতো মানুষ হতে পারব। সঠিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষা অর্জন করতে পারব। কালক্রমে এই চিন্তা আমার মধ্যেও সঞ্চারিত হলো।
কলেজের পড়া শেষ করলাম ২০১৫ সালে। ২০০৪-২০১৫ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ এক যুগ ছিলাম কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে। এই ১২ বছর আমার জীবনের বেশ কিছু স্মরণীয় সময় পার করেছি। বিশেষ মুহূর্তগুলোর মধ্যে চমৎকার ব্যতিক্রমী ঘটনাও কম ছিল না। যেমন কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে দিনরাত পরিশ্রম করা, ছোট-বড় সাফল্য অর্জন, শিক্ষক-কর্মী বা পরিচিত কারোর সাথে খুবই আনন্দময় মুহূর্ত কাটানো ইত্যাদি। কোয়ান্টামের সাথে আমি এখনো আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার লেখাপড়ার পরে বাকি সময়টা আমি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম সেন্টারে থাকতাম, সেখানে স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি ও দাফন কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছি। যখন কারো রক্তের প্রয়োজন পড়েছে, তখন আমি রক্ত সংগ্রহের জন্যে যোগাযোগ শুরু করেছি। এটা আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ। মানবসেবার এই বহুমুখী কার্যক্রমের সাথে থাকতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।
ছোটবেলা থেকে আমার ভেতরে একটা বিষয় খুব নাড়া দিত। সেটা হলো কারো কল্যাণে কাজ করতে পারলে যেন আমি অন্তরে তৃপ্তি পেতাম। আর ভালো মানুষের সংস্পর্শে গেলে আমি আরেকটু নিরাপত্তা অনুভব করতাম। তাই
আমার মেধা ও শ্রম দিয়ে আমি দেশের মানুষের পাশেই থাকতে চাই। আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করছি যে, সৎসঙ্ঘ মানুষকে এগিয়ে চলতে সাহায্য করে আরো বেশি। সৎসঙ্ঘ মানুষের গুণাবলিকে বিকশিত করতে সহযোগিতা করে। আমি পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাই না কেন, এই সৎসঙ্ঘ কোয়ান্টামের সাথে থাকতে চাই। ভারতে মাস্টার্স ডিগ্রি নেয়ার পরে, পিএইচডি সম্পন্ন করতে চাই। পরিবার, সমাজ, সঙ্ঘ, গুরু ও দেশকে ভালবেসে এগিয়ে যেতে চাই।
স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এবং দেশের সর্বস্তরের মানুুষ মর্যাদার সাথে সমানভাবে কাজ করছে। আমি মনে করি, দেশ কতদূর এগিয়ে গেল আর কতটুকু উন্নতি লাভ করল এটা নির্ভর করে প্রান্তিক মানুষেরা কতটুকু নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে সেটার ওপর। কারণ আমি নিজেই প্রান্তিক এলাকা থেকে উঠে এসেছি। এই মানুষগুলো অনেক সরল। তাদের নিয়েও যেন কাজ করতে পারি এই প্রত্যাশা রাখি নিজের প্রতি।
মিল্টন বম
স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ, পাঞ্জাবি ইউনিভার্সিটি, ভারত
শেয়ার

পাঠকের মতামত

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে ‘এডমিশন ফেস্ট, ফল–২০২৬’এর উদ্বোধন

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে রোববার ( ১৬ আগস্ট)সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘এডমিশন ফেস্ট, ফল –২০২৬’। ...

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে ‘এডমিশন ফেস্ট, ফল–২০২৬’-এর উদ্বোধন

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘এডমিশন ফেস্ট, ফল –২০২৬’। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় ...

ইউজিসির অডিটে বেরোবির ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়ম

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বাজেট অ্যাসেসমেন্ট টিমের নিরীক্ষায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) আর্থিক কার্যক্রমে প্রায় ...

যবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো ‘স্টুডেন্ট হ্যান্ডবুক’ এর মোড়ক উন্মোচন

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অধ্যয়নরত ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের আটটি অনুষদের অন্তর্ভূক্ত ৩৮টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ...

বেরোবিতে স্নাতক পাসের আগেই জালিয়াতি করে সোহানের চাকরি, এবার স্থায়ীকরণের উদ্যোগ

স্নাতক পাসের আগেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরিতে যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ...