
স্বাধীনতার ৫৩ বছর পার হতে চলেছে। দেশ শৈশব -কৈশোর , যৌবন পেরিয়ে শত অভিজ্ঞ প্রবীণ হতে চলছে। এতো বছর পরেও হাজারো সমস্যা নিয়ে দুঃখে দুঃখে চলছে শিক্ষা খাত। সরকার আসে যায়, সমস্যা সমাধানে টেকসই উদ্যোগ জাতি কখনো দেখেনি।”শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড” শুধুই কি বক্তব্য আর কিতাবে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়! আর -হার্বাট স্পেনসার বলেছেন “শিক্ষার কাজ হল মানুষকে জীবন ও জীবিকার উপযোগী করে তোলা।”আমার আরো বলি শিক্ষা জাতির উন্নতির কারিগর তৈরি করে। এসব কথার বাস্তবতা প্রতিফলিত হতে এতো বাঁধা কেন? আমরা জানি দেশ ও জাতির টেকসই উন্নয়ন এবং সর্বস্তরে সঠিক নেতৃত্ব দিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষার বিকল্প নেই ।যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি উন্নতির জন্য কর্মীদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দুভাবে দিতে পারে। প্রথমত: তাদের ভালো কাজের মৌখিক স্বীকৃতি । আর দ্বিতীয়ত : হলো আর্থিক সুবিধা।অথচ শিক্ষা বাজেট, অপরিকল্পিত শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে হাজার হাজার কোটি ব্যয় যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। শিক্ষা প্রশাসনে কাঠামোগত অসঙ্গতি শিক্ষার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ হতাশ করে। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের অনিয়ম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের অনিয়ম, প্রতিষ্ঠানের টাকা লুট, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ, অনিয়ম, প্রশ্ন ফাঁস করা, অধস্তনদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করণ যেন স্বাভাবিক কাজ ।শিক্ষা খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে হাজারো সমস্যায় জর্জরিত তবে এখানে মাধ্যমিক স্কুল, মাধ্যমিক স্তরের মাদ্রাসা, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, কওমী ও প্রাইমারি স্কুলের সমস্যা গুলো তুলে ধরা হলো। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিভাগীয় নিয়োগ গুলো অকারণে বন্ধ। অন্যান্য দপ্তর, অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়োগের সাথে পেলেও এখানে অজানা কারণে অগ্রীম ইনক্রিমেন্ট বন্ধ। বহু বছর ধরে এন্ট্রিপদ নবম গ্রেডের জন্য শিক্ষকরা আন্দোলন করলেও ২০১৮ সালে সিনিয়র শিক্ষক পদ সৃষ্ট করে ২০২১ কোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা ছাড়া পদোন্নতি দিলেও ২০১০ ও ২০১১ সালের কয়েক হাজার শিক্ষক সহকারী শিক্ষক পদে রয়ে গেলেন। কোন অজানা রহস্যে তাদের পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর নিয়োগ বিধি ১৯৯১ সংশোধন করে ২০১৯ সালে ৫০% সিনিয়র শিক্ষক থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নিয়োগের বিধান করা হয়। শিক্ষকদের থেকে আবেদন আহ্বান করে আজও নিয়োগ দেয়া হলো না। অথচ সেসিপ প্রকল্পের অনেক একাডেমিক সুপারভাইজার উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে চলতি দায়িত্ব পালন করছে। যা সম্পূর্ণ নিয়োগ বিধি পরিপন্থী ও বেআইনি। স্বতন্ত্র মাধ্যমিক অধিদপ্তর শিক্ষক শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি। শিক্ষকদের ন্যায্য বহু অধিকার থেকে বঞ্চিত বহু বছর ধরে। অধিকার চাইলে নানাভাবে করা হয় হয়রানি। #বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যে বেতন কাঠামো তা আজকের দিনে শিক্ষকদের পরিবার নিয়ে চলা খুবই কষ্ট হয়। একজন সাধারণ দিনমজুর দৈনিক হারে আরো ভালো টাকা উপার্জন করে। তাদের উৎসব ভাতা ২৫%, অথচ উৎসব পরিপূর্ণ হওয়ার কথা। বাড়ি ভাড়া১০০টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০টাকা যা খুবই নগণ্য। প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন
সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। মনে হয় এসব দেখার কেউ নেই। স্বাধীনতা ৫৩ বছরে শিক্ষকদের সাথে মানানসই ম্যানেজিং কমিটি নীতিমালা হয়নি। ২০২৪ এ যেটা হলো সেখানেও সভাপতিকে এইচএসসি বা সমমানের পাশ রাখা হয়েছে। কেন শিক্ষকগণ এইচএসসি পাশ? এই ম্যানেজিং কমিটির লোকেরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিজেদের স্বার্থে শিক্ষকদের ওপর নানা সময় চড়াও হয়েছে এতে বহু লাঞ্ছিত হয়েছে । ম্যানেজিং কমিটি তাদের জন্য আরেক অভিশাপ । এসব প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ম্যানেজিং কমিটির আয়োজনে হয়ে থাকে। যার ফলে প্রার্থী যোগ্য অযোগ্য যাইহোক বড় অংকের টাকা লেনদেন হয়।
#বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আন্দোলন করছেন। ২০২৩ সালে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক পুলিশের হাতে রাস্তা শারীরিক নির্যাতনে শিকার । শিক্ষক কেন এধরনের হেনস্থায় শিকার হবেন? অথচ সরকারিভাবে এ বিষয়টির এখানো সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
#সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা। শুরু থেকে মাদ্রাসা গুলো অবহেলিত, বঞ্চিত। বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তাদের জন্য অমাবস্যার চাঁদ। নতুন শিক্ষাক্রমে মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নষ্ট করা হয়েছে। যুগ যুগ ধরে মাদ্রাসা শিক্ষাকে জঙ্গিবাদের তকমা দিয়ে জনগণের কাছে এই শিক্ষাকে নগন্য করা হয়েছে। মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চাকরি সহ নানা ক্ষেত্রে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। দেশে এখনো মাদ্রাসায় পড়ুয়া আলেম সমাজ কে মৌলবাদি বলে গালি দিলে মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করা হয়। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে সারাদেশে মাত্র তিনটি আলিয়া মাদ্রাসা সরকারি করণ করা হয়েছে। দেশে হাতে গোনা কয়েকটি মাদ্রাসায় বিজ্ঞান বিভাগ চালু আছে। মানসম্মত প্রতিটি মাদ্রাসায় বিজ্ঞান বিভাগ চালু করতে সমস্যা কোথায়? মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষিত দেশের বহু ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে। ইবতেদায়ী মাদ্রাসার বিষয়ে বলতে গেলে কিছুটা লজ্জাজনক; ২০১৮ সালে এক ঘোষণায় ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হলেও ইবতেদায়ী মাদ্রাসা গুলোর শিক্ষকদের নেই কোনো বেতন। দেশে প্রায় ১০ হাজার ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক- শিক্ষার্থী দুর্দশা অবস্থায় চলছে । বিভিন্ন সময় সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবের মুখ দেখলো না। বিপরীতে বিগত স্বৈরাচার সরকার প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা চালু করে। কওমী মাদ্রাসা তো মনে ভিন্ন গ্রহ । সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা তারা কখনো পায়নি। তাদের দাওরায়ে হাদিস কে মাস্টার্সের মান দেয়া হলো যেন গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি দেয়ার সমাধান। এই বিশাল সংখ্যক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা দেয়ার সরকারি ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। দুঃখের বিষয় হলো হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি, আত্মসাৎ ,বিদেশে পাচার হচ্ছে তার কোন সঠিক তদারকি নাই শুধু শিক্ষা বিষয়ে আসলে দেশের সংকট তুলে ধরা স্বভাবে পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সুবিধাভোগীরা সভা সেমিনারে বক্তব্য দেন “শিক্ষকতা মহান পেশা।” কী অদ্ভুত ব্যাপার আপনি সব সুবিধা নিবেন আর শিক্ষকদের বেলায় শুধুই নীতি বাক্য! প্রতিষ্ঠান গুলোতে বিজ্ঞানাগার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ নেই। বিজ্ঞানের যুগে এসে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিখানোর বিষয়টি দিনে দিনে কমেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তারা বিজ্ঞানাগারের উপকরণ বিক্রি করেন। আবার কেউ কেউ বরাদ্দের টাকা নিজের পকেটে ঢুকান। লাইব্রেরীর যথাযথ ব্যবস্থা ও ব্যবহার নেই। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক জ্ঞানের অভাবে পড়ালেখা বাদ দিয়ে মোবাইল গেইম, কিশোর গ্যাং প্রভৃতি কর্মের সাথে জড়িত হয়ে পড়ছেন।
শিক্ষায় বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হলে জাতীয় অগ্রগতি বহু গুণে তরান্বিত হবে । সেই সাথে স্কেল বেসড (দক্ষতা ভিত্তিক) শিক্ষা ও কোয়ালিফাইড ম্যানপাওয়ার ( দক্ষ জনশক্তি) এবং যথাযথ কর্মসংস্থান তৈরি করতে দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। মোরাল এডুকেশন ( নৈতিক শিক্ষা) এর মাধ্যমে দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করতে পারলে স্বল্প সময়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে।
শামিম ওসমান
সহকারী শিক্ষক,
লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
এনজে
- ১মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও ছাড় নয়: ডিআইজি
- ২ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ৩স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম
- ৪পোশাকশিল্পের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- ৫পারিবারিক বিরোধের জেরে তায়েবাকে হত্যার অভিযোগ, ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
- ৬বন্যাকবলিত ৩ হাজার ৫০ পরিবারকে ত্রাণ দিল শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন
- ৭সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা
- ৮‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে বৈদেশিক সম্পর্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ৯মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু
- ১০UCB Price Sensitive Information
- ১এক মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকা বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি
- ২একনেক সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন
- ৩ভরা মৌসুমে চাঁদপুরে মাছঘাটে প্রচুর পাঙ্গাস আমদানি
- ৪এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
- ৫মানিকগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান
- ৬সবার জন্য চালু হচ্ছে ‘ন্যাশনাল হেলথ কার্ড’: আইসিটিমন্ত্রী
- ৭শ্রীপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজ অর্থায়নে স্থানীয়দের ড্রেন নির্মাণ
- ৮আস্থাহীন পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে পারবে কি নতুন কমিশন?
- ৯অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ
- ১০স্থানীয় সরকার কার্যকর হলেই গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী হবে





পাঠকের মতামত