
ফুটবল আর ক্রিকেট পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় দুই খেলা। বিশ্বব্যাপী ফুটবলের জনপ্রিয়তার তুলনায় ক্রিকেটের একটু কম। তবে দেশের ক্রিকেটের সাফল্যের সাথে সাথে বেড়েছে জনপ্রিয়তাও। সবেমাত্র স্কুল পড়ুয়া ছোট্ট শিশু থেকে আশি বছরের বৃদ্ধ কে না চেনে সাকিব, তামিমদের। হিসাব নিকাশে একটু জটিল খেলা ক্রিকেট, তবে নিয়ম না জেনেও অনেকে টিভির পর্দায় চোখ রাখে বাংলাদেশের জয় দেখার জন্য। শহরের পাড়া-মহল্লা থেকে গ্রামের চায়ের দোকান দেশের ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা সবখানে। বাংলাদেশ জিতবে? বাংলাদেশ কীভাবে জিতবে? কেনো জিতবে? তর্কজুরে জয়-পরাজয়ের কথা।
৩৬ বছরে বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি না জিতলেও ক্রিকেট প্রেমিদের বেশ কিছু আনন্দের মুহুর্ত উপহার দিয়েছে দেশের ক্রিকেট। মাশরাফি, সাকিব, তামিম মুশফিকদের মত ক্রিকেটার তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। বিশ্বক্রিকেটে যারা নিজেদের প্রমাণ করেছে বারবার। ৯৯ এ প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমে পুরো বিশ্বকেই তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো আকরাম খান, খালেদ মাসুদ পাইলটরা। ক্রিকেট পরাশক্তি পাকিস্তানকে ৬২ রানে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেয় বাংলাদেশ। ২০০০ সালে দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসাবে আইসিসির সদস্যপদ লাভ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
মাঠের ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল যে দীর্ঘদিন পর্যন্ত আন্ডারডগ হয়ে ছিলো এর প্রধান কারণ একাদশে ইফেকটিভ এবং ইনফ্লুয়েন্সিয়াল ক্রিকেটারের ঘাটতির কারণে। ২০০০ সালে টেস্ট স্বীকৃতি পাওয়ার পর আকরাম খান, নান্নু, পাইলট হয়ে সাকিব, তামিমদের জেনারেশনে ক্রিকিটের ধারাবাহিক উন্নতি ছিলো চোখে পরার মত। আন্ডারডগ তকমাটা আর লাগে না বাংলাদেশের নামের সাথে। সমীহ করে ক্রিকেট বিশ্বের সব পরাশক্তিরা। থাকবেই বা কেনো, মাঠে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া একে একে সবাইকেই যে মাঠে ক্রিকেটিও জবাব দিয়েছে এই দল। দুইবার এশিয়া কাপের ফাইনাল, একবার ২০১২ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটে আরেকবার ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ইতিহাসের একদম কাছ থেকে সেদিন ফিরে বাংলাদেশ। তবে কে জানে ক্রিকেটের এই উদয়নের যুগে ইতিহাসই হয়তো ডাকছে বাংলাদেশকে।
ক্রিকেটের এই দূরন্ত ছুঁটে চলার যুগে ফুটবল যেনো খুঁজছে তার আপন ঠিকানা। হতাশার ব্যাপার হলো, উপমহাদেশের সেই ফুটবল পাগল সমর্থকদের দেশ বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে নেই তেমন কোন সাড়াশব্দ।
যেখানে ৯০ এর দশকে মোহামেডান আর আবহানী নিয়ে চলত চা এর দোকানে তুমুল বাগবিতণ্ডা সেখানে এখন কথা হয় ইউরোপিয়ান ফুটবল নিয়ে! দেশের ফুটবলে কারও যেনো চোঁখই পড়ছে না। দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে মাঠ থেকে। প্রিমিয়ার লীগের ফুটবল ম্যাচে গ্যালারিতে টিম ম্যানেজমেন্ট ছাড়া দেখা যায় না কাউকে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরের বছর, ১৯৭২ সালে গঠন হয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দুই বছর পর ১৯৭৪ সালে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সদস্য হয় বাংলাদেশ এবং ফিফার সদস্য পদ পায় আরো দুই বছর পর ১৯৭৬ সালে। ১৯৯৭ সালে আঞ্চলিক সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) গঠিত হওয়ার শুরু থেকেই বাংলাদেশ সদস্য।
৯০ দশকে খেলার মাঠে পারফর্ম যাই হোক দর্শকদের টান আর ফুটবলের উন্মাদনা ছিলো চোঁখে পরার মত। ঘোরোয়া ফুটবলে উন্মদনা ছিলো আজকের ইউরোপিয়ান ফুটবলের মত। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সালোনার ফুটবল নিয়ে এখন যে বিতর্ক ফুটবল কমিউনিটিতে এক সময় তা হতো মোহামেডান আর আবাহনীর নিয়ে। সময়ের সাথে সাথে মাঠের ফুটবল শৈলি আর দর্শক-উন্মাদনা আর দেখা যায় না।
এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতীয় দলের সাফল্যের ঘাটতি। র্যাংকিং-এ অবনতি। খেলোয়াড়দের মান, খেলার মান নিয়ে সবার মনেই রয়েছে প্রশ্ন। তাছাড়া ঘরোয়া লিগগুলোতে প্রায়শই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের গুঞ্জন দর্শকদের নিরুৎসাহিত করছে বহুগুণে। এছাড়া মাঠগুলোর অব্যবস্থাপনা, গ্যালারির বেহাল দশা দর্শক মাঠে টানতে ব্যর্থ।
দর্শক মাঠে ফেরাতে প্রয়োজন খেলার মান বাড়ানো, খেলোয়াড়দের মান বাড়ানো। বিদেশি ভাল মানের খেলোয়াড়দের দেশের ঘরোয়া লিগে অংশগ্রহণ খেলোয়াড়দের মান বাড়াতে সহয়তা করবে। শুধুমাত্র আক্রমণ ভাগেই নয়, বিভিন্ন পজিশনের খেলোয়াড়দের দলে অন্তর্ভুক্ত করা, বিদেশিদের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশিয় খেলোয়াড়দের খেলতে পারার সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারলেই কেবল খেলার মানে উন্নতি করা সম্ভব। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের আইএসএল এর মতো ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক টুর্নামেন্ট হতে পারে উদাহরণ।
দেশের ফুটবলে নেই মিডিয়া কাভারেজ। একটি মাত্র টিভি চ্যানেল সরাসরি খেলা সম্প্রচার করলেও বাকি টিভি চ্যানেলগুলোতে নেই তেমন কোন খবরাখবর। দায়সারা ভাবে ফুটবলের খবর সম্প্রচার করতে হয় বলেই হয়ত দু’এক মিনিটের মধ্যে দিনের খেলার ফলাফল জানিয়েই ইতি টেনে চলে যান সংবাদপাঠক। পত্রিকাগুলোর খেলার পাতায় হয়ত যায়গা হয় বড় কোন খবর হলে। সোশ্যাল মিডিয়াতে নেই তেমন আলাপ-আলোচনা। ঢাকার মাঠ অনেক দিন ধরেই দর্শকশূন্য। এই পরিস্থিতি থেকে ফুটবলের উন্নতির জন্য প্রয়োজন আগে দেশের মাঠগুলোকে আন্তর্জাতিক মাঠগুলোর আদলে গড়ে তোলা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবহেলায় পরে থাকা মাঠগুলো বাফুফের আওতাধীন করে মাঠগুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গ্যালারি থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের থাকার সু-ব্যবস্থা করা। একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার তৈরি করা এবং দক্ষতার সাথে সবগুলো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা। খেলার মাঠগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় দলের প্রতি মনোযোগী হওয়া। নতুন নতুন টেকনলোজির সহায়তা নিয়ে খেলোয়াড়দের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বেশি বেশি বিদেশি দলের সাথে দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করা। এতে করে খেলোয়াড়দের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়বে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য, আকৃষ্ট হবে দর্শক।
ফুটবলের প্রাণ কি ফিরবে? আবারো কি দেখা যাবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গ্যালারি ভরা দর্শক। দেশের কোটি ফুটবল প্রেমীদের মনে এই রকম হাজারো প্রশ্ন।
- ১বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসায় আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার
- ২রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে স্বল্পমেয়াদি অধিবেশন ডাকা হবে: চিফ হুইপ
- ৩বিটিভির মহাপরিচালক হলেন কাজী জেসিন
- ৪২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন
- ৫ভারত সফরের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নেবেন : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ৬এসএসসির ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট
- ৭আলোচিত রাফিজ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার
- ৮তনু হত্যা: সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
- ৯সাংবাদিক জোবাইয়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন
- ১০জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬০.৯৭ শতাংশ
- ১দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী আনিসুর রহমান
- ২কয়রায় পুলিশ সুপারের সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময়
- ৩মনু সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা সমাধানের দাবিতে কৃষকদের স্মারকলিপি
- ৪বিতর্কিত সনদে রূপালী লাইফের মুখ্য নির্বাহী গোলাম কিবরিয়া
- ৫অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালু জব্দ, জড়িতরা ধরাছোঁয়ার বাইরে
- ৬প্রশাসনে বদলি-পদায়নে এআই ব্যবহারের নির্দেশ
- ৭আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নৌপথে ট্র্যাকিং সিস্টেম থাকা দরকার: নোয়াখালী জেলা প্রশাসক
- ৮চাঁদপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি রুহুল আমিনের মৃত্যু
- ৯ভরিতে ৯৮৫৬ টাকা বাড়লো সোনার দাম
- ১০কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের অর্ধ-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত





পাঠকের মতামত