প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৪ ৬:০৬ পিএম

রামকৃষ্ণদেব বলে গেছেন, ‘টাকা মাটি, মাটি টাকা’। এবার তার সেই বাণীকে বিকৃত করার অভিযোগ উঠলো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এবং নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে রিপাবলিক বাংলার ক্লিপ পোস্ট করেছেন তিনি। তাতে মমতাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কাছ থেকে আমরা শিখেছিলাম, যত মাটি, তত টাকা।’

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মমতাকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। পোস্টে বিরোধী দলনেতা লেখেন, ‘টাকা মাটি, মাটি টাকা – শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের এই চির প্রাসঙ্গিক বাণীকেও বিকৃত করতে ছাড়ছেন না মাননীয়া! বলছেন কিনা – যত মাটি, তত টাকা! অবশ্য বালি, চোর, অবৈধ নির্মাণের মদতকারী, জমি হাঙরদের থেকে এর চেয়ে বেশি কি আর আশা করা যায়। বাংলার মূর্খমন্ত্রী থুড়ি মুখ্যমন্ত্রী।’

এর আগে নির্বাচনের সময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে কথা বলার অভিযোগ করে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের কার্তিক মহারাজকে বিঁধেছিলেন মমতা। সেই সঙ্গে রামকৃষ্ণ মিশনকেও ‘কাঠগড়ায়’ তুলেছিলেন। পরে অবশ্য সুর নরম করেন মমতা। তবে ১৮ মে তার ভাষণ ঘিরে সমালোচনার ঢেউ ওঠে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব সাধু এক হন না। সব স্বজন সমান হয় না। আমাদের মধ্যেও কি আমরা সবা‌ই সমান? এই যে বহরমপুরের একজন মহারাজ আছেন। আমি শুনেছি অনেক দিন ধরে… কার্তিক মহারাজ। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘকে আমি খুব শ্রদ্ধা করতাম। আমার শ্রদ্ধার তালিকায় তারা দীর্ঘদিন ধরেই আছেন। কিন্তু যে লোকটা বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্ট বসতে দেব না। সেই লোকটাকে আমি সাধু বলে মনে করি না। কারণ, তিনি সরাসরি রাজনীতি করে দেশটার সর্বনাশ করছেন।’

মমতা আরও বলেন, ‘কে কে এসব করছেন, আমি তাদের চিহ্নিত করছি। আমি রামকৃষ্ণ মিশকে কোন সাহায্যটা করিনি। সিপিএম যখন খাবার বন্ধ করে দিয়েছিল, তখন সমর্থন করেছিলাম আপনাদের। সিপিএম তখন আপনাদের কাজ করতে দেয়নি। আসানসোলে রামকৃষ্ণ মিশন আছে। সেখানে দিল্লি থেকে নির্দেশ আসে। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য বলা হয়।

তার প্রশ্ন, কেন সাধুরা এই কাজ করবেন? রামকৃষ্ণ মিশনকে সবাই সম্মান করে। ওদের যারা সদস্য হয়, দীক্ষা নেয়, তারা আছেন। তাদের আমি ভালোবাসতে পারি। আমি দীক্ষা নিতে পারি। কিন্তু রামকৃষ্ণ মিশন ভোট দেয় না কোনও দিনও। এটা আমি জানি। তাহলে অন্যকে কেন ভোট দিতে বলব? মনে রাখবেন, স্বামী বিবেকানন্দের বাড়িটাই থাকত না, আপনাদের এই মেয়েটা যদি না থাকত।’

মমতার এই ভাষণ নিয়ে বেশ বিতর্ক হয় বাংলায়। সম্প্রতি কলকাতার রাস্তায় নেমে সাধুরা প্রতিবাদ মিছিলও করেন।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

উত্তাল দিল্লি, ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ...

সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ইরানের ...