প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২২ ৭:৩১ পিএম

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় অঞ্চল। তবে করোনা মহামারীর প্রভাব শিথিল হওয়ার পর ইউরোপের পাশাপাশি অন্যান্য অপ্রচলিত বাজারেও রপ্তানি বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ায় জাপানের বাজারে রপ্তানি লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) জাপানে ৬০ কোটি ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময় যা ছিল প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সে হিসেবে রপ্তানি ৩৮ দশমিক ১১ শতাংশ বা প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পোশাক খাত নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইপিবি বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ২৪৭ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৩১৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে মালয়েশিয়ায় রপ্তানি ১০০ দশমিক ২১ শতাংশ, মেক্সিকোয় ৪৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ, ভারত ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, ব্রাজিলে ৪৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৩০ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়ায় ৫০ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।

পোশাক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন-প্লাস-ওয়ান নীতির কারণে জাপান চীনের বাইরে থেকে পোশাক আমদানির দিকে ঝুঁকছে। ফলে নিয়মেও এনেছে কিছু শিথিলতা। অন্যদিকে জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে জাপানি ক্রেতারা মানের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। তারা প্রতিটি পণ্য পরীক্ষা করে। রপ্তানিকারকদের কাজের মান এবং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহের সক্ষমতা যাচাই করে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বৃহৎ দেশগুলোয় আমাদের রপ্তানি ভালোভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় বাজার জার্মানিতে গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার প্রবৃদ্ধি হয়েছে। স্পেন ও ফ্রান্সেও বেড়েছে অনেক। ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনেও অনেক বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিটি বড় বাজারেই আমাদের রপ্তানি অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও আমাদের রপ্তানি অনেক বেড়েছে। তার মধ্যে মালয়েশিয়ায় ১০০ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে অপ্রচলিত বাজারগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়ায় এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সেখানে লিড টাইম থেকে শুরু করে সব জায়গায়ই সুবিধা পাচ্ছি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমাদের ক্রেতা দেশগুলোও অর্থনৈতিকভাবে বিপদগ্রস্ত ছিল। সে জায়গা থেকে আমাদের প্রতিযোগী অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে আছি। আশা করছি গোটা বিশ্বে অর্থনীতি যখন ভালোর দিকে যাবে তখন আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা আরো বেশি সুবিধা পাব। তখন আমরা দুই গুণের বেশি গ্রোথ (প্রবৃদ্ধি) করতে পারব বলে আমি মনে করি।

ইপিবি পরিসংখ্যান অনুসারে, জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৬ দশমিক ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৮১ কোটি ডলার থেকে ৯০৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে সবচেয়ে বড় বাজার জার্মানিতে রপ্তানি ২৭১ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। স্পেন ও ফ্রান্সে রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ১৯ দশমিক ১৫ এবং ৩৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের মধ্যে ইতালিতে ৫০ দশমিক ৯৫ শতাংশ, অস্ট্রিয়ায় ৪৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ৩৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং সুইডেনে ২২ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে। তবে পোল্যান্ডে ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছে।

জুলাই-নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেশি। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও কানাডায় রপ্তানি যথাক্রমে ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ ও ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন

কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে ...

নবম পে–স্কেল মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ, বাস্তবায়ন দুই ধাপে

প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা ...

এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় সাসপেন্ড ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম ও ...

আমির খসরুর নেতৃত্বে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

দেশে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশ ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ ...

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ...