
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০জেলায় ৫৬ হাজার ৭৪৮ কৃষকের ৪১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার কৃষিঋণ মওকুফ। দশকের পর দশক কয়েক হাজার টাকার ঋণের দায় মাথায় নিয়ে জীবনযাপন করা হাজারো কৃষক পরিবারের জন্য এ উদ্যোগ নতুন আশার বার্তা হয়ে এসেছে। তাদের প্রত্যাশা, ঋণমুক্তির পাশাপাশি সহজ শর্তে নতুন কৃষিঋণ, ভর্তুকি ও উৎপাদন সহায়তা অব্যাহত থাকলে কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।
খুলনার রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ মিনার ছেলে মো. ছলেমান মিনা ১৯৯২ সালে কৃষি ব্যাংক থেকে মাত্র ৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সময়ের ব্যবধানে সুদ-আসলে সেই ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার টাকায়। ব্যাংকের চাপে ৫ হাজার টাকা পরিশোধের পরও তার নামে বকেয়া ছিল ৫ হাজার ৩৮ টাকা। একই এলাকার সামছুর রহমান ১৯৯০ সালে ৭ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বর্তমানে ১২ হাজার ১৭১ টাকা এবং তালিমপুর গ্রামের মোমিন উদ্দীন ১৯৮৯ সালে ৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বর্তমানে ১১ হাজার ৭৭৪ টাকা দেনার দায়ে ছিলেন। প্রায় তিন যুগ ধরে ঋণের বোঝা বয়ে বেড়ানো এসব কৃষক অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন সেই দায় থেকে।
শুধু ছলেমান, সামছুর রহমান বা মোমিন উদ্দীন নন; কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা পাচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার মোট ৫৬ হাজার ৭৪৮ জন কৃষক। কৃষি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব কৃষকের মোট ৪১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকার ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া ঋণ থেকে মুক্তির খবরে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
কৃষি ব্যাংক সূত্র জানায়, নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত যেসব কৃষকের কৃষিঋণের স্থিতি ১০ হাজার টাকার মধ্যে ছিল, তারাই এ সুবিধার আওতায় এসেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় কৃষি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের খুলনা জোনাল অফিসের আওতাধীন বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল জেলায় ৩০ হাজার ২৪৮ জন কৃষকের ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
অন্যদিকে কুষ্টিয়া জোনের আওতাভুক্ত কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ২৬ হাজার ৫০০ জন কৃষকের ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকার ঋণ মওকুফের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ব্যাংকের কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক উৎপল কবিরাজ।
তিনি বলেন, “১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহণকারী কৃষকদের তালিকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তাদের ঋণমুক্ত ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করা হবে।”
খুলনা জেলা কৃষি ব্যাংক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা মিলিয়ে ৬ হাজার ৭৬৭ জন কৃষকের ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৫ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী ডুমুরিয়া উপজেলার ২ হাজার ৭১১ জন কৃষক। এ উপজেলায় মওকুফকৃত ঋণের পরিমাণ এক কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৫ টাকা। এছাড়া কয়রায় এক হাজার ৪৪৮ জন কৃষকের এক কোটি ৫ লাখ ৪৮ হাজার ১১০ টাকা, ফুলতলায় ৬৭৩ জনের ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৩ টাকা, রূপসায় ৬২১ জনের ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং পাইকগাছায় ২৯৫ জনের ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৬ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
তবে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১০ হাজার টাকার বেশি ঋণধারীরা এ সুবিধার আওতায় আসছেন না। অন্যদিকে নির্বাচনের পর খুলনা জোনের আওতাধীন পাঁচ জেলায় নতুন করে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার কৃষক ঋণ নিয়েছেন, যার মোট পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঋণ মওকুফের বিষয়টি ইতোমধ্যে সুবিধাভোগীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় যেসব কৃষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছিল, সেসব মামলাও প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের দীর্ঘদিনের অচল ঋণ মওকুফ তাদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে একই সঙ্গে কৃষিঋণ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি, সঠিক তদারকি এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আবারও খেলাপি ঋণের চাপ তৈরি হতে পারে।
খুলনার রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ মিনার ছেলে মো. ছলেমান মিনা ১৯৯২ সালে কৃষি ব্যাংক থেকে মাত্র ৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনে সুদ-আসলে সেই ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার টাকায়। ব্যাংকের চাপের মুখে ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও তার নামে বকেয়া ছিল ৫ হাজার ৩৮ টাকা। একই এলাকার সামছুর রহমান ১৯৯০ সালে নেওয়া ৭ হাজার টাকার ঋণের বিপরীতে বর্তমানে ১২ হাজার ১৭১ টাকা এবং তালিমপুর গ্রামের মোমিন উদ্দীনের ১৯৮৯ সালে নেওয়া ৬ হাজার টাকার ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১১ হাজার ৭৭৪ টাকায়। প্রায় তিন যুগ ধরে বইতে থাকা এই ঋণের বোঝা থেকে অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন তারা।
শুধু এই তিন কৃষকই নন, কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা পাচ্ছেন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মোট ৫৬ হাজার ৭৪৮ জন কৃষক। কৃষি ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এসব কৃষকের মোট ৪১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকার ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া ঋণের দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার খবরে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
কৃষি ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত যেসব কৃষকের কৃষিঋণের স্থিতি ১০ হাজার টাকার মধ্যে ছিল, তারাই এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ ঋণ মওকুফ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
খুলনা বিভাগীয় কৃষি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের খুলনা জোনাল অফিসের আওতাধীন খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল জেলায় ৩০ হাজার ২৪৮ জন কৃষকের ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
অন্যদিকে কৃষি ব্যাংকের কুষ্টিয়া জোনের আওতাভুক্ত কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ২৬ হাজার ৫০০ জন কৃষকের ২০ কোটি ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ২৫৬ টাকার ঋণ মওকুফের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক উৎপল কবিরাজ।
তিনি বলেন, “১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহণকারী কৃষকদের তালিকা ইতোমধ্যে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে তাদের ঋণমুক্ত ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করা হবে।”
খুলনা জেলা কৃষি ব্যাংক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা মিলিয়ে ৬ হাজার ৭৬৭ জন কৃষকের ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৫ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী ডুমুরিয়া উপজেলার ২ হাজার ৭১১ জন কৃষক। এ উপজেলায় মওকুফকৃত ঋণের পরিমাণ এক কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৫ টাকা। এছাড়া কয়রায় এক হাজার ৪৪৮ জন কৃষকের এক কোটি ৫ লাখ ৪৮ হাজার ১১০ টাকা, ফুলতলায় ৬৭৩ জনের ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৩ টাকা, রূপসায় ৬২১ জনের ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং পাইকগাছায় ২৯৫ জনের ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৬ টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
তবে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১০ হাজার টাকার বেশি ঋণধারীরা এই সুবিধার আওতায় আসছেন না। একই সঙ্গে নির্বাচনের পর খুলনা জোনের পাঁচ জেলায় নতুন করে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার কৃষক ঋণ নিয়েছেন, যার মোট পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঋণ মওকুফের বিষয়টি ইতোমধ্যে সুবিধাভোগীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধ না করায় যেসব কৃষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছিল, সেসব মামলাও প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্ষুদ্র কৃষকদের পুরোনো ও অচল ঋণ মওকুফ তাদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে একই সঙ্গে নতুন ঋণ বিতরণ, আদায় ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি খাতে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আবারও খেলাপি ঋণের বোঝা বাড়তে পারে।
দীর্ঘদিনের ঋণের দায়মুক্তির এই উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ফিরেছে সেইসব কৃষক পরিবারের মধ্যে, যারা কয়েক হাজার টাকার ঋণের বোঝা বয়ে দশকের পর দশক পার করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, ঋণমুক্তির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহজ শর্তে নতুন ঋণ ও সরকারি সহায়তাও অব্যাহত থাকবে।
টিআর
- ১মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
- ২পল্টনে আল ওয়াহদাহ ফাউন্ডেশনের ফ্রি কুরআন বিতরণ
- ৩খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পারে : আইজিপি
- ৪চকরিয়ায় বন্যার্ত ৫০ পরিবারকে ধরা’র ত্রাণ বিতরণ
- ৫সৌদিতে ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের হামলা, তেল পরিশোধনাগার থেকে বের হচ্ছে ধোঁয়া
- ৬ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জড়িত
- ৭রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রজ্ঞাপন জারি
- ৮ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন প্রত্যাহার
- ৯রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমান
- ১০কোনো ধানাই-পানাই মানবো না, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতেই হবে
- ১চা শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি ও মানববন্ধন
- ২কয়রায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’র সদস্য মনোনয়নে বিতর্ক
- ৩সংবিধান রক্ষা করেছি, নতুন সরকার দেশ চালাচ্ছে, এসব আমারই কৃতিত্ব
- ৪শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় মদসহ ২ চোরাকারবারি আটক
- ৫বীরগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার
- ৬কুলাউড়ায় তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু
- ৭হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
- ৮২০২৭ সালে ৩১ কোটি মানসম্পন্ন বই বিতরণ করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী
- ৯সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে দেশের নতুন চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী
- ১০হাইটেক পার্ক আধুনিকায়ন, বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী





পাঠকের মতামত