প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২২ ১:০৩ পিএম , আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২২ ১:০৩ পিএম

ভোজ্য তেলের পর এবার চালের বাজারে চলছে তেলেসমাতি। সরকারের নানা উদ্যোগের পরও  চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রায় দুই মাস ধরে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, আমদানির অনুমতি, শুল্ক হ্রাসসহ সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি চালের বাজার। উল্টো গত তিন-চার দিনের ব্যবধানে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের কেজিতে দাম দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া নতুন করে মুরগি, আলু, মসুর ডালের দাম বেড়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলবে সবজি ও মাছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, তেজকুনিপাড়াসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি মিনিকেট চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬৬ থেকে ৭২ টাকা। তিন-চার দিন আগে এর দাম ছিল ৬৬ থেকে ৭০ টাকা। কেজিতে দুই থেকে চার টাকা বেড়ে নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৮৪ টাকায়। এ ছাড়া বিআর-২৮ জাতীয় চালের কেজিতে দুই টাকা বেড়ে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মোটা চালের ক্ষেত্রে দাম অপরিবর্তিত দেখা গেছে। এ মানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে।

চালের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, পাইকারি পর্যায়ে এখনও দাম কমেনি। আমদানি করা চালও বাজারে আসেনি। এ কারণে দাম কমছে না।
এ বছর ভরা মৌসুমেও চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। দাম স্থিতিশীল রাখতে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর চালের বাজারে মাসব্যাপী যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। এর পর চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৬২ শতাংশ থেকে আমদানি শুল্ক কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৩০ জুন থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফায় ৩৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টনের বেশি চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের আমদানিতে আগ্রহ কম। এ পর্যন্ত মাত্র পাঁচ হাজার টনের মতো চাল আমদানি হয়েছে।

খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেন বলেন, কোন বন্দর দিয়ে কত টন চাল আমদানি হয়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমদানির পুরো তথ্য পাওয়া সময়সাপেক্ষ।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি চালের মজুত রয়েছে এক লাখ ৫৭ হাজার টন। এ ছাড়া ধান রয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার টন।

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে কয়েক দফায় বেড়েছে আটা-ময়দার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমতির দিকে থাকলেও দেশের বাজারে এর তেমন প্রভাব দেখা যায়নি। খোলা আটার কেজি ৪৫ থেকে ৪৮ এবং প্যাকেট আটার কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং প্যাকেট ময়দার কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মসুর ডালের দাম মাঝে কয়েক দিন কমে আবার কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। আমদানি করা মসুর ডাল ১১০ থেকে ১২০ এবং দেশি মসুর ডাল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে বেশি দামে বিক্রি হওয়া ভোজ্যতেলের দাম কমতে শুরু করেছে। নতুন দামের সয়াবিন তেলের সরবরাহ বেড়েছে বাজারে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডিমের দাম বাড়তি। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোরবানির কারণে কয়েক দিন ব্রয়লার মুরগির দাম কম থাকলেও বর্তমানে কেজিতে আবার ১০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।

এদিকে কাঁচামরিচের ঝাল এখনও কমেনি। খুচরায় প্রতি কেজি মরিচের দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। গাজরের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। তিন টাকা বেড়ে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা। এখনও কমেনি শসার দাম। কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। অন্যান্য সবজিতে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় অন্যান্য মাছের দাম কিছুটা কমতির দিকে।

 

বিপি/ আইএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় সাসপেন্ড ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম ও ...

আমির খসরুর নেতৃত্বে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

দেশে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশ ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ ...

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ...

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও ...

বিশ্বব্যাংক এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তিন গুণ বেশি

জেনারেটিভ এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ...