বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৭:৩৭ পিএম , আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ৭:৩৮ পিএম

কৃষির আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণদের, বিশেষ করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।

তিনি বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ও অগ্রাধিকার খাত। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রচলিত কৃষিপদ্ধতির পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে তরুণ প্রজন্ম।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও শিল্প-একাডেমিয়া পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মামুন বলেন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বাড়াতে আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, ড্রোন ও রিমোট সেন্সিংয়ের মতো প্রযুক্তি কৃষির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, কৃষিকে শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতে দেখলে হবে না। এগ্রো-টেকনোলজির মাধ্যমে কৃষির পুরো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তরুণদের কৃষির সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত করা গেলে কৃষিতে নতুন বিপ্লব সম্ভব উল্লেখ করে ইউজিসির এ সদস্য বলেন, পাঠ্যক্রম, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে পরিচিত করতে হবে।

কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন বলেন, সম্ভাবনার তুলনায় এ খাতের প্রবৃদ্ধি এখনো আশানুরূপ নয়। প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো গেলে উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের রপ্তানিও বাড়ানো সম্ভব।

তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল খাতে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব অর্থায়নের একটি অংশ কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে কাজে লাগানো গেলে তরুণদের কৃষিতে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল করিম, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদ এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহমেদ কামাল।

অনুষ্ঠানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এসিআই মোটরস, আমান ফিড, বায়ার ক্রপ সায়েন্স ও লাল তীরসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

বিএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় জরুরি বৈঠকে সাংবাদিকদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গত ৪ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’-এর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিবির ও ...

পেশাগত দক্ষতা ও গবেষণা উন্নয়নে যবিপ্রবির সঙ্গে তিন প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, এআই এর সঠিক ব্যবহার ও গবেষণা ভিত্তিক বাস্তব ...

প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে ইবিতে দোয়া মাহফিল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ...

যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে রেল কর্তৃপক্ষকে প্রশাসনের চিঠি

প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের রেলযাত্রার দুর্ভোগ লাঘবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্নিকটস্থ মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে দূরপাল্লার আন্তঃনগরসহ ...

ইউজিসির নিয়ম অমান্য করেই চলছে বেরোবিতে নিয়োগ-পদোন্নতি

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা ও অনুমোদন উপেক্ষা করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিক্ষক ...