জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ৩:৪৫ পিএম

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেছেন, ইলিশসহ দেশীয় প্রজাতির মাছ উৎপাদনের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা নিষিদ্ধ জাল ও মাছ ধরার নতুন নতুন কৌশল। বিশেষ করে চায়না দুয়ারী জালসহ নিষিদ্ধ সব ধরনের জাল ব্যবহার বন্ধ করা গেলে দুই বছরের মধ্যে দেশে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে যেকোনো বড় ধরনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমেছিল। আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিতাড়িত করা হয়েছে। নদীকেন্দ্রিক জেলা চাঁদপুরে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ আহরণ ও সংরক্ষণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে মৎস্য বিভাগের সব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করলেও এসব কর্মসূচিতে সবার সম্পৃক্ততা থাকে না। শুধু প্রশাসনের পক্ষে এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ কাজে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএমএন জামিউল হিকমা, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সিফাত খালিদ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তায়েফা আহমেদ এবং চাঁদপুর মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বি এম মোস্তফা কামাল।

বক্তারা বলেন, ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমানে এক কেজি ইলিশের দাম ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়ায় তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে উচ্চবিত্তের কাছেও ইলিশের দাম নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

তারা আরও বলেন, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জালসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে নদীতে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে।

আলোচনা সভা শেষে জেলায় কার্প জাতীয় মাছের পোনা উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখায় মো. ইমাম হোসেন, মনোসেক্স তেলাপিয়া উৎপাদনে মো. শরীফ হোসেন এবং কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখায় সংশ্লিষ্টদের সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে সদর উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করেন অতিথিরা।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বিভাগের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।

টিআর

শেয়ার

পাঠকের মতামত

কয়রা প্রেসক্লাব সংবাদিকদের সাথে নবাগত অফিসার ইনচার্জের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত

খুলনার কয়রা উপজেলার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রাশেদুল আলমের কয়রা প্রেসক্লাব সদস্যদের সাথে মতবিনিময় ...