নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬ ১০:১৪ এএম , আপডেট: মে ১৮, ২০২৬ ৯:১৫ পিএম
  • মার্চে (নেতিবাচক) ২১৩৫ কোটি টাকা
  • ফেব্রুয়ারিতে (নেতিবাচক) ১১৬৪ কোটি টাকা
  • জুলাই-মার্চ (নেতিবাচক) ২৬৮৯ কোটি টাকা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম কয়েক মাস ইতিবাচক ধারায় ছিল জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি। কিন্তু অর্থ বছরের সপ্তম ও অষ্টম মাস ফেব্রুয়ারি ও মার্চে আবার নেতিবাচক ধারায় চলে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নবম মাস মার্চে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ২ হাজার ১৩৫ কোটি ৮ লাখ টাকা ঋণাত্মক ধারায় রয়েছে। অর্থাৎ মার্চে সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে আগের আসল-সুদ বাবদ বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে ২ হাজার ১৩৫ কোটি ৮ লাখ টাকা।

আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়েও সঞ্চয়পত্র বিক্রি ছিল ইতিবাচক। ওই সময়ে আগের আসল-সুদ বাবদ বেশি পরিশোধের বিক্রি বেশি হয়েছিল ৮০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা টাকা।

তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের অষ্টম মাস ফেব্রুয়ারিতেও বিক্রির চেয়ে আগের আসল-সুদ বাবদ বেশি পরিশোধ করতে হয়েছিল ১ হাজার ১৬৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

এর আগের মাস অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের সপ্তম মাস জানুয়ারিতে আগের আসল-সুদ বাবদ পরিশোধ করার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

এদিকে একক মাস হিসেবে মার্চে সঞ্চয়পত্র বিক্রির ধারা নেতিবাচকের মতো অর্থবছরের নয় মাসেও সঞ্চয়পত্র বিক্রির ধারা নেতিবাচক রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) সঞ্চয়পত্র বিক্রি নেতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। এই ৯ মাসে বিক্রির চেয়ে আগের আসল-সুদ বাবদ বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে ২ হাজার ৬৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়েও সঞ্চয়পত্র বিক্রি ছিল নেতিবাচক। ওই সময়ে বিক্রির চেয়ে আগের আসল-সুদ বাবদ বেশি পরিশোধ করতে হয়েছিল ৮ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১২ মাসে (জুলাই-জুন) সঞ্চয়পত্র নিট বিক্রিও নেতিবাচক ধারায় ছিল। ওই সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে আগের আসল-সুদ বাবদ বেশি পরিশোধ করতে হয়েছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা।

এছাড়া, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১২ মাসে আগের আসল ও সুদ বাবদ ২১ হাজার ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বিক্রির চেয়ে আগের সুদ-আসল বাবদ বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, টানা কয়েক মাস সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি নেতিবাচক থাকা দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের মতে, ব্যাংক ও সরকারি ট্রেজারি বন্ডে তুলনামূলকভাবে বেশি রিটার্ন এবং কম ঝুঁকির বিকল্প তৈরি হওয়ায় সঞ্চয়পত্রের প্রতি ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, সঞ্চয়পত্রে সুদহার দীর্ঘদিন ধরে বাজারভিত্তিক হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকায় বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক আমানত বা অন্যান্য আর্থিক উপকরণের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা এবং বিনিয়োগ সীমা আরোপের কারণে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের অংশগ্রহণও কমেছে।

অন্যদিকে, সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রবণতা সরকারের জন্য মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। একদিকে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ প্রবাহ কমে গেলে বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাতে চাপ বাড়তে পারে, অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রের ওপর অতিনির্ভরতা কমে গেলে মধ্যম মেয়াদে সুদ ব্যয়ের ঝুঁকি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

তারা আরও মনে করেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের সঞ্চয় সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করছে, যার কারণে নতুন বিনিয়োগের বদলে অনেকেই আগের সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়ে খরচ মেটাচ্ছেন।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকের পর আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও ‘এক্সিট’ সুবিধা

ব্যাংকের পর এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও (ফাইন্যান্স কোম্পানি) খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ...