প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২২ ৪:০৮ পিএম

কুড়িগ্রামের উলিপুরে টানা দুদিনের বর্ষণে ধান কাটা মাড়াই নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। ফলে ধান কাটতে তাদের বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।চলতি বছরে বীজ, হালচাষ, সার, কীটনাশক ও ধান কাটা মাড়াইয়ের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় ধানের উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।ধানের ফলন ভালো হলেও কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নায্যমূল্য না পেলে লাভবান হতে পারবেন না বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় চলতি অর্থ বছরে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বোরো আবাদের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ২২ হাজার ১৭৬ হেক্টর জমি। অর্জিত হয়েছে ২২ হাজার ৩৫০ হেক্টর যার সম্ভাব্য উৎপাদন ৩.৫৪ মেট্রিক টন চাউল।তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বোরো চাষ হয়েছে। বেশির ভাগ জমির ধান ২-১ সপ্তাহের মধ্যে কাটামাড়াই সম্ভব হবে। এর মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আগাম জাতের জিরাসাইল ও ব্রি-৮১ ধানের চাষ অধিক পরিমাণ জমিতে করা হয়েছে।

তবে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আবার পানিতে লেপ্টে যাওয়া পাকা বোরো ধান অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে কাটিয়ে নিচ্ছেন।বীজ, হালচাষ, সার, কীটনাশক ও ধান কাটা মাড়াইয়ের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় ধানের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে ধানের নায্যমূল্য না পেলে লাভবান হতে পারবেন না বলে শঙ্কা তাদের।

এদিকে দুদিনের টানা বর্ষণে ধানকাট শ্রমিকের মজুরি আরো বেড়েছে।গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড় বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।হঠাৎ এ ক্ষতিতে কপালে চিন্তার ভাঁজ অনেকের।

বজরা ইউনিয়নের মিয়াজি পাড়া গ্রামের কামরুজ্জামান সরকার বলেন, আমরা বিঘা বিঘা (৬০ শতাংশ) জমিতে উন্নত জাতের মোটা ধান লাগিয়েছি। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। আমরা বিঘাতে (৬০ শতক) এ ৪৫ থেকে ৫০ মন ধান পেয়েছি। আমারা বিঘাতে খরচ করেছি প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বিঘাতে মোটা ধানের মণ প্রতি ৭০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করে টাকা পেয়েছি প্রায় ২৯ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। সীমিত লাভের টাকায় আমরা কিভাবে চলব। আমরা অনেক চিন্তিত আছি।

গুনাইগাছের বিপুল চন্দ্র অধিকারী বলেন, এ বছর বোরো ধান চাষ করতে চারা রোপন খরচ, ট্রাক্টর হাল চাষ খরচ, সার-কীটনাশক খরচ সব বেশি হয়েছে। এখন ধান কাটার মৌসুম। এই সময়েও প্রতিটি শ্রমিকের মজুরি ৪০০/৫০০ টাকা। বৃষ্টি থাকায় খুব সহজে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিক ছয়জন শ্রমিকে ১ বিঘার জমির ধান কাটতে পারলে পানি থাকায় ডাবল শ্রমিক লাগছে। ফলে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে।

উলিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, কৃষকদের আবাদকৃত ধানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, জিরাশাইল, ব্রি-২৮, ২৯, ৫৮, ৭৪, ৮১, ৮৮, ৮৯ সহ বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড ধান। উপজেলায় এবার ২২ হাজার ১শ’ ৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ২২ হাজার ৩০০শ ৭৫ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২শ’ হেক্টর বেশি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, এবারে উপজেলার প্রতিটি মাঠে বোরো ধানের ফলন ভাল হয়েছে। কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পেলে তারা লাভবান হবে।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ইউএন উইমেনের সহযোগিতা চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন উইমেনের সহযোগিতা ...

বন্যাদুর্গতদের খোঁজ নিতে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত তিন উপজেলা হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী রোববার ...

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ভুক্তভোগী পাবে ক্ষতিপূরণ

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন ...

প্রধানমন্ত্রী ভারত যাবেন কিনা সময়ই বলে দেবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর প্রস‌ঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতে ব্রিকস ...

ভারতের হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে

ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ...