
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বুধবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা আগামী চার মাস ভারত থেকে কেনা গম অন্য কারও কাছে বিক্রি করবে না।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা ১৩ মে থেকে কার্যকর হবে । এটি গম, এবংভারতীয় গম থেকে তৈরি আটা এবং এ সংক্রান্ত সমস্ত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত তার সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হিসাবে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে। তবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত চায় না দুবাই বা আবুধাবি তাদের পাঠানো গম অন্য দেশে দেওয়া হোক।
প্রতিবেদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ভারত চায় না যে তারা দুবাই বা আবুধাবিতে যে শস্য বা গম রপ্তানি করছে, তা অন্য কোনো দেশে দেওয়া হোক। ভারত চায় এটা কেবল আমিরাতেই থাকুক এবং সেখানে অবস্থানরত ভারতীয় শ্রমিকরাও যেন এর সুবিধা নিতে পারে।
ভারত ১৪ মে ঘোষণা করেছিল যে, তারা গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করছে। তবে যেসব দেশ খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হবে বলেও জানানো হয়।
এ ছাড়া ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ রপ্তানির ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না। এছাড়াও, ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে, কিছু শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানি চলবে বলেও জানানো হয়।
ভারত সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের ক্রমবর্ধমান দামের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি।
তবে আমিরাতের এ সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ রয়েছে । আমিরাতের ওয়েবসাইট দ্য ন্যাশনাল নিউজ বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলছে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভারতের সাথে দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি রয়েছে।
মতিলাল ওসওয়াল সিকিউরিটিজ কোম্পানির পরিচালক কিশোর নার্নে দ্য ন্যাশনালকে বলেন, ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতকে একটি বিশেষ অংশীদার হিসাবে বিবেচনা করে। উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক বেশি শক্তিশালী, সেই কারণেই সরকার এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে একটি সাধারণ ঐকমত্য রয়েছে যে, যদি গম বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করা হয়, তবে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতে গম রপ্তানি চালিয়ে যাবে। মজবুত কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায় আমিরাতের মতো বাংলাদেশেও গম রপ্তানি বন্ধ করছে না ভারত।
ভারত ২০২১-২২ অর্থবছরে আমিরাতে ৪.৭১ লাখ টন গম রপ্তানি করেছে। এর দাম ১৩ হাজার ৬৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছর ভারত যে খাদ্যশস্য রপ্তানি করেছে, তার সাড়ে ৬ শতাংশ আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে।
ভারত যে পরিমাণ খাদ্যশস্য রপ্তানি করে তার তুলনায় এটা খুব বেশি না হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য এ পরিমাণ অনেক বেশি। মার্কিন কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বছরে দেড় মিলিয়ন টন গম ব্যবহার করে এবং এর পুরোটাই আমদানি করে।
আমিরাত তার মোট আমদানি করা গমের ৫০ শতাংশ নেয় রাশিয়া থেকে। রাশিয়া ছাড়াও কানাডা, ইউক্রেন ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও গম আমদানি করতো আমিরাত। তবে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে আরব আমিরাতের জন্য একটি বড় রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে ভারত।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানি-রপ্তানির এই হিসাব-নিকাশে অনেক বড় বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়া ও ইউক্রেনের গম আসায় সরবরাহের উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে যে, আন্তর্জাতিকভাবে যা কিছু ঘটছে তা ব্যবসাকে প্রভাবিত করেছে এবং সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ভারতের সাথে তার শক্তিশালী এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের পরিপ্রেক্ষিতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
মন্ত্রণালয় বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেছে, যেসব কোম্পানি ১৩ মে’র আগে দেশের বাইরে আমদানি করা গম বিক্রি করতে চায়, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হবে এবং এর জন্য অনুমোদন নিতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ৩৫ লাখ ভারতীয় পাসপোর্টধারী এখানে বসবাস করেন।সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনসংখ্যার ৩৫% ভারতীয়, যা অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের চেয়ে বেশি।
করোনা ভাইরাস যখন চরমে, তখন ভারত বিমানযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করেছিল। সেই সময়ে, চীনের সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছিল এবং ডাল, চিনি, শাকসবজি, চা, মাংস এবং সামুদ্রিক খাবারসহ অন্যান্য অনেক প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতির মধ্যে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিকারক হিসাবে আবির্ভূত হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে একটি বড় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রী নাহিয়ান বিন মুবারক আল নাহিয়ান একটি অনুষ্ঠানে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সঞ্জয় সুধীরের সাথে মতবিনিময় করবেন।
বিখ্যাত শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যায় যোগব্যায়ামও করা হবে। এ আয়োজনে ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের পরে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদক, তবে উচ্চ অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের কারণে রপ্তানি হয় কম। ভারত গত বছর প্রায় ১০৮ মিলিয়ন টন গম উৎপাদন করেছিল, তবে এর মধ্যে রপ্তানি হয়েছিল ৭০ লাখ টন।
উত্তর ভারতে গম চাষ বেশি হয়। মধ্য ভারতে, মধ্যপ্রদেশেও প্রচুর উৎপাদন হয়। বেশিরভাগ এলাকায় শুধুমাত্র মার্চ ও এপ্রিল মাসে গম কাটা হয়।
এ বছর উত্তর ভারতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে রেকর্ড গরম হয়েছে। যার কারণে গমের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্চ পর্যন্ত গমের জন্য ২৫-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু মার্চ মাসে উত্তর ভারতের অনেক এলাকায় তাপমাত্রার পারদ এর অনেক ওপরে ছিল। সরকারি নথিতে বলা হচ্ছে, এ বছর গমের ফলন প্রায় ৫ শতাংশ কম।
আরব আমিরাত ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও হতে যাচ্ছে। ইসরায়েল, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার আইটুইউটু জোট ঘোষণা করেছে। বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য এই জোটের অধীনে চারটি দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।
বিপি/ আইএইচ
- ১ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হচ্ছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’
- ২কমোডিটি এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম ও সম্ভাবনা নিয়ে সিএসইর সেমিনার
- ৩সারে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স : কৃষি সচিব
- ৪সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় স্থানীয় উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান
- ৫সংসদে আসছে ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী
- ৬সিটিজেনস ব্যাংকের সঙ্গে নেক পে’র চুক্তি সই
- ৭বিকাশে মুহূর্তেই আইডিএলসিতে এফডিআর খোলার সুবিধা
- ৮ইন্দোনেশিয়ায় ফের ভূমিকম্প
- ৯কাঁটাময় শরীরে কোমল ফুল, শ্রীমঙ্গলে নতুন বিস্ময় ‘ক্যাকটাস’
- ১০খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল
- ১বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী-আমানসহ ৪ নতুন সদস্য
- ২চাঁদপুরে পিতার বিরুদ্ধে মেয়ের সংবাদ সম্মেলন
- ৩প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে ইবিতে দোয়া মাহফিল
- ৪পেশাগত দক্ষতা ও গবেষণা উন্নয়নে যবিপ্রবির সঙ্গে তিন প্রতিষ্ঠানের চুক্তি
- ৫শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে আজ ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
- ৬নিরাপত্তাহীনতা থাকলে চিকিৎসকদের বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে না : প্রধানমন্ত্রী
- ৭চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্মেলন
- ৮জেলা প্রশাসন আর বিএসবিআরএ তদন্ত কমিটি গঠন
- ৯সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে পিপলস লিজিং
- ১০ঝিনাইদহের সাবেক সংসদ সদস্য নায়েব আলী গ্রেফতার





পাঠকের মতামত