প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২২ ৪:৪৮ পিএম

ভোলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ ধানের সমারোহ। সমুদ্রের ছোট ছোট ঢেউয়ের মতো দোল খাচ্ছে সবুজ ধানের পাতা ও শীষগুলো। এমন সবুজ সমুদ্রের ঢেউয়ে দুলে উঠছে কৃষকের স্বপ্ন। ক’দিন পরেই সবুজ চারাগুলো হলুদ বর্ণ ধারণ করবে। এরপর সোনালী ধানের শীষে ঝলমল করবে মাঠের পর মাঠ। রাশি রাশি সোনালী ধানে ভরে উঠবে কৃষাণীর শূন্য গোলা ঘর।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের জয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মো. হেলাল উদ্দিন তার ৪০ শতাংশ(৫ গণ্ডা) জমিতে এবার বোরো চাষ করেছেন। সুস্থ সবল সবুজ ধানের চারাগুলো হাতড়াচ্ছিলেন তিনি। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি বোরো মৌসুমে ৪০ শতাংশ জমিতে ৪০ থেকে ৪৫ মণ ধান উৎপাদন হবে বলে তিনি বলেন। লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের প্রান্তিক কৃষক মো. মাহাবুব মাতাব্বর তার ১০০০ শতাংশ (১০০ গণ্ডা) জমিতে এবার বোরো ধান লাগিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১০০০০ শতাংশে ৮ শ থেকে ৯ শত মণ ধান উৎপাদক হবে বলে তিনি বলেন।

ভোলায় চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নে ৯নং ওয়ার্ডের আয়শাবাগ গ্রামের প্রান্তিক কৃষক জাকির হোসেন বয়াতী তার ১৮০ শতাংশ (২৩ গণ্ডা) জমিকে এবার বোরো আবাদ করেছেন। এখন পযর্ন্ত ধানের কোন ক্ষতি হয় হয়নি। ফলন খুব ভালো হবে। প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগ না হলে ১৮০ শতাংশে ২০০ মণ ধান উৎপাদক হবে বলে তিনি জানান।

চরফ্যাশন উপজেলার কৃষক মো. নেছার উদ্দিন, আলাউদ্দিন বয়াতী, আঃ কাদের মুন্সি, আল আমিন ও এনায়েত হোসেন বলেন, এবছর বিদ্যূৎ ও সারের কোন সংকট হয়নি। যে কারণে ফসলের চেহারা অনেক সুন্দর হয়েছে। সবল-সতেজ চারাগুলো দেখে মনে হয় ধানের ব্যাপক ফলন হবে। কিছু দিনের মধ্যে অনেক কৃষক পাঁকা ধান কাটতে পারবেন।

এবছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাষিরা ধান রোপন করেছেন। যথা সময়ে সার, কিটনাশক ও সেচ দিতে পারায় প্রাথমিকভাবে চারাগুলো উজ্জীবিত রয়েছে। ধান গাছ শীষ গজানো থেকে শুরু করে ধান পাকার আগ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো ফলন হবে বলেন কৃষকরা জানান।

তবে বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য পাবে কি না তা নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন চাষিরা। কৃষকদের দাবি এক গণ্ডা জমিতে ধান উৎপাদনে যে পরিশ্রম আর ব্যয় করা হয়, সে তুলনায় ধানের ন্যায্য মূল্য তারা পাচ্ছেন না। ফলে ধান চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন অনেক চাষিরা। তাদের দাবি সরকার যেমন করে-সার, বীজ , কীটনাশক ও বিদ্যূৎতে ঘাটতি মিটিয়েছেন, তেমনই ধানের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করলে প্রান্তিক চাষিদের দুঃখ-দূর্দশা ঘুচে যাবে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর ভোলায় প্রতিটি উপজেলায় বোরো চাষ বেড়েছে। তবে দুটি উপজেলায় ব্যাপকহারে চাষ করা হয়েছে।

পুরো জেলায় ৬৬ হাজার ৮ শত ৩৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় ৭ হাজার ২ শত ৫০ হেক্টর, দৌলতখান ৪ হাজার ৯ শত ৬০ হেক্টর, বোরহানউদ্দিনে ১৩ হাজার ৭ শত ৮০ হেক্টর, তজুমদ্দিনে ২ হাজার ৪ শত ৬০ হেক্টর, লালমোহনে ১১ হাজার ২ শত ২৯ হেক্টর, চরফ্যাশনে ২৭ হাজার ১ শত ২৩ হেক্টর ও মনপুরা উপজেলায় ৩১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হাসান ওয়ারিসুল কবীর বলেন, এবার এখন পযর্ন্ত বোরো চাষে কোন প্রতিবন্ধকতা সুষ্টি হয়নি। আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। সার, বীজ, ও বালাইনাশক সংকট ছিল না।

তাছাড়া নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যূৎ সরবরাহ থাকায় সেচ কার্যক্রমও সঠিকভাবে চলছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবার ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এবছর ভোলায় ৬৬ হাজার ৮ শত ৩৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। যেটা গত বছরের চেয়ে ২১ হাজার ৮ শত ৩৩ হেক্টর বেশী। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯ শত ৩৯ মেট্রিক টন। পরবর্তী আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে ভোলায় রেকর্ড পরিমান ধান উৎপাদক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাগেরহাটে যাবজ্জীবন সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্তদের পুনর্বাসন

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি ...

প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে পাবনায় মানববন্ধন

পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী (ফটোগ্রাফার) খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি ...

সরকারের উন্নয়নকাজের সুফল দেশের মানুষ পেতে শুরু করেছে : কৃষিবিদ তুহিন

‎বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব ...