প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২ ৩:৪৫ পিএম

করোনা পরিস্থিতে সারাবিশ্বের অবস্থা খারাপ ছিল। কিন্তু কখনো আমাদের অর্থনীতি নিম্নমুখী হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি সবসময় গতিশীল ছিল, প্রবৃদ্ধিও ভালো ছিল। সেজন্য সারাবিশ্বের কাছে আমরা সমাদৃত এবং প্রশংসিত হয়েছি। হিসাবটি সহজেই পাওয়া যাবে, আগে দেখতে হবে আমাদের এখানে মূল্যস্ফীতি হলো কিনা। সেটি হয়নি। আমাদের এক্সচেইঞ্জ রেট স্ট্যাবল ছিল।

বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রী।

যেখানে অন্যান্য দেশের অর্থনীতি কমে গেছে, সেখানে আমাদের অর্থনীতি যেভাবে উন্নতি হলো- এ বিষয়ে মতামত চাইলে মন্ত্রী বলেন, যখন সারাবিশ্বে একদম খারাপ অবস্থা ছিল সেসময়ও আপনারা দেখেছেন আমরা বেশ ভালো ছিলাম। আমাদের অর্থনীতি কখনো নিম্নমুখী হয়নি। রেভিনিউ যেটি এই সময় দুরূহ ছিল, সেই রেভিনিউ জেনারেশনও আমাদের ১৫ শতাংশ বেশি ছিল। রপ্তানি বাণিজ্য ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের আরেকটি খাত বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রী হাত ধরে প্রণোদনা ঘোষণায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে গেছে ৩৬ শতাংশ। রেমিট্যান্সটা যদিও আমাদের জিওবিতে আসে না। কিন্তু মাথাপিছু আয়ে আসে। এগুলো হলো আমাদের অর্থনৈতিক এলাকা। এর কোথাও কিন্তু নেগেটিভ গ্রোথ নেই।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গত বাজেট যখন সংসদে উপস্থাপন করেছিলাম, সেসময় আমি উল্লেখ করেছিলাম জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি বেশি হবে। সেটিই কিন্তু হয়েছে। আমি মনে করি এসব কিছু সম্ভব হয়েছে এদেশের মানুষের জন্য। আমরা পেয়েছিলাম একজন প্রধানমন্ত্রী, তার সুযোগ্য গতিশীল নেতৃত্বে এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি এই দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য- তারা যেন হাতে টাকা পেতে পারে, সংসার চালাতে পারে সেই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেটি যথাযথভাবে কাজ করেছে। অন্য কেউ সাহস পায়নি এটি করার জন্য, আমরা সেটি করেছি। এসমস্ত কারণেই আমাদের জডিপির প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।

তিনি বলেন, যেভাবেই হিসাব করেন- আমরা যে হিসাব দিয়েছি আপনারা সেভাবেই পাবেন। কেউ কেউ বলবে আমাদের মূল্যায়ন ঠিক হয়নি, হয়তো আমরা বেশি দেখিয়েছি। আমাদের যে অর্জন সেটি তো আপনারাই দেখতে পাচ্ছেন, কোথায় আছি আমরা? আমারা তো সব জায়গায় অর্জন দেখতে পাচ্ছি। এখন আপনারা যদি কোনো অর্জন না দেখেন তাহলে বলতে পারেন ঋণাত্মক ফিগার আছে।

গত অর্থবছরের জিডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে দেখা গেছে ৯ মাসের তুলনায় অনেকে বেড়ে গেছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, জিডিপিতে যে প্রবৃদ্ধি এবং আমাদের মাথাপিছু আয় এগুলো সবকিছু নির্ধারিত হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত সিস্টেম অব ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস ২০০৮ অনুসরণ করে। অন্যান্য দেশও সেটি অনুসরণ করে থাকে।

আপনারা দেখুন আমরা অন্য কোনো সিস্টেম অনুসরণ করেছি কিনা, আমরা তা করি না। আমরা একই সিস্টেম অনুসরণ করে আসছি এবং এটি চলমান আছে। সারাবিশ্বের বেশিরভাগ দেশই এই নীতি অনুসরণ করে থাকে। আমাদের কেন বাড়লো সেটি এখানে বলতে পারি না, বলবো না। কারণ এই বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়েছেন, বিষদভাবে জেনেই আপনাদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরেছেন, যোগ করেন আ হ ম মুস্তফা কামাল।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় সাসপেন্ড ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম ও ...

ভিসাকে বাংলাদেশে গ্লোবাল সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রযুক্তি উন্নয়ন কেন্দ্র বা গ্লোবাল সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের জন্য আর্থিক প্রযুক্তি ...

আমির খসরুর নেতৃত্বে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

দেশে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশ ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ ...

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লু ইকোনমি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ...