
বিদায়ী বছর জুড়ে দেশে ডলার সংকট ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। একই সাথে কমেছে রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্সের পরিমাণ। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় মেটাতে সরকারকে সংকটের মাঝে ডলার খরচ করতে হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দেশের রিজার্ভ খাতে। সম্প্রতি আকুর আমদানি দায় শোধের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে নেমে এসেছে ৩২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে। তবে এতেও সঙ্কিত হওয়ার কিছু দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। সবশেষ রপ্তানি আয়ের চিত্র এবং রেমিট্যান্সের উর্ধ্বগতি রিজার্ভ খাতে স্বস্তির বার্তা আনতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের পরে দেশের রেমিট্যান্সে মন্দাভাব দেখা দেয়। শুরুর মাসে ২০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসলেও গত অক্টোবরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ নেমে আসে ১৫০ কোটি ডলারে। তবে গেল ডিসেম্বরে রেমিট্যান্সে কিছুটা উর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছে। গত বছরের শেষ মাসে দেশে মোট রেমিট্যান্স আসে ১৭০ কোটি ডলার। তাছাড়া নতুন বছরের প্রথম ছয় দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৪০ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। এই ধারা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই রিজার্ভ খাতে উন্নতি ঘটবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এখন যে রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়েই আগামী সাত মাসের আমদানি দায় শোধ করা যাবে। তাছাড়া রপ্তানি খাতও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আর আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাড়তি যোগ হবে আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তির প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে পণ্যের দামের নিম্নগতি আর আমদানির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তা কমবে। অর্থনীতিবিদেরা এমন আভাসই দিচ্ছেন।
গত বছরের প্রায় পুরোটা সময় বিশ্ব অর্থনীতিতেই তৈরি হয়েছিল অস্থিরতা। এর প্রভাবে বাংলাদেশের রিজার্ভও কমে এসেছে আশঙ্কাজনক হারে। আমদানি দায় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে ধাক্কার কারণে রিজার্ভ একপর্যায়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে এসে ঠেকে। তাতে অতিমাত্রায় সতর্ক হয়ে পড়ে সরকার। আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বিলাসী ও কম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়।
কড়াকড়িও শুধু নির্দিষ্ট পণ্যে সীমিত থাকেনি। বরং শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতেও ঋণপত্র খোলায় সংকট দেখা দেয়। ব্যাংকগুলো ডলার সাশ্রয়ের নামে ঋণপত্র খোলায় অতিমাত্রায় রক্ষণশীল হয়ে পড়ে। এতে কমবেশি সব ধরনের পণ্য আমদানির প্রবাহ কমে যায়। এটা অনেক ক্ষেত্রে শিল্পোৎপাদনের জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, এর ফলে অন্তত সাময়িক সময়ের জন্য ডলার খরচে রাশ টানা সম্ভব হওয়ায় তা সরকারের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
সবশেষ গত রোববার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা আকুর দায় হিসেবে ১ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার শোধ করার পর রিজার্ভ নেমে এসেছে ৩২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে। এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব। তবে রপ্তানি তহবিল ও অন্যান্য হিসাবে থাকা প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বাদ দিলে কাজে লাগানোর মতো রিজার্ভ এই মুহূর্তে ২৪ বিলিয়ন ডলার। এটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে যে এ রিজার্ভ ঝুঁকিপূর্ণ কি না। এটা দিয়ে কত দিনের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব ইত্যাদি।
তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আপাতত রিজার্ভের অঙ্ক কমলেও এটা এবার বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। নানা উৎস থেকে ডলার আসার প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব ধরলে ৩২ বিলিয়নে সাড়ে সাত মাসের আর ২৪ বিলিয়ন ডলার ধরলে প্রায় ছয় মাসের আমদানি দায় শোধ করা সম্ভব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক বলেন, দেশে ডলার সংকটের কারণে রিজার্ভে চাপ রয়েছে। তবে সেটা নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই। গত মাসে আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন। তার আগের মাসে সামান্য বেশি ছিল। গত মাসের হিসাবে বর্তমানে দেশের ৩২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন দিয়ে সাড়ে সাত থেকে আট মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করা সম্ভব। সামনে আমদানিতে কিছুটি শিথিলতা আসতে পারে। আমাদের আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে কোনো সমস্যা হবে না। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে আইএমএফ থেকে ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার পণ্য রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় সাড়ে ১০ শতাংশ বেড়েছে। সদ্য সমাপ্ত মাস ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৩৭ কোটি ডলার, যা এক মাসের রপ্তানি আয়ের হিসাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অক্টোবর শেষে সামগ্রিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। নভেম্বর শেষে সেটি বেড়ে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম কমছে। বাংলাদেশ এসব পণ্যের নতুন করে ঋণপত্র খোলায় দামে কিছুটা ছাড় পাবে। তাতে কিছুটা ডলার সাশ্রয় হবে। এভাবে সাশ্রয়, রপ্তানি, রেমিট্যান্স, আইএমএফের ঋণের কিস্তি যোগ হলে বেড়ে যাবে রিজার্ভের পরিমাণ। এতেই স্বস্তি খুঁজছেন দেশের প্রধান ব্যাংক।
- ১লভ্যাংশ দিবে না সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি
- ২লভ্যাংশের সিদ্ধান্ত জানালো সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি
- ৩জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করবে বাংলাদেশ-কাতার
- ৪প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির নবনিযুক্ত স্থায়ী কমিটির ৪ সদস্যের সাক্ষাৎ
- ৫রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই
- ৬বাকৃবিতে ডাইরেক্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের যাত্রা শুরু, নেতৃত্বে লিপি-মনির
- ৭বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত
- ৮বাকৃবির অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থায় আসছে অটোমেশন
- ৯রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে কাজ করছে সরকার
- ১০চিলমারী বন্দরে নেই ন্যূনতম যাত্রীসেবা
- ১দুদক কমিশনার হলেন সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া
- ২কয়রায় নিজ বাড়ি থেকেই ইয়াবাসহ আটক ২
- ৩চট্টগ্রামেও চালু হলো বিআরটিসির বিশেষ মহিলা ‘গোলাপি বাস’
- ৪মার্জিন বিধিমালার সংশোধনী গেজেট প্রকাশ
- ৫রাজস্ব নিয়ে জনগণের বিভ্রান্তি দূর করাই চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী
- ৬গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২৫
- ৭খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে ইবিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
- ৮ঢাকা কলেজস্থ সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রকল্যাণের ফল উৎসব ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
- ৯মানিকগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ছানা, ঝুঁকিতে ভোক্তার স্বাস্থ্য
- ১০চাঁদপুরে কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বেহাল দশা





পাঠকের মতামত