প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২২ ৪:২৬ পিএম

সংকট নিরসনে বিদেশের ব্যাংকগুলোর আটকে থাকা ডলার দ্রুত ফেরত আনার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো এসব ডলার বিদেশ থেকে না নিয়ে এলে আর ডলার সাপোর্ট দেবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার (২৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই কথা বলেন।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডলার সংকটের কারণে এই মুহূর্তে আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। এখন পর্যন্ত মার্কেট স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ৭ বিলিয়ন ডলার সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এখনও দেড় বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স বিদেশে আটকে আছে। যেটা এখনও আনা হয়নি। এছাড়া ব্যাংকগুলোর নষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রায় নয় বিলিয়ন ডলার রফতানি পুনর্গঠন হিসেবে আটকে আছে। আটকে থাকা এসব ডলার দ্রুত ফেরত আনার নির্দেশ দিয়েছি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, এই মুহূর্তে ব্যাংকগুলো যদি এসব ডলার বিদেশ থেকে না নিয়ে আসে তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক আর ডলার সাপোর্ট দেবে না। ব্যাংকগুলোর সাপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটা দেশের আয়নার মতো। ফলে রিজার্ভকে একেবারে কমিয়ে ফেলা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। রেমিটেন্স আনার ক্ষেত্রে আপনারা যেভাবে সহযোগিতা করবেন ঠিক একইভাবে রফতানির টাকা ফেরত আনার জন্য আপনাদের একই রকম সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

ব্যাংকগুলোকে আরও গঠনমূলক আচরণ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নিয়মের মধ্যে থাকলে যেকোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ ব্যাংক। আর যদি নিয়মের মধ্যে না থাকেন তাহলে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না।

ব্যাংকগুলো নিয়মের মধ্যে থাকলে যেকোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ ব্যাংক। আর যদি নিয়মের মধ্যে না থাকে তাহলে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না।

ঋণ পুনঃ তফসিলের মাস্টার্স সার্কুলার সম্পর্কে মুখপাত্র বলেন, কোন গ্রাহককে পুনঃ তফসিল সুবিধা দেওয়া হবে এবং কাকে দেওয়া হবে না এটার পুরোপুরি দায়িত্ব এখন ব্যাংকের ওপর। এই দায়িত্ব এখন আর বাংলাদেশ ব্যাংক নেবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। কারণ ঋণ বিতরণের অনিয়মে বাংলাদেশ ব্যাংক জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে বলে জানানো হয়। এই প্রজ্ঞাপনের ফলে এখন থেকে ঋণ বিতরণের সময় ব্যাংকের এমডি থেকে শাখা পর্যায়ের সব কর্মকর্তা সতর্ক হয়ে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠক শেষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ডলার মার্কেট স্থিতিশীল করতে এবিবি ও বাফেদার সাথে আবারও বৈঠক করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনকে যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী বলে জানিয়েছেন এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন । বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ঋণ পুনঃ তফসিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে ব্যাংকারদের দায়িত্ব আরও বাড়বে। কারণ এখন থেকে ঋণ পুনঃ তফসিল এবং খেলাপি ঋণের পুরো দায় দায়িত্ব বর্তাবে ব্যাংকের ওপর।

এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোতে এক ধরনের সংস্কার চালু হয়েছে। যা কেবল শুরু। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঋণ পুনঃ তফসিল প্রক্রিয়া এখন থেকে আরও সুষ্ঠু হবে বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

এস আলম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় সাসপেন্ড ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা

বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম ও ...

আমির খসরুর নেতৃত্বে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

দেশে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশ ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ ...

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ...

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও ...