বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬ ৭:২৩ এএম , আপডেট: জুলাই ২৮, ২০২৬ ৯:২৫ পিএম
  • মে মাসে (ইতিবাচক) ১২৩৪ কোটি টাকা
  • এপ্রিলে ছিল (ইতিবাচক) ২২৬০ কোটি টাকা
  • জুলাই’২৫-মে’২৬ (ইতিবাচক) ৮০৫ কোটি টাকা

আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি। বিনিয়োগকারীরা ভাঙার চেয়ে সঞ্চয়পত্র কিনছে বেশি। ফলে গত অর্থবছরের ১১তম মাস মে মাসে আসল-সুদ পরিশোধের চেয়ে বিক্রি বেশি হয়েছে ১ হাজার ২৩৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর আগের এপ্রিল মাসেও ভাঙার চেয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেশি হয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে কিছু ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। ফলে অনেকেই এখন ব্যাংকে টাকা রাখতে চায় না। এমনকি ব্যাংকে আমানতের সুদ বাড়লেও মানুষের আস্থা পুরোপুরি ফেরেনি। অন্যদিকে শেয়ারবাজারের অবস্থাও খুব বেশি একটা ভাল না। আর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে মানুষ আবার জাতীয় সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুকছে।

জানা গেছে, গত দুই অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে কোনো ঋণ নিতে পারেনি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১২ মাসে (জুলাই-জুন) সঞ্চয়পত্র নিট বিক্রি নেতিবাচক ধারায় ছিল। ওই সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে আগের আসল-সুদ বাবদ বেশি পরিশোধ করতে হয়েছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এছাড়া, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১২ মাসেও আগের আসল ও সুদ বাবদ ২১ হাজার ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে।

আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়।

তবে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) সঞ্চয়পত্র বিক্রির ধারা ইতিবাচক রয়েছে। এ সময়ে সঞ্চয়পত্র ভাঙার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ৮০৫ কোটি টাকা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরের মাস জুনেও যদি সঞ্চয়পত্র বিক্রির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে সরকার হয়তো সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে অল্প কিছু ঋণ নিতে পারবে।

এদিকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ধারাবাহিক ঋণাত্মক থাকার কারণে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা আরও কমিয়ে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দশম মাস এপ্রিলে সঞ্চয়পত্র ভাঙার চেয়ে বিক্রি বেশি হয়েছিল ২ হাজার ২৬০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এপ্রিলে আগের আসল-সুদ বাবদ পরিশোধ করার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছিল। আর পরের মে মাসেও সঞ্চয়পত্র ভাঙার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা।

আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়েও সঞ্চয়পত্র বিক্রি ছিল ইতিবাচক। ওই সময়ে আগের আসল-সুদ বাবদ বেশি পরিশোধের চেয়ে বিক্রি বেশি হয়েছিল ১ হাজার ৫৩৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এদিকে একক মাস হিসাবে মে মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রির ধারা ইতিবাচক হওয়ার পাশাপাশি গত অর্থবছরের ১১ মাসেও সঞ্চয়পত্র বিক্রির ধারা ইতিবাচক রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) সঞ্চয়পত্র ভাঙার চেয়ে বিক্রি বেশি হয়েছে। এই ১১ মাসে আগের আসল-সুদ বাবদ পরিশোধের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ৮০৫ কোটি টাকা।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক টেকসই অর্থায়নে উল্লম্ফন, কমেছে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ

টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন বেড়েছে ১৬,৩১১ কোটি টাকা সবুজ প্রকল্পে অর্থায়ন কমেছে ১,৭৮৪ কোটি টাকা টেকসই ...

ব্যাংকারদের শৃঙ্খলাভঙ্গের মামলা দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের অভিযোগ ও শৃঙ্খলামূলক মামলা দুই মাসের মধ্যে ...

খেলাপি হলে মিলবে না ইডিএফ ঋণের নতুন সুবিধা

রপ্তানিমুখী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার অর্থায়ন আরও সুশৃঙ্খল করতে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) ...