

বেশ কিছুদিন ধরেই তারল্য সংকটে ভুগছে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক। বিশেষ করে গত ডিসেম্বরে কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে সবল ব্যাংকের সাথে একীভূত করার কথা উঠার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে থাকে। ভয়-আতঙ্কে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে শুরু করে।
এরই প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত, বিদেশি ও শরীয়াহ ভিত্তিক পরিচালিত ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতের উপর। ২০২৪ সালের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানত বাড়লেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ, দেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ১ দশমিক ২১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে কথা বললে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত কেন কমেছে-এ বিষয়ে আমি ক্লিয়ার না। আর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে তো বেশ কিছু দিন ধরেই তারল্য সংকট চলছে।
আর ইসলামি ব্যাংকগুলোতে আমানত কমার বিষয়ে তিনি বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলোতে যেভাবে লুটতরাজ হচ্ছে-তাতে আমানত তো কমবেই। আরও বেশি কমতে পারতো। এগুলোর উপর মানুষের বিশ্বাস নাই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক -সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএলের আমানতের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ। এমনকি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষেও সেপ্টেম্বর কোয়ার্টারের তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছিল ৪ হাজার ২২৩ কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে ইচ্ছুক রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, দুইটি কারণে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর আমানত কমতে পারে। প্রথমত: মানুষ এখন বন্ডের দিকে ঝুকছে। দ্বিতীয়ত: বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো টিকে থাকতে আগ্রাসীভাবে সুদহার বাড়িয়ে আমানত সংগ্রহ করছে। কিছু ব্যাংক ১৪ শতাংশ সুদেও আমানত অফার করছে। আর সরকারি ব্যাংকগুলো চাইলেও তাদের মতো করতে পারবে না। সরকারি ব্যাংকগুলোর পর্যাপ্ত আমানত আছে। তাই কোনো ঝুকি নিয়ে আমরা আমানত নিচ্ছি না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে শরীয়াহ ভিত্তিক পরিচালিত ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) আমানত কমেছে ৪ হাজার ৫৮৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা ১ দশমিক ২১ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি ছিল ৮৩ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ৪৯৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বা শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ।
তবে মার্চ শেষে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে। তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি ছিল ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। আর মার্চ শেষে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ১৫ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ২৯ শতাংশ।
অপরদিকে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে বিশেষায়িত ব্যাংকের আমানতের স্থিতি ছিল ৪৭ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ২৪৪ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৩০৩ কোটি শূন্য ২ লাখ টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যাংক খাতের আমানত বেড়েছে ১৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা বা শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ।
ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যাংক খাতে সুদহারের সীমা তুলে দেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সরকারি ব্যাংকগুলো সেভাবে সুদ সমন্বয় করেনি। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে অনেকেই সংসারের খরচ মেটাতে ব্যাংক থেকে তাদের আমানত তুলে নিচ্ছে। অপরদিকে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদে আমানত আকৃষ্ট করছে। ফলে তাদের আমানত বেড়েছে।
এম জি
- ১দেড় বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে
- ২ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, নতুন রোগী ৪৫০
- ৩মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জুবাইদা রহমানের
- ৪অদম্য তরুণ ইসমাইল ইকনের পাশে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
- ৫ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
- ৬থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরছেন স্পিকার
- ৭বগুড়ায় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনে আইনের খসড়া অনুমোদন
- ৮প্রিমিয়ার ব্যাংক ও বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- ৯ধর্ম-জাতিগত পরিচয়ের কারণে কাউকে সুযোগ কম দেওয়া যাবে না
- ১০প্রাইম ব্যাংক ও ডিএইচএস অটোসের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর
- ১চকরিয়ায় ২০ প্যাকেট ইয়াবাসহ মাদককারবারী আটক
- ২কেশবপুরে তিনদিনব্যাপী ফল মেলা’র উদ্বোধন
- ৩চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রো-ভিসিকে ছাত্রদলের শুভেচ্ছা
- ৪আকস্মিক বন্যায় কৃষকের স্বপ্ন মূহুর্তেই তছনছ
- ৫চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগ
- ৬ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিংয়ের বোর্ড সভা ২৯ জুলাই
- ৭বিশ্ববাজারে ফের বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
- ৮তিন কেজি গাঁজাসহ কারবারি ডিবির জালে
- ৯মেরিকোর বোর্ড সভা ২৯ জুলাই
- ১০মাদকসেবী-বখাটেদের চিন্হিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে : সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক





পাঠকের মতামত