প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৮, ২০২৩ ৬:০১ পিএম

নতুন কিছুর প্রত্যাশা আর কর্মসংস্থান তৈরিতে অবদান রাখতে ২০০১ সালে ব্যবসা শুরু তাঁর। বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস্ লিমিটেড (বিবিএস) এর মাধ্যমে শুরু হয় ব্যবসার এই যাত্রা।  তিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে সুসংহত করতে গড়ে তুলেন শিল্প-কারখানা। তার প্রতিষ্ঠিত বিবিএস গ্রুপ এবং নাহি গ্রুপ মিলে একে একে করে গড়ে তুলে এগারোটি প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে রয়েছে আটটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি  তৈরি করেছে  হাজারো মানুষের কর্মস্থান। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার তাগিদে  দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিবিএস গ্রুপের স্বপ্নদ্রষ্টা ও কর্ণধার  ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার। বর্তমানে তিনি বিবিএস ক্যাবলস ও নাহী গ্রুপ এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সফল এই শিল্প উদ্যোক্তার জনসেবা এবং রাজনীতিতেও রয়েছে সক্রিয় পদচারণা। ছাত্রজীবন থেকেই ধারণ করে আসছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আদর্শ। সুখে-দুঃখে সঙ্গী হয়েছেন দলের। তিনি সমাজসেবায় রেখেছেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার খরচ এবং বৃত্তি প্রদান করছেন নিজ অর্থায়নে।  আগামী দিনগুলোতেও নিজ এলাকা ভোলার উন্নয়নে অবদান রাখতে চান। ভোলাকে পরিণত করতে চান বিশ্ব পর্যটনের অংশ হিসেবে।  ব্যবসার সফলতা আর আগামীর ভোলা বিনির্মানে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে  বাণিজ্য প্রতিদিনের সাথে কথা বলেছেন বিবিএস ক্যাবলস ও নাহী গ্রুপ এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন

বাণিজ্য প্রতিদিন : ব্যবসা প্রথম কবে শুরু করেন?

ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার: ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড  টেকনোলজি (বুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা সম্পন্ন করি।  পরবর্তীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিনহা টেক্সটাইলে কর্মজীবন শুরু করি। চাকুরীর তিন বছর পর  ২০০১ সালে ব্যবসা শুরু করি।

বাণিজ্য প্রতিদিন: চাকুরী ছেড়ে উদ্যোক্তা হলেন কেন?

ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার: আমার ভবিষ্যৎ যেভাবে দেখতে চেয়েছিলাম, আমি মনে করেছি চাকুরি করে এখানে পৌঁছানো সম্ভব না।  এছাড়াও আমার নিজের ইচ্ছা ছিল অটোমোবাইল সেক্টরে  কিছু করার। যেহেতু চাকরি করে তা সম্ভব না, তাই ২০০১ সালে ব্যবসায় অনিশ্চিত যাত্রায় শুরু করি।  তখন শুধু নিজের বেতনের কথা চিন্তা করলেই হয় না,  অনেকের বেতন ও জোগাড় করতে হয়।  তখন পর্যাপ্ত মূলধনও ছিল না।  তবুও ব্যবসা করার ঝুঁকি নিয়েছি।

বাণিজ্য প্রতিদিন: ব্যবসার শুরুটা কেমন ছিল?

ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার: প্রথম যখন ব্যবসা শুরু তার নাম ছিল স্পিড বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স। এখানে বিভিন্ন প্রজেক্ট ভিত্তিক কাজ করা হতো।  তখন প্রজেক্ট এর আকার অনুসারে জনশক্তি বাড়তো এবং কমতো।  ২০০১  থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে লোকবল সংখ্যা একশত থেকে সাড়ে তিনশত ছিল। যেহেতু কাজটি প্রজেক্ট ভিত্তিক তাই স্থানীয় লোকবল ছিল না।

বাণিজ্য প্রতিদিন: আপনার প্রতিষ্ঠান বিবিএসের পেছনের গল্প কি ছিল?

ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার: বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস) একটি প্রি ইঞ্জিনিয়ার্স স্টিল  বিল্ডিং ম্যনুফ্যাকচারিং কোম্পানি। এই ধরণের ব্যবসা সম্পর্কে আমার তেমন ধারণা ছিল না।বিবিএস ক্যাবলসের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমার বন্ধু।  তারপর আমার সে আমি প্রি ইঞ্জিনিয়ার্স স্টিল বিল্ডিং এ ব্যবসা শুরু করি।  তখন এই ব্যবসার ধরণ দেখি এবং কয়েকটি বিদেশি কোম্পানি পরিদর্শন করি।  এই সময় স্থানীয় একটি কোম্পানির এজেন্ট হই এবং দেখলাম এই ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব। তখন বন্ধুকে সাথে নিয়ে প্রি-ইঞ্জিনিয়ার্ড স্টিল বিল্ডিং কোম্পানি চালু করি।

বাণিজ্য প্রতিদিন :  বিবিএস কেবলস এর সাথে কতগুলো কোম্পানি সম্পৃক্ত?

ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার: বিবিএস গ্রুপ এবং নাহি গ্রুপ মিলে আমাদের ১১টির মত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারমধ্যে আটটি শিল্প প্রতিষ্ঠান।

বাণিজ্য প্রতিদিন: শিল্প প্রতিষ্ঠানে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বর্তমানে জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাই?

ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার: আমি বুয়েট ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম।  তখন বুয়েটের সোহরাওয়ার্দী  হলে ছাত্রলীগের প্যানেল হতে ভিপি নির্বাচিত হই। আর এটা তৎকালীন সময়ে কঠিন ছিল, কেননা সোহরাওয়ার্দী হল থেকে ২৩ বছরের ব্যবধানে আমি প্রথম ভিপি। পরবর্তীতে আমি ক্যারিয়ারমুখী হই। তবে ক্যারিয়ারমুখী হলেও  আওয়ামীলীগের নেতা নেত্রী এবং ছাত্রলীগের সাথে আমার যোগাযোগের ধারাবাহিকতা ছিল। ২০০১ সালে ভোলাতে বিএনপির তাণ্ডবে আওয়ামী লীগের প্রচুর নেতাকর্মী  ঢাকায় আসতে বাধ্য হয়। কোন ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই তাদের আসতে হয়েছে। তখন তাদের হাতে টাকা পয়সা নেই, থাকার জায়গা নেই, কেউ কেউ এক জামাতেই চলে আসতে হয়েছিল। তারা যখন যোগাযোগ করল তখন আমি আমার সাধ্যমত তাদের পাশে দাঁড়াই। আমি পরবর্তীতে ২০০৮ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হই। ১৯৯৭ থেকে ২০০৮ সাল এই সময়টাতে আমি ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্রিক ব্যস্ত ছিলাম।  ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোলার-৩ আসনের  আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি। তখন ভোলা-৩  আসনের নেতাকর্মীদের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। তখন থেকে তাদের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম এবং  দিন দিন তার পরিমাণ বেড়েছে।  ২০০৮ সালে নির্বাচনের পর  ২০১০ সালের উপনির্বাচন, ২০১৪ এর জাতীয় নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এই চার নির্বাচনে ভোলা-৩ আসনের মাঠে ছিলাম এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। প্রার্থীর কিছুটা লোড বহন করার চেষ্টা করেছি।  জনগণের পাশে থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত- গণমত গঠনের চেষ্টা করেছি এবং সফল হয়েছি।  বর্তমানে যা জানতে চেয়েছেন, এই জনসেবা আমি শুরু থেকেই করে আসছি।  আমি ছাত্র জীবনে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী জনসেবা করেছি।  চাকরি জীবনেও জনসেবা চালিয়ে গিয়েছি। ব্যবসা শুরু করার পর যখন আমার সামর্থ্য বেড়েছে তখন জনসেবাও বেড়েছে। ২০১২ সাল থেকে ভোলা জেলার কৃতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি  প্রদান করা হয়। যা ভোলা সমিতি তত্ত্বাবধান করে। এই বৃত্তিটি আমার বাবার নামে নামাঙ্কিত,  বৃত্তিটি হল  আব্দুল হান্নান হাওলাদার শিক্ষা বৃত্তি। আমার নামে একটি ফাউন্ডেশন রয়েছে।  এই ফাউন্ডেশন থেকে ভোলাতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  তৈরি করেছি এবং শিক্ষকদেরকে সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন ভাতা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত হয়েছে। ভোলাতে আমার নিজ এলাকায় একটি দ্বিতল মসজিদ নির্মাণ করে করেছি।  এছাড়াও অসংখ্য স্কুল, মাদরাসায় আমার অনুদান রয়েছে।  যেখানেই মেধাবী শিক্ষার্থী পেয়েছি আমি তাকে সহযোগিতার  চেষ্টা করেছি। অনেক শিক্ষার্থীর নিকট নিজ উদ্যোগে যোগাযোগ করে মাসিক শিক্ষা সহায়তা দিয়ে আসছি। ভোলার  চরফ্যাশন এলাকার এতিমখানার গুলোতেও সহযোগিতা করছি, যা আমার নির্বাচনী এলাকার বাহিরে। গাজীপুরে আমার শিল্প প্রতিষ্ঠান এলাকায়ও অনেক শিক্ষার্থীকে বৃত্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করেছি।  করোনা মহামারীর সময় তিন হাজার মানুষের খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করেছি। তেমনি বিভিন্ন দুর্ভোগ, দুর্যোগে, বন্যা কবলিত  এবং শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। উৎসবের দিনগুলোতেও  মানুষের পাশে থেকেছি।  বৃহৎ আকারে জনসেবা করার জন্য এবং মানুষের জন্য অবদান রাখতে জনগণের  আরও নিকটে যাওয়ার দরকার। আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ  নেতৃত্ব যদি মনে করেন আমি যোগ্য তাহলে দলের পক্ষ হয়ে জনগণের জন্য কাজ করব।  অন্যথায় আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে চলমান জনসেবা  চালিয়ে যাব।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট, সমৃদ্ধ ও উন্নত  বাংলাদেশ  বিনির্মাণের  ভিশন  বাস্তবায়নে স্বচ্ছ ও যোগ্য লোকদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করণের অংশ হিসেবে আমি ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী হিসেবে নিজকে সেই পরিক্ষায় উত্তীর্ণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন স্বচ্ছ, যোগ্য এবং নিবেদিত কর্মী হিসেবে  ভোলা-৩ আসনে কাজ করতে চাই।

বাণিজ্য প্রতিদিন: দলনেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নির্ধারণী পর্যায়ে যদি আপনার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে ভোলা-৩ আসনে আপনাকে মনোনীত করে এবং আপনি বিজয়ী হলে ভোলায় আপনার আসনকে কিভাবে সাজাতে চান?

ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার: আমি ভোলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন মানুষ। সেখানে আমি ৩  মাইল হেঁটে স্কুলে গিয়েছি।  কখনো কখনো ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করতে হয়েছে। বর্ষায় আসা যাওয়ার পথে   নানা দুর্ভোগ পোহাতে হত, কাঁচা মাটির  রাস্তায় কখনো কখনো পা পিছলিয়ে পড়ে যেতাম।  সেখান থেকে এখানে যখন নিজেকে কল্পনা করি তখন দেখি আল্লাহর অশেষ রহমত এবং আমার শিক্ষার মাধ্যমে এই পরিবর্তনটুকু এসেছে। জীবনের  যতটুকু উন্নতি হয়েছে তা শিক্ষার মাধ্যমেই হয়েছে। তাই ভোলার ছেলে-মেয়েদের জন্য, আমাদের ভাই-বোনদের জন্য শিক্ষায় কাজ করতে চাই। শিক্ষা নিয়ে কাজ করলে অনেক কিছুই সমাধান হয়ে যাবে। শিক্ষিত হয়ে তারা ডাক্তার,  ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস কর্মকর্তা,  পেশাজীবি এবং ব্যবসায়ী হবে এবং তারা নিজেরাই অনেক কিছু পরিবর্তন করে ফেলবে। কাজেই আমি যদি একটি ছেলেকে বা একটি মেয়েকে তৈরি করে দিতে পারি সে তার নিজ এলাকা তার মতো করে তৈরি করে নিবে। তাই শিক্ষা নিয়ে আমি প্রথমে কাজ করতে চাই।  দ্বিতীয়ত আমার এলাকা মাদকমুক্ত করতে চাই।  মাদক সারা বাংলাদেশের কোথাও থাকুক আমি তা চাই না। নিদেনপক্ষে আমি চাই আমার এলাকায় যেন মাদক না থাকে। অনেকেই কৌতুহলবশত বন্ধু-বান্ধবদের নিকট হতে বা এটা সহজ লভ্য হওয়ায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। মাদককে যত দূরে রাখা যায় সেই চেষ্টা করব। একই সাথে ভোলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত করতে চাই। আমি মনে করি ভোলার অন্য তিন আসন চরফ্যাশন, বোরহানউদ্দিন এবং ভোলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থার তুলনায় লালমোহনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ম্রিয়মান।  অজ্ঞাত কারণে বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র আর লালমোহরের উন্নয়ন চিত্র  এক রকম নয়। আমি উন্নয়নের  ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করব। লালমোহন বা তজিমউদ্দিনে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, গবেষণাগার এবং বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেন এখানে স্থাপন করা যায়। ভোলাতে তেমন কিছু নেই,  ভোলাতে যেন এগুলো স্থাপন কর যায় এবং তা যেন লালমোহনে হয় তার চেষ্ট করব। বাংলাদেশের যে গ্যাস রিজার্ভ রয়েছে তার ২৫ শতাংশ ভোলাতে রয়েছে। অনেকে মনে করেন অনাবিষ্কৃত গ্যাসের রিজার্ভের পরিমান আরও অনেক বেশি।আবিষ্কৃত এই বিশাল গ্যাস রিজার্ভ নিয়ে গ্যাস ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ভোলাতে যদি শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হয়  হয় তাহলে গ্যাসের সঞ্চালনের খরচ কমবে। শিল্পকারখানা হলে ভোলার লোকজনের কর্মসংস্থান সুবিধা পাবে এবং  ভোলার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বেড়ে যাবে। একই সাথে ভোলায় পর্যটন শিল্পের উন্নতি হবে। ভোলা খুবই সুন্দর একটি দ্বীপ। ভোলার চারপাশে জলরাশি যার কোথাও স্বচ্ছ,  কোথাও ঘোলাটে;  সমুদ্রের দিকে আবার স্বচ্ছ নীল জলরাশি। সেখানে প্রচুর সুপারি বাগান, নারিকেল বাগান এছাড়াও ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে যেগুলোতে হরিণের আবাস ভূমি এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণী রয়েছে।  সেখানে বাতানের পর বাতান মহিষ রয়েছে ।  মহিষের দই দুধ রয়েছে।  ভোলার লালমোহন তজুমদ্দিনের এই সম্পদ এগুলো নিয়ে প্রচুর কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।  বাংলাদেশের মানুষকে ভোলার সাথে পরিচিত করানো যেতে পারে একই সাথে বিদেশি মানুষের নিকট ভোলা একটি পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাবে। ভোলার আরেকটি বিশেষ সম্পদ হল ইলিশসহ অন্যান্য মাছ। বাংলাদেশে মাছের চাহিদার বড় অংশ পূর্ণ করে থাকে ভোলা। ভোলার ইলিশে বিশেষ স্বাদ রয়েছে। তারও একটি বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। ইলিশ ছাড়াও অন্যান্য মিঠা পানির মাছ রয়েছে। এই মাছগুলো নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক চাষের প্রয়োজন রয়েছে। তখন হয়তো এই মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে। এখানে গবাদি পশুর খামার তৈরি করা যেতে পারে। হাঁস-মুরগির খামার তৈরি করা যেতে পারে।  সেখানের ভূমি গুলোতে জল ও স্থালের যে সম্মিলন এগুলোতে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে। তাই আমি ভোলার লালমোহন-তজিমউদ্দিনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি।

বাণিজ্য প্রতিদিন : নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান কাজের কোন  ব্যাঘাত ঘটবে কিনা?

ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার: আমি যখন ব্যবসা শুরু করি তখন আমি মাঠে পড়ে থাকতাম। সপ্তাহে পাঁচ কর্ম দিবসই আমি মাঠে সময় দিতাম।  যখন শিল্প কারখানা গড়ে তুলি তখন সপ্তাহে দুদিন কারখানায় সময় দিতাম। কোম্পানি ধীরে ধীরে বড় হল, লোকবল বাড়ল, বিক্রয় শাখা  বড় হলো  তখন কিন্তু আমি আস্তে আস্তে এসব জায়গা থেকে সড়ে এসেছি, সেখানে নতুনদের সুযোগ করে দিতেছি এবং আমি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। আজ বিবিএস গ্রুপ এবং বিবিএস ক্যাবলসের অবস্থার কথা চিন্তা করুন, আমি যদি নাও থাকি তাতে কোন অসুবিধা হবে না। যেমন  আমি এক সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলাম।  বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোম্পানি পরিচালনা করে। আমার কোম্পানির প্রেক্ষাপটেও একই পরিচালনা ব্যবস্থা। এখানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হচ্ছে পরিকল্পনা নেওয়া এবং পরিচালনা বোর্ডের বৈঠকে পরিকল্পনা  দিয়ে দেওয়া। গত এক বছর যাবৎ আমি তাই করছি। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি।  আমাদের প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থাপনা পরিচালক  রয়েছে, তারা কোম্পানি পরিচালনা করেছেন এবং ভালো ভাবেই পরিচালনা করছেন। তাদের খুব কমই পরামর্শ দিতে হয়, কেননা আমাদের পরিচালনা বোর্ড এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের সাথে কাজ করায় বোর্ডের চাওয়া পাওয়ার বিষটি আত্মস্থ করে নিয়েছে একই তাদের কর্ম সক্ষম সম্পর্কেও আমাদের ধারণা স্পষ্ট। কাজেই যে টিম রয়েছে তারা কোম্পানিকে ভালো ভাবেই চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

বাণিজ্য প্রতিদিন: আপনার কোম্পানিতে কি পরিমান কর্মসংস্থান গড়তে চান?

ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার:
বর্তমান সময়ে আমরা খুব চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যা করোনা মহামারী  থেকে শুরু হল।  করোনা মহামারী বাংলাদেশ খুব ভালোভাবেই উত্তরিয়ে গিয়েছে। এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে  একক কৃতিত্ব দিতে হবে। যিনি আন্তর্জাতিকভাবেও  অনেক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন  এবং পুরস্কৃত হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে আমরা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এর সুফল পেয়েছি। করোনা  মহামারীর তেমন কোন আচঁড় আমাদের মাঝে লাগেনি।  করোনা পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ  এবং  তার একটা ফলাফল বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধি। এই জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধিই আমাদের ক্ষতির সম্মুখীন করেছে। আমরা জ্বালানি তেলের জন্য বাহিরের দেশের উপর নির্ভরশীল। এখানে সারা পৃথিবীর দ্রব্যমূল্য এবং কাঁচামালের দাম বেড়ে গিয়েছে।  এতে করে আমাদের মতো আমদানি কারক দেশগুলোর কিছুটা ভুক্তভোগী হচ্ছে। এখানে আমরা একটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি। এটা হতে উত্তরণের দিকেই আমরা যাচ্ছি, হতো আরও কিছু দিন সময় লাগবে। কিন্তু আমি স্বপ্ন দেখি বিবিএস গ্রুপে ৫০ হাজার লোক কাজ করবে। বিবিএস গ্রুপ বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করবে এবং বাংলাদেশে ব্যবসায়ী সেক্টরকে নেতৃত্ব দিবে বিবিএস গ্রুপ।

বাণিজ্য প্রতিদিন : আপনাকে ধন্যবাদ।
ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার: আপনাকে এবং আপনার মাধ্যমে পাঠককে ধন্যবাদ।

অনুলেখক: সাইমউল্লাহ সবুজ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ঘাটতি: সুযোগের বাজারে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ, কী হতে পারে উত্তরণের পথ?

বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তি এমন এক সময়ে উদযাপিত হচ্ছে, যখন দুই ...

বাণিজ্য ঘাটতির বাড়ন্ত চাপ: কাঠামোগত সংস্কারই টেকসই অর্থনীতির একমাত্র পথ

বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দেড় দশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আলোচিত প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। মাথাপিছু আয় ...