নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬ ১১:২৪ এএম , আপডেট: মে ৫, ২০২৬ ৪:২৬ পিএম

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশে ৩০ হাজার ৫৯৯ কোটি ১১ লাখ টাকার কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭৮.৪৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। কৃষি ঋণের এই ইতিবাচক প্রবাহ গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিবেদন সূত্রে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৩৯ হাজার কোটি টাকার কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এটি পূর্ববর্তী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের (৩৮ হাজার কোটি টাকা) তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে, এই অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) মোট ৩০ হাজার ৫৯৯ কোটি ১১ লাখ টাকার কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এটি বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭৮.৪৬ শতাংশ। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধি

গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে (জুলাই-মার্চ) ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ২৪,৮৬০.৫৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার বিতরণ প্রায় ৫,৭৩৮.৫৫ কোটি টাকা বেড়েছে। এছাড়াও গত বছরের জুলাই-মার্চের তুলনায় এবার কৃষি ঋণ বিতরণে ২৩.০৮% প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ১৩ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশী ব্যাংকগুলোর জন্য ২৫ হাজার ১২০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঋণের স্থিতি
মার্চ ২০২৬ শেষে দেশে কৃষি ঋণের মোট স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩,৬৩০.১০ কোটি টাকা।

ঋণ আদায়ের চিত্র
শুধু বিতরণ নয়, আদায়ের চিত্রও বেশ ভালো। প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই ৯ মাসে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩১,৬৬৮.৩০ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৪০% বেশি।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী গবাদি পশু খাতে ঋণের বরাদ্দ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়াও শসা, বিটমূল, কালোজিরা, আদা, রসুন, হলুদ ও খেজুরের গুড়সহ নতুন ফসলের জন্য ঋণের আওতা বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, কৃষি ও পল্লি ঋণের ক্ষেত্রে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) চার্জ মওকুফ করা হয়েছে। বিশেষ নির্দেশনার মধ্যে বোরো চাষের জন্য ঋণ বিতরণের সময়সীমা এবং সুনির্দিষ্ট সময়ে (চাষের আগে) ঋণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রাটি জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ অর্থবছরে কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণকে আরও গতিশীল করতে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন করছে। যেসব ব্যাংকের নিজস্ব শাখা পল্লি অঞ্চলে নেই, তাদের ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা বা এনজিওর মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (এমআরএ) নিবন্ধিত এনজিও সংস্থাগুলোর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হবে এবং তারা যেন অতিরিক্ত সুদ নিতে না পারে, সে জন্য সুদের হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

ভোলার কৃষি উদ্যোক্তা সামিউল আলম বলেন, কৃষি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, বিশেষ করে নতুন খাত ও ফসলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এটা প্রশংসনীয়। তবে শুধু ঋণ দিলেই হবে না, এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিকে উৎসাহ দেওয়া জরুরি। কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কম সুদের ঋণ সুবিধা বাড়ানো গেলে আমরা উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানিতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারব।

কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. জাহাঙ্গির আলম বলেন, কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণে যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ঋণ সঠিক সময়ে এবং প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা।

বিশেষ করে বোরো মৌসুমের মতো সময়সংবেদনশীল চাষাবাদে সময়মতো ঋণ না পেলে এর কার্যকারিতা কমে যায়। পাশাপাশি ঋণের ব্যবহার সঠিক খাতে হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ জরুরি।

গবাদি পশু খাতে ঋণের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নতুন ফসলকে অন্তর্ভুক্ত করা একটি ভালো উদ্যোগ, যা কৃষির বহুমুখীকরণে সহায়ক হবে। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে ঋণ ব্যবস্থাকে সমন্বয় করা গেলে এই প্রবৃদ্ধির সুফল দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি পাওয়া যাবে।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকের পর আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও ‘এক্সিট’ সুবিধা

ব্যাংকের পর এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও (ফাইন্যান্স কোম্পানি) খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ...