

- শেয়ার কারসাজি, অর্থ আত্মসাৎ ও নীতির অস্থিরতায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ভেঙেছে
- মাসুদ খানের নেতৃত্বে নতুন বিএসইসি কমিশন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা
- করপোরেট বন্ড, গ্রিন বন্ড ও সুকুক বাজার সম্প্রসারণের আহ্বান
- আস্থা কোনো ঘোষণায় নয়, কার্যকর পদক্ষেপেই ফিরে আসবে—বিশেষজ্ঞদের মত
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আস্থার সংকটে নিমজ্জিত দেশের পুঁজিবাজার। ২০১০ সালের ধসের ক্ষত, ধারাবাহিক শেয়ার কারসাজি, বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাৎ, নিয়ন্ত্রণহীন মার্জিন ঋণ, দুর্বল করপোরেট সুশাসন এবং ঘন ঘন নীতিগত পরিবর্তনের ফলে বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন লাখো ক্ষুদ্র, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারী। ফলে শিল্পায়নের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হওয়ার পরিবর্তে পুঁজিবাজার ক্রমেই আস্থাহীনতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এমন বাস্তবতায় মাসুদ খানের নেতৃত্বে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দায়িত্ব নেওয়ায় বাজারে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। তবে শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন দৃশ্যমান সংস্কার, আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ, নীতির ধারাবাহিকতা, কারসাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং মানসম্মত কোম্পানির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
অর্থনীতিবিদ ও বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কৃত্রিমভাবে সূচক বাড়িয়ে নয়, বরং সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পুঁজিবাজারকে আবারও শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নির্ভরযোগ্য অর্থায়নের উৎসে পরিণত করা সম্ভব। কিন্তু নতুন কমিশন কি দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতার এই বৃত্ত ভেঙে বাজারে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারবে, নাকি অতীতের মতো প্রত্যাশা আর বাস্তবতার ব্যবধানই আরও দীর্ঘ হবে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিন এর বিশেষ ধারাবাহিক ‘পুঁজিবাজার: সংকটের শেকড়, উত্তরণের পথ’-এর চতুর্থ ও শেষ পর্বে তুলে ধরা হয়েছে নতুন কমিশনের সামনে থাকা প্রধান চ্যালেঞ্জ, আস্থা পুনর্গঠনের রূপরেখা এবং শিল্পায়নে পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা।
কেন আস্থা হারিয়েছে বাজার
বিশ্লেষকদের মতে, গত দেড় দশকে দেশের পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে নীতির ধারাবাহিকতা না থাকায়। কখনো ফ্লোর প্রাইস, কখনো সার্কিট ব্রেকারের পরিবর্তন, কখনো মার্জিন ঋণের নীতিতে হঠাৎ সংশোধন এসব সিদ্ধান্ত বাজারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শেয়ার কারসাজি, দুর্বল আইপিও যাচাই, দুর্বল নিরীক্ষা ব্যবস্থা এবং তালিকাভুক্তির পর অনেক কোম্পানির ব্যবসায়িক অবনতি। এর ফলে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
নতুন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএসইসির নতুন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বহু বছর ধরে জমে থাকা আস্থাহীনতার সংকট কাটিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠা করা। এটি কোনো একক সিদ্ধান্ত বা স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং ধারাবাহিক সংস্কার, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং নীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রথমত,দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বাজার কারসাজি চক্র ও ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত,দৃশ্যমান এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা আইনের কার্যকর প্রয়োগ দেখতে পান। একই সঙ্গে ব্রোকারেজ হাউস বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনঘন নীতি পরিবর্তনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন। পাশাপাশি আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই, দুর্বল ও অযোগ্য কোম্পানির তালিকাভুক্তি রোধ এবং তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের করপোরেট সুশাসন ও আর্থিক প্রতিবেদনের মান উন্নয়নে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো, গুজবনির্ভর বিনিয়োগ সংস্কৃতি কমাতে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণও নতুন কমিশনের সফলতার অন্যতম পূর্বশর্ত বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
আস্থা ফেরাতে কী করতে হবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, আস্থা কোনো ঘোষণায় ফিরে আসে না; ফিরে আসে কার্যকর পদক্ষেপে।
প্রথমত, আইনের প্রয়োগে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। কারসাজিকারী, প্রতারক ও নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যাতে নিরাপদ বোধ করেন, সে জন্য অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে।
তৃতীয়ত, কমিশনকে দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণা করে সেই অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে। ঘনঘন নীতি পরিবর্তনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
চতুর্থত, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করে প্রতিদিনের লেনদেন বিশ্লেষণ, গ্রাহকের অর্থ ও শেয়ারের নিরাপত্তা এবং সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
শিল্পায়নে পুঁজিবাজারের গুরুত্ব
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবাদরা মনে করেন,বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিতে শিল্পায়নের অন্যতম প্রধান অর্থায়নের উৎস পুঁজিবাজার। ব্যাংক সাধারণত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ঋণ দেয়, কিন্তু বৃহৎ শিল্প, অবকাঠামো এবং উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূলধন আসে পুঁজিবাজার থেকে।
বাংলাদেশে এখনো শিল্প খাতের অর্থায়নের বড় অংশ ব্যাংকনির্ভর। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে উঠলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান সহজে ইকুইটি মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে, ঋণের চাপ কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও টেকসই হবে।
একই সঙ্গে করপোরেট বন্ড, গ্রিন বন্ড ও সুকুক বাজারের সম্প্রসারণ বড় শিল্প ও অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। একটি সুশাসিত ও গতিশীল পুঁজিবাজার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন কমিশন কি পারবে আস্থা ফেরাতে?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীরা আশ্বাস নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান। বড় কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং বাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে ধীরে ধীরে আস্থা ফিরে আসতে পারে। তবে এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি প্রক্রিয়া নয়; ধারাবাহিক সংস্কার এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ভূমিকার মাধ্যমেই সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
তাদের মতে, নতুন কমিশনের সফলতা নির্ভর করবে তাদের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা, নিরপেক্ষতা এবং কঠোরতার ওপর। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবমুক্ত থেকে বাজার পরিচালনা করতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়, তাহলে ধীরে ধীরে আস্থা ফিরে আসতে পারে।
তবে বাজারের আস্থা রাতারাতি ফিরবে না। বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস দূর করতে লাগবে সময়, দৃশ্যমান সংস্কার এবং ধারাবাহিক সুশাসন।
আস্থা ফেরানোর রূপরেখা
বিশ্লেষকদের মতে, আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেবল নতুন নীতি ঘোষণা নয়, দৃশ্যমান সংস্কার জরুরি। এজন্য বাজারে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, শেয়ার কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মানসম্পন্ন কোম্পানিকে বাজারে তালিকাভুক্ত করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
অর্থনীতিবিদ ড. আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা। তাঁর মতে, কারসাজিকারীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিএসইসিকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির তালিকাভুক্তি, দুর্বল কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, আইপিও অনুমোদনে কঠোর যাচাই, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, নীতিগত স্থিতিশীলতা, বন্ড বাজারের বিকাশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও দক্ষ জনবল দিয়ে কমিশনের সক্ষমতা বাড়ানোরও পরামর্শ দেন। তাঁর ভাষায়,”সূচক কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে নয়, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বাজার কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং ও গুজবনির্ভর লেনদেনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতা, সময়মতো তথ্য প্রকাশ এবং করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর মতে, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিকে বাজারে আনার পাশাপাশি বাজারের তারল্য বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণ এবং করপোরেট বন্ড বাজারের বিকাশ ঘটানো গেলে পুঁজিবাজার শিল্পায়নের অন্যতম কার্যকর অর্থায়নের উৎসে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, “সূচকের সাময়িক ঊর্ধ্বগতি নয়, বরং স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশাসনভিত্তিক বাজারই বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের মূল চাবিকাঠি।”
ডিবিএর সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় সংকট মূলধনের নয়, আস্থার। তাঁর মতে, ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তনের কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিমালা অনুসরণ, করপোরেট গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করা, আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সব বিনিয়োগকারীর জন্য সমান তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পায়নের গতি বাড়াতে ব্যাংকঋণের বিকল্প হিসেবে করপোরেট বন্ড বাজার, এসএমই প্ল্যাটফর্ম এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আরও সক্রিয় করতে হবে। তাঁর মতে, একটি গভীর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুঁজিবাজারই দেশের টেকসই শিল্পায়নের ভিত্তি হতে পারে।
বিএসইসি নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও দক্ষ পুঁজিবাজার ছাড়া টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব নয়। তিনি স্বীকার করেন, অতীতের নানা অনিয়ম ও সুশাসনের ঘাটতির কারণে বিনিয়োগকারীদের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে সেই আস্থা পুনর্গঠন করা সম্ভব। তাঁর ভাষায়, কমিশন বাজারে সব ধরনের কারসাজির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে এবং কোনো দুর্বল বা নামসর্বস্ব কোম্পানি যাতে অনিয়মের মাধ্যমে বাজারে এসে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণ না হয়, সে জন্য আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি বন্ড বাজারের বিকাশ, মানসম্মত মিউচুয়াল ফান্ড সম্প্রসারণ, মার্জিন ঋণ ব্যবস্থার সংস্কার এবং কমিশনের স্বাধীন ও পেশাদার কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর মতে, যখন বাজারে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং বিনিয়োগকারীদের ন্যায্য স্বার্থ নিশ্চিত হবে, তখনই পুঁজিবাজারে প্রকৃত আস্থা ফিরে আসবে।
এএ
- ১সাউথইস্ট ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ২প্রবাসীদের ভোটব্যবস্থা নিয়ে আজ ইসির বৈঠক
- ৩ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ৪ভাত খেতে চাওয়ায় চোরের অপবাদ দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
- ৫ভরা মৌসুমে চাঁদপুরে মাছঘাটে প্রচুর পাঙ্গাস আমদানি
- ৬ঢাকাসহ দেশের ১৭ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা
- ৭চলতি অর্থবছরে ৫০ আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ
- ৮এক মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকা বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি
- ৯আস্থাহীন পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে পারবে কি নতুন কমিশন?
- ১০সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর
- ১ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে যা বললেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
- ২চাঁদপুরে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে বাড়ির মালিকের মৃত্যু
- ৩শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরল কমিটির হাতে
- ৪নবীনগরে সরকারি পুকুরপাড়ের লিজ নিয়ে বিতর্ক
- ৫পাথরঘাটায় তরুণী নিখোঁজ
- ৬ময়মনসিংহে ট্রাক চাপায় নারীসহ অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত
- ৭সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবুরের পরিবারকে সরকারি সহায়তা
- ৮শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিসিএসের স্বপ্নে প্রিয়ন্তী
- ৯মোদীর বাসভবন ঘিরে বিক্ষোভ, পদত্যাগ দাবি
- ১০প্রবাসী কার্ডে মিলবে প্রায়োরিটি চেক-ইন ও বোর্ডিং সুবিধা





পাঠকের মতামত