গিয়াস উদ্দিন, সম্পাদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬ ৮:০০ এএম , আপডেট: জুলাই ১৯, ২০২৬ ৫:০২ পিএম
  • তিন দশকের সংকটে গভীর আস্থাহীনতায় দেশের পুঁজিবাজার
  • ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের ধসের সুপারিশের অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি
  • ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর আর্থিক প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা
  • বিএসইসির ঘনঘন নীতিগত পরিবর্তনে বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে
  • ফ্লোর প্রাইস, মার্জিন ঋণ ও আইপিও নীতির পরিবর্তনে আস্থা কমেছে
  • আইন থাকলেও বাস্তবায়নের দুর্বলতায় বিনিয়োগকারী সুরক্ষা প্রশ্নের মুখে

আজ থেকে তিন দশক আগে মতিঝিলের ফুটপাত থেকে শুরু করে ব্রোকারেজ হাউজের উপচে পড়া ভিড়ে যে মানুষগুলো জীবনের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে এসেছিলেন, তাদের চোখে ছিল স্বপ্ন। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই স্বপ্নগুলো কেবলই এক ধূলিসাৎ হওয়া ইতিহাসের ধ্বংসস্তূপ। ১৯৯৬ সালের মহাধস, ২০১০ সালের রক্তক্ষরণ, আর তার পরবর্তী দেড় দশকের অন্তহীন লুটপাট, অর্থ আত্মসাৎ এবং নীতিনির্ধারকদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখন এক গভীর আস্থার সংকটে নিমজ্জিত।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্পায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সরবরাহ এবং জনগণের সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবে এই বাজার বহু সময় পরিণত হয়েছে আস্থা হারানোর এক বেদনাদায়ক উদাহরণে।

দেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের সংকট, নীতিগত দুর্বলতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং উত্তরণের সম্ভাব্য পথ নিয়ে দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিন শুরু করেছে বিশেষ ধারাবাহিক “পুঁজিবাজার: সংকটের শেকড়, উত্তরণের পথ”। আজ প্রকাশিত হলো তৃতীয় পর্ব। তৃতীয় পর্বে উঠে এসেছে ‘কার কাছে নিরাপদ বিনিয়োগকারীরা’।

আস্থার সংকটের সূচনা

১৯৯৬ সালের পুঁজিবাজারের ধস ছিল দেশের প্রথম বড় শিক্ষা। হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়েছিলেন। তদন্ত কমিশন বাজার কারসাজি, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করলেও অধিকাংশ সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।

এরপর দীর্ঘ সময় পার না হতেই ২০১০-১১ সালে আরও ভয়াবহ ধস নামে। বাজার মূলধনের বিপুল অংশ উধাও হয়ে যায়। লাখ লাখ বিনিয়োগকারী পথে বসেন। বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সেই ধসের তদন্তে গঠিত খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদনে বাজার কারসাজি, অতিমাত্রায় মার্জিন ঋণ, আইপিও অনিয়ম, দুর্বল তদারকি এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ভূমিকার কথা উঠে আসে। কিন্তু সেই প্রতিবেদনও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

আর্থিক প্রতিবেদনে কারসাজি: কাগজে লাভ, বাস্তবে লোকসান

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একজন বিনিয়োগকারীর প্রধান ভরসা হলো কোম্পানির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন। কিন্তু বছরের পর বছর অভিযোগ রয়েছে, অনেক কোম্পানি আইপিওর আগে মুনাফা ও সম্পদের মূল্য অতিরঞ্জিত করে, দায় গোপন করে কিংবা কাল্পনিক আয় দেখিয়ে নিজেদের আর্থিক অবস্থাকে শক্তিশালী হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানও এসব প্রতিবেদনে প্রত্যয়ন দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন।

অনেক কোম্পানি আকর্ষণীয় আর্থিক তথ্য প্রকাশ করে উচ্চ প্রিমিয়ামে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করেছে। কিন্তু তালিকাভুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই দেখা গেছে, কোম্পানির উৎপাদন কমে গেছে, ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে বা প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে ডুবে গেছে। এ সময় উদ্যোক্তা ও প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বেরিয়ে গেলেও ক্ষতির ভার বহন করতে হয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কারণ একজন বিনিয়োগকারী যে তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন, সেই তথ্যই যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে পুরো বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নিরীক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহি বাড়ানো, ভুয়া আর্থিক তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর তথ্য প্রকাশে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। একই সাথে প্রশ্ন উঠেছে,যে আর্থিক প্রতিবেদন দেখে মানুষ বিনিয়োগ করে, সেই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করবে কে?

ব্রোকারেজ হাউস: নিরাপদ অভিভাবক, নাকি নতুন ঝুঁকি? ৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর ৫৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রথম আশ্রয়স্থল ব্রোকারেজ হাউস। অথচ গত দুই দশকে একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে গ্রাহকের শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, বিনিয়োগকারীর সম্মতি ছাড়া লেনদেন, এমনকি পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের শেয়ারও অনিয়মের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে। বহু বিনিয়োগকারী বছরের পর বছর আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারে ঘুরলেও অর্থ ফেরত পাননি।

সাম্প্রতিক সময়ে ডিএসই ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংঘটিত অনিয়ম তদন্তে নেমেছিলো। ডিএসইর তদন্তে ভয়াবহ অবস্থা উঠে এসেছে।

দেশের পুঁজিবাজারে সাতটি ব্রোকারেজ হাউস ভুয়া ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ও নানা কারসাজির মাধ্যমে প্রায় ৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর ৫৬৩ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি অর্থ ও শেয়ার আত্মসাৎ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ১৬১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে মশিউর সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে। এছাড়া তামহা সিকিউরিটিজে ১৩৯ কোটি ৭০ লাখ, সালতা ক্যাপিটালে ১০০ কোটি ৫২ লাখ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে প্রায় ৮০ কোটি (নিরীক্ষা অনুযায়ী ১০৫ কোটি), বাংকো সিকিউরিটিজে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ, শাহ মোহাম্মদ সগীর সিকিউরিটিজে ১৩ কোটি ১৬ লাখ এবং ব্লু চিপ সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে গ্রাহকের শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে ডিএসইর প্রতিবেদনে মোট আত্মসাতের পরিমাণ ৬৫০ কোটি টাকার বেশি উল্লেখ করা হলেও বাকি অর্থের উৎস স্পষ্ট করা হয়নি।

তদন্তে দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত সফটওয়্যারের পরিবর্তে ভুয়া ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডিএসই ও গ্রাহকদের কাছে ভিন্ন তথ্য দেখানো হতো। পাশাপাশি সিডিবিএলের সিস্টেমে গ্রাহকের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে নিজেদের নম্বর যুক্ত করে অজান্তেই শেয়ার বিক্রি ও অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় বিএসইসি সব ব্রোকারেজ হাউসে অপরিবর্তনযোগ্য ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার চালুর নির্দেশ দিলেও ডিএসইর তথ্যে দেখা গেছে, এখনো ২৪টি প্রতিষ্ঠান পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করছে এবং ১৩৫টি ব্রোকারেজ হাউস গ্রাহকদের লেনদেন-সংক্রান্ত এসএমএস বা ই-মেইল পাঠায় না।

নিয়ন্ত্রকের নীতির ঘনঘন পরিবর্তন

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কখনও ফ্লোর প্রাইস, কখনও সার্কিট ব্রেকার, কখনও মার্জিন ঋণের নিয়ম, কখনও আইপিও নীতি, আবার কখনও মিউচুয়াল ফান্ড বা জেড ক্যাটাগরি নিয়ে সিদ্ধান্ত ঘন ঘন নীতিগত পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

বাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পূর্বানুমানযোগ্য নীতি। কিন্তু যখন নিয়ম বারবার পরিবর্তিত হয়, তখন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়ে।

আইপিও বাজারেও প্রশ্ন

অনেক কোম্পানি অতিরঞ্জিত মূল্যায়নের মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে শত শত কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু তালিকাভুক্ত হওয়ার কিছুদিন পরই সেই কোম্পানির ব্যবসা দুর্বল হয়ে পড়েছে, শেয়ারের দাম ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়লেও উদ্যোক্তা ও প্রি-আইপিও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ লাভ নিয়ে বেরিয়ে গেছে। এতে আইপিও যাচাই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বাজার কারসাজি: একই চিত্র, নতুন নতুন মুখ

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে প্রায় প্রতিটি বড় উত্থানের পরই কারসাজির অভিযোগ এসেছে। কোনো কোম্পানির প্রকৃত ব্যবসায়িক সক্ষমতা না বাড়লেও কৃত্রিমভাবে দাম কয়েকগুণ বাড়ানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, সংঘবদ্ধভাবে লেনদেনের মাধ্যমে মূল্য বাড়ানো—এসব ঘটনা বারবার ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত হয়েছে, কিছু জরিমানা হয়েছে, কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি খুব কমই হয়েছে।

বিনিয়োগকারী সুরক্ষায় কোথায় দুর্বলতা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আইন ও বিধিমালার অভাব নেই। দুর্বলতা মূলত বাস্তবায়নে। বিনিয়োগকারীর অর্থ সুরক্ষার জন্য পৃথক ক্ষতিপূরণ তহবিল কার্যকর নয়, বাজার কারসাজির মামলার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকে, আর্থিক প্রতিবেদনের মান নিশ্চিত করতে নিরীক্ষা ব্যবস্থায় এখনও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং স্বাধীন পরিচালকদের কার্যকর ভূমিকার অভাব।
কেন বারবার ফিরে আসে আস্থার সংকট?

প্রতিবার বাজারে ধসের পর তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। প্রতিবেদন হয়েছে। সুপারিশ এসেছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে একই ধরনের অনিয়ম নতুন রূপে বারবার ফিরে এসেছে। যে বিনিয়োগকারী ১৯৯৬ সালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, তার অনেকেই ২০১০ সালেও ক্ষতির শিকার হন। নতুন প্রজন্মের বিনিয়োগকারীরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

তাহলে নিরাপদ কার কাছে?

শাহাদাত হোসেন নামে একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন “আমার বিনিয়োগের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে কে?” কারণ তিনি কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না, ব্রোকারেজ হাউসের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকেন, নিয়ন্ত্রকের নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে নিশ্চিত নন এবং বাজার কারসাজি ঠেকানোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দীর্ঘ এক আস্থার সংকট সামনে আসে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনগত ব্যবস্থা থাকলেও পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত অনেক মামলা বছরের পর বছর নিষ্পত্তিহীন থেকে যায়। ফলে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির খুব কমই দেখা যায়।

অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের পরিবর্তে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এতে বাজারের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয় এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রোকারেজ হাউস, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজারের লেনদেনের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, তার কার্যকর বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহীদ বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, “পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হয়ে সুনাম ও সুশাসন নিশ্চিত করেছে এমন ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা উচিত।”

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, “বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, নিরাপদ ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার, নিয়মিত হিসাব সমন্বয় এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ডিবিএ বিএসইসি, ডিএসই ও সিডিবিএলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই।”

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, “বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ, স্বয়ংক্রিয় রিকনসিলিয়েশন এবং তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা নিশ্চিত হবে। এতে দ্রুত নজরদারি, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ আরও কার্যকর হবে।”

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, “বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশন প্রয়োজনীয় সংস্কার ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম জোরদার করছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ার ফেরতের বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আইন ও বিধিমালার প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে টেকসই আস্থা প্রতিষ্ঠাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।”

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

বিএসইসির কমিশনার হলেন হোসেন সাদাত

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার হলেন হোসেন সাদাত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ...

তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের সময় বাড়াল বিএসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে একজন স্বতন্ত্র নারী পরিচালক নিয়োগের সময়সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ...

বিএসইসি চেয়ারম্যান বিএসইসির নতুন বিধিমালায় পুঁজিবাজারে সুশাসন জোরদার হবে

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, প্রস্তাবিত করপোরেট গভর্ন্যান্স বিধিমালা, ২০২৬ ...

আইএমএফ-বিএসইসি বৈঠক টেকসই অর্থায়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ক্লাইমেট পলিসি ডায়াগনস্টিক টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স মিশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ...

সিএসই-৩০ ইনডেক্সে নতুন ৪ কোম্পানি যুক্ত

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিএসই-৩০ ইনডেক্স পুনর্গঠন করা হয়েছে। ...

পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বেড়েছে ৯০ শতাংশ

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে দীর্ঘদিন দেশের শেয়ারবাজারে দেখা দিয়েছিল মন্দাভাব। এই মন্দা কাটিয়ে ...