
প্রায় চার বছর উৎপাদন বন্ধ থাকার পর চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুরুতে ভিন্নধর্মী ব্যবসার মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছিল ইমাম বাটন লিমিটেড। উৎপাদনে ফিরেই চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদনে শেয়ারপ্রতি মুনাফার (ইপিএস) তথ্যে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) নীতিমালা অমান্য করে কোম্পানিটি। এছাড়া, কোম্পানির বিপক্ষে ফ্লোর ভাড়ার অর্থ যথাযথ ব্যবহার না করা, কর সমন্বয় না করা এবং স্বল্প মেয়াদি ঋণের নিষ্পত্তি না করার মতো অভিযোগ তুলেছে কোম্পানিটির নিরীক্ষা করা নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান। ইমাম বাটনের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে ভবিষতে এর কার্যক্রম আবারো বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানটি।
নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্য অনুসারে, ইমাম বাটন কর্তৃপক্ষ তাদের আর্থিক প্রতিবেদনের ২৫ নম্বর বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে কোম্পানির ফ্লোর স্পেস ভাড়া দেয়ার বিপরীতে অগ্রীম ১০ লাখ টাকা আদায় করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএএস) অনুসারে কোম্পানির এমন কোনো বিনিয়োগ সম্পত্তি নেই।
কোম্পানিটি অগ্রীম আয়কর বাবদ ৬৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪০৩ টাকা এবং বর্তমান কর দায় হিসেবে ৮৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৮ টাকা দেখিয়েছে। কিন্তু এ বিপুল পরিমাণ করের বিপরীতে কোম্পানি রিটার্ন সাবমিট করে তা সমন্বয় করেনি। কোম্পানিটি প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ হিসেবে নেয়া ৪৫ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৫ টাকাও সেটলমেন্ট না করে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁলিয়ে রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা সম্প্রতি এ কোম্পানিটির নিরীক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত হওয়ায় অনেক কিছুই সরজমিনে গিয়ে সতত্য যাচাই করতে পারেনি। কোম্পানি তার আর্থিক প্রতিবেদনে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মজুত পণ্য হিসেবে ১ কোটি ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৩৮ টাকা এবং লাইভস্টক হিসেবে ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৮০ টাকা পণ্য দেখিয়েছে। যদিও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এ মালামালের বিপরীতে সনদ ও তথ্য দিয়ে নিরীক্ষককে সহায়তা করেছে। তবে নিরীক্ষক উল্লেখিত সময় পরবর্তীতে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির বিলম্বিত এলসি খুলতে ৩১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৮৬ টাকা এবং ব্যাক টু ব্যাক এলসি খুলতে ২৬ লাখ ১৮ হাজার ২৮ টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে দেখানো হয়েছে। এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে কিনা তার সত্যতাও যাচাই করতে পারেনি নিরীক্ষক। কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামে প্রাইম ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে নেয়া ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার ১৫৮ টাকা দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সত্যতাও যাচাই করতে পারেনি এ নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান।
তবে নিরীক্ষক তার মতামতে জানায়, কোম্পানিটি ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে টানা কয়েক বছর বন্ধ ছিলো। অবশেষে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে কৃষি প্রকল্প ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবসায় ফিরেছে। এর ধারাবাহিকতায় মুনাফাও দেখিয়েছে। তবে কোম্পানিটি এসময়ে তাদের ইপিএস গণনায় এফআরসির নীতিমালা অনুসরন করেনি। আর কোম্পানির মূল ব্যবসা বাটন ইউনিটের কার্যক্রম মূলধন সংকটে বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিটি ৪ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ২৪৬ টাকার মূলধন নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে যে তথ্য দিয়েছে তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। যদিও কৃষি প্রকল্পের মাধ্যমে কোম্পানি পুনরায় ব্যবসায় ফিরেছে। তবে এসব প্রকল্প কোম্পানিকে ভবিষতে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া জেড ক্যাটাগরির এ কোম্পানির শেয়ারদর গত বছরের ৬ মার্চ ছিল ৮২ টাকা ৮০ পয়সা। আর বছরের ব্যবধানে এই শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৩ টাকা ৪০ পয়সায়। বছরের ব্যবধানে শেয়ারদর বেড়েছে ১০০ টাকা ৬০ পয়সা বা ১২১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তাতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার কোম্পানির বাজার মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১ কোটি ২২ লাখ টাকায়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল এমন একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম এভাবে বাড়া সম্ভব নয়। বিএসইসি ও ডিএসইর দুর্বলতার কারণে কারসাজি চক্রের ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়ত পুঁজি হারাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে পুঁজিবাজার হচ্ছে অস্থির। বাজারের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা।
এ ব্যাপারে জানতে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এএসএম হাসিব হাসানের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি তা ধরেননি।
তবে ইমাম বাটনের কোম্পানি সচিব মো. জামিল হোসেন বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের কোম্পানি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জের নির্দেশনা মেনে গত বছর থেকে পুনরায় চালু করা হয়েছে। বিগত বছরের এজিএমগুলো করা হয়েছে। কৃষি প্রকল্প দিয়ে আমাদের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা এখন জুতার ব্যবসায় মাধ্যমে কোম্পানিকে নতুনভাবে সাজাতে কাজ করছি। আশা করছি, শিগগিরই সংকট কাটিয়ে ভালো মুনাফায় ফেরা সম্ভব হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সাবেক পর্ষদের কারণে এখনো কিছু বিষয়ে অসঙ্গতি রয়ে গেছে। সাবেক এমডিকে কয়েকবার বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করে চিঠি দেয়া হলেও জবাব পাওয়া যায়নি। এগুলো ঠিক করতে আমরা কাজ করছি।’
কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী ইমাম। তিনি চট্টগ্রাম ভিত্তিক ইমাম গ্রুপের মালিক। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ৮০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা ৫৫টি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে যান।
কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৪ দশমিক ১২ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আর বাকি ৫৮ দশমিক ৭১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
এএ
- ১রাজনগর চা বাগানে দুইজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
- ২ফলের দাম কমাতে ১০০ শতাংশ নগদ জমার বাধ্যবাধকতা বাতিল
- ৩রায়পুরা থানায় দুটি পুলিশ ভ্যান উপহার দিলেন এমপি আশরাফ
- ৪সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এমপির গাড়ি ভাঙচুর, মামলা
- ৫খালেদার জন্মদিনে কৃষি ব্যাংকে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের দোয়া মাহফিল
- ৬ইউজিসির অডিটে বেরোবির ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়ম
- ৭গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- ৮সরিষাবাড়ীতে নির্মাণের ২ মাসের মাথায় ধসে পড়ল গাইড ওয়াল
- ৯যবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো ‘স্টুডেন্ট হ্যান্ডবুক’ এর মোড়ক উন্মোচন
- ১০নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক র্যালী ও আলোচনা সভা
- ১আজ কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- ২কমোডিটি এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম ও সম্ভাবনা নিয়ে সিএসইর সেমিনার
- ৩নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে : প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
- ৪রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই আজ
- ৫শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর
- ৬মানিকগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত
- ৭প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা
- ৮রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ
- ৯কাঁটাময় শরীরে কোমল ফুল, শ্রীমঙ্গলে নতুন বিস্ময় ‘ক্যাকটাস’
- ১০জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী





পাঠকের মতামত