বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১০:০৪ এএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের কক্ষে হট্টগোল, ভাঙচুর, হেনস্তা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ ওঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে গতকাল ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ছাত্রদল।

রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, টিএসসিসি ও কয়েকটি বিভাগে এসব ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা ফেসবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক ও তিন কর্মকর্তাকে হেনস্তা এবং তাদের কক্ষ ও অফিসে ভাঙচুর করেছেন।

এদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার ইব্রাহিম হোসেন সোনার কক্ষে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সেখানে তার কক্ষ ভাঙচুর ও তাকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদের কাছে গিয়ে তাকে হুমকি দেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। এরপর টিএসসিসি’র সহকারী রেজিস্ট্রার বিপুল আহমেদের কক্ষে গিয়ে তাকে মারধর ও টেবিল ভাঙচুর করা হয়।

পরে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতির কক্ষে গিয়ে সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করে দলটির নেতাকর্মীরা। ধারাবাহিকভাবে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও চিহ্নিত আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ড. মাহবুবুর রহমানের কক্ষে গিয়ে তাকে হুমকি, হেনস্তা ও টেবিল ভাঙচুর এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্যাম্পাসে না আসারও হুমকি দেওয়া হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এসকল ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ তৌফিক, আব্দুল্লাহ আল মামুন; সদস্য রেজাউল ইসলাম রাকিব, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহরিয়ার রশিদ নিলয়, খালেদ সাইফুল্লাহ; কর্মী রাহি, সাবিক, উল্লাস মাহমুদ, নাঈম, সিজান ও সাগর আলীসহ প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মীর জড়িত ছিলেন।

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. উম্মে সালমা লুনা বলেন, আমার কক্ষে এসে তারা এই ঘটনা করেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। পাশাপাশি যাওয়ার সময়ে তারা আমার কিছু শিক্ষার্থীকেও হেনস্তা করেছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি গতকাল ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আমি বঙ্গবন্ধুর একটা ছবি যুক্ত করে বিনম্র লিখে একটা ফেসবুক পোস্ট করেছিলাম। কয়েকজন এসে আমাকে আমার পার্সোনাল রুমে যেতে বলে। তখন আমি তাদেরকে বলি যেহেতু একটা মিটিংয়ে আমি তোমাদের যা বলার এখানে বলো। তখন তাদের একজন বলল চেয়ার ধরে নিয়ে চলো। তারপর দুইজন আমার চেয়ার ধরে উঁচু করার চেষ্টা করেছিল। তারপর বলে নিচে গেলে দেখবো, কালকে থেকে যেন ডিপার্টমেন্টে না আসা হয়।

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদ বলেন, দুপুরের সময় আমি অফিসে বসে ছিলাম। তারা হঠাৎ এসে বলে— তুই মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক জানিয়ে পোস্ট দিছিস কেন? তুই আর এখন থেকে ক্যাম্পাসে আসবি না। এরপর তারা আমার দিকে একটি প্লেট ছুড়ে মারে।

অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, যেহেতু ঘটনাটি প্রক্টরের বিভাগে হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ বিষয়ে ভালো জানেন। তার সাথে কথা বলেন।

এবিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, গতকাল ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগকে নিয়ে পোস্ট করে শান্ত ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তা রুখে দিতে ছাত্রদল সবসময়ই প্রস্তুত আছে। যেগুলো আমাদের নজরে এসেছে, আমরা সেগুলোর বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে প্রয়োজনে আমরা আইন হাতে তুলে নেব। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয় তবে আমাদেরই আইন হাতে তুলে নিতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে শেখ মুজিবের ছবি টাঙানোর সাহস কোথায় থেকে পায় এই ফ্যাসিস্ট শিক্ষরা?

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনার পরপরই নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিছু চিহ্নিত আওয়ামীপন্থী শিক্ষক শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়েছিল। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এমনটা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে ডেকে কথা বলেছি। তারা বিষয়টিতে ভুল স্বীকার করেছে। আমি আশা করছি, তারা ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য আইন রয়েছে। কেউ আইন লঙ্ঘন করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। কোনো ব্যক্তি বা ছাত্রসংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তার ওপর চড়াও হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে কেউ পোস্ট দিয়ে থাকলে এবং তা প্রমাণিত হলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে ইবিতে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে শহীদ আব্দুল মালেকের স্মরণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ...

ইউজিসির অডিটে বেরোবির ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়ম

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বাজেট অ্যাসেসমেন্ট টিমের নিরীক্ষায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) আর্থিক কার্যক্রমে প্রায় ...

যবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো ‘স্টুডেন্ট হ্যান্ডবুক’ এর মোড়ক উন্মোচন

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অধ্যয়নরত ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের আটটি অনুষদের অন্তর্ভূক্ত ৩৮টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ...

বেরোবিতে স্নাতক পাসের আগেই জালিয়াতি করে সোহানের চাকরি, এবার স্থায়ীকরণের উদ্যোগ

স্নাতক পাসের আগেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরিতে যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ...

ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় জরুরি বৈঠকে সাংবাদিকদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গত ৪ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’-এর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিবির ও ...

ইউজিসি সদস্য মামুন প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির চালিকাশক্তি হবে তরুণরা

কৃষির আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণদের, বিশেষ করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতায় ...