প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২১ ৬:৩৭ পিএম

শিশুদের কল্যাণে নিবেদিত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন। বাংলাদেশে এর পথচলার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী উৎসব ও নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে সংস্থাটি। সম্প্রতি রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

শুক্রবার (১ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানের খবর জানায় সংস্থাটির।

এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পতাকা উত্তোলন, ৫০ বছরের থিম সং ও লোগো উদ্বোধন, বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন, তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। আইসিসিবিতে শুক্রবারও নানা আয়োজনে এ উৎসবটি উদযাপন করবে সংস্থাটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম তরিকুল ইসলাম। ওয়ার্ল্ড ভিশনের ন্যাশনাল ডিরেক্টর সুরেশ বার্টলেটের সভাপতিত্বে দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র অপারেশনস ডিরেক্টর চন্দন জেড গোমেজসহ সারা দেশে কর্মরত ৮০০ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ উৎসবের আহ্বায়ক ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন আরবান প্রোগামের ডেপুটি ডিরেক্টর মঞ্জ মারিয়া পালমা

১৯৭০ সালে বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলে প্রলয়ংকারী সাইক্লোনে বিধ্বস্ত – বানভাসী মানুষের পাশে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে দাঁড়িয়েছিল ওয়ার্ল্ড ভিশন। হাতিয়া, মনপুরা, সন্দিপ ও ভোলাতে দুই লক্ষাধিক মার্কিন ডলারের জরুরী ত্রাণ সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে এই জনপদে পদচিহ্ন রাখে সংস্থাটি। ভোলার প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিঝড়ের পরের বছর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের ভারত সরকারের পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়ায় ওয়ার্ল্ড ভিশন। ১৯৭২ খিস্টাব্দ, যুদ্ধের পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আহব্বানে যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে আবার এগিয়ে আসে সংস্থাটি। ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল এবং সিলেটে দেশে ফেরা শরণার্থীদের জরুরী ত্রাণ দেওয়াসহ রাস্তাঘাট নির্মান, নলকূপ ও খাল খনন, স্কুল কলেজ ও ডিস্পেন্সারি নির্মাণের জন্য প্রায় দুই লক্ষ তেষট্টি হাজার মার্কিন ডলারের ত্রাণ সহায়তা প্রদান করে। একই বছর সংস্থাটি বর্তমান নেত্রকোনা জেলার বিরিশিরিতে এর কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। আর এর মাধ্যমে শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশে ওয়ার্ল্ড ভিশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

ওয়ার্ল্ড ভিশন অংশীদারিত্বে বিশ্বাসী একটি আন্তর্জাতিক খ্রিষ্টান উন্নয়ন সংস্থা , যার লক্ষ্য হল সৃষ্টিকর্তার প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে কথা, কাজ এবং জীবনাচরণের মধ্য দিয়ে দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, সমাজে ন্যায্যতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা। সংস্থাটি শিশুদের শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা ও জন সম্পৃক্ততা , স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন এবং জীবিকায়ণ ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচী পরিচালনা করে থাকে। আর এসব কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরির্বতন, নগর উন্নয়ন, জেন্ডার সমতা ও প্রতিবন্ধীব্যক্তির অন্তর্ভুক্তিকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন এবং এ্যাডভোকেসিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

আমির খসরুর নেতৃত্বে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি

দেশে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশ ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ ...

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ...

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপাতে ৯৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও ...

বিশ্বব্যাংক এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তিন গুণ বেশি

জেনারেটিভ এআই-এর কারণে উন্নত দেশগুলোতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ...