জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬ ৩:৫৩ পিএম , আপডেট: মে ৬, ২০২৬ ৩:৫৫ পিএম

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রাম। প্রকৃতির সবুজে ঘেরা এক শান্ত জনপদ। চারদিকে গাছপালা থাকলেও এই গ্রামের একজন মানুষ দেখেছিলেন ভিন্ন এক স্বপ্ন। তিনি চেয়েছিলেন,শুধু সবুজ নয়-সবুজের বুক চিরে ফুটে উঠুক কৃষ্ণচূড়ার উজ্জ্বল লাল, যেন পুরো গ্রাম একদিন রূপ নেয় এক অনন্য নান্দনিকতায়। স্বপ্নবাজ সেই মানুষটির নাম আমিনুল ইসলাম। ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল তার। সেই ভালোবাসা থেকেই শুরু হয় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। নিজের ব্যক্তিগত অর্থ,সময় ও শ্রম দিয়ে বছরের পর বছর ধরে গ্রামের বিভিন্ন রাস্তার ধারে,খোলা জায়গায়,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে লাগাতে থাকেন কৃষ্ণচূড়ার চারা। লক্ষ্য একটাই-লক্ষণদিয়াকে ‘কৃষ্ণচূড়া গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত করা। তিনি বিশ্বাস করতেন,কয়েক বছর পর গাছগুলো বড় হয়ে যখন ফুলে ভরে উঠবে,তখন লাল রঙে ঢেকে যাবে গ্রামের পথঘাট। সেই সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসবে মানুষ। সেই স্বপ্ন নিয়ে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১ হাজার কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগান তিনি। যত্নে করতে থাকেন। কিন্তু কিছুদিন যেতেই শুরু হয় দুর্বৃত্তদের নির্যাতন। গাছের গোড়ায় দেওয়া হয় বিষাক্ত কেমিকেল। ফলে ধীরে ধীরে মরতে থাকে গাছগুলো। ফলে প্রায় হাজারো গাছের মধ্যে টিকে আছে মাত্র ৫০টির মত গাছ। যা এলাকায় সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাছ লাগানোর সময় অনেকেই সহযোগিতা করলেও পরে সেই আগ্রহ আর দেখা যায়নি। কেউ কেউ গাছের ডাল ভেঙেছে,কেউ অবহেলায় নষ্ট করেছে,আবার কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি করেছে। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে সেই উদ্যোগের বড় একটি অংশ।

ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রকৃতিপ্রেমী আমিনুল ইসলাম বলেন,‘অনেক কষ্ট করে, নিজের টাকায় গাছগুলো লাগিয়েছিলাম। যত্ন করেছি। কিন্তু কিছু মানুষ গাছের গোড়ায় বিষ দিয়ে একে একে মেরে ফেলেছে। এটা শুধু গাছ ধ্বংস নয়, একটা স্বপ্ন ধ্বংস। যদি গাছগুলো বেঁচে থাকত,তাহলে আমাদের গ্রামটা আজ অনেক সুন্দর হতো। দেশের মানুষ এই গ্রামকে চিনত ‘কৃষ্ণচূড়া গ্রাম’ হিসেবে।’

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি সুজন বিপ্লব বলেন, ‘একজন মানুষের একক উদ্যোগে এমন একটি পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক প্রকল্প গড়ে উঠেছিল,যা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি হতে পারত একটি মডেল গ্রাম। এটি শুধু পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখত না,বরং গ্রামীণ পর্যটনেরও একটি সম্ভাবনা তৈরি করত।

তিনি মনে করেন,স্থানীয় প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল যদি শুরু থেকেই এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দিত, তাহলে হয়তো এতগুলো গাছ নষ্ট হতো না। এখনো বাকি যে গাছগুলো রয়েছে,সেগুলো রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও নজরদারি।’

এদিকে কৃষ্ণচূড়া গাছ রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, আমিনুল ইসলাম এ-বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, শুধু কৃষ্ণচূড়া নয়, আমিনুল ইসলামের ভালোবাসা ছড়িয়ে আছে সব ধরনের গাছের প্রতিই। নিজের বাড়িতে মা আখতার বানুর নামে একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন তিনি। সেই কেন্দ্রের চারপাশ সাজিয়েছেন বিভিন্ন ফলজ,বনজ ও ঔষধি গাছে। গাছপালায় ঘেরা এই বাড়িটিই এখন এলাকায় পরিচিত ‘গাছ বাড়ি’ নামে।

এনজে

শেয়ার

পাঠকের মতামত

সাতক্ষীরায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তররে বাজার তদারকি অভিযান

সাতক্ষীরায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তররে বাজার তদারকি অভিযানে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ...

ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীসহ অংশীজনদের নিয়ে পুষ্টি সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন

ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জিংকসমৃদ্ধ ফসলের গুণগত মান বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন ...

উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর খাবার নিয়ে নানা অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাঁতীতে অবস্থিত উল্লাপাড়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার ও ...

মাদকসেবী-বখাটেদের চিন্হিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে : সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আজিজ বলেছেন, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও মাদকদ্রব্য সমাজের ...

বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, চট্টগ্রামে এনসিপির শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আফতাব মজুমদার জয় নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ...