
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন–এর পূর্বাঞ্চলের শরণখোলা রেঞ্জ এখন যেন বনদস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। একদিকে দস্যুদের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের খবর মিলছে, অন্যদিকে থেমে নেই জেলে-মৌয়াল অপহরণ। বরং দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো।
বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বনের দক্ষিণাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অভিযান না থাকায় দস্যুরা অনেকটাই নিরাপদে বিচরণ করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সেই সুযোগে জেলে ও মৌয়ালদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ।
বুধবার (২০ মে) গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সাগরদীপ ছাপড়াখালী এলাকার নদী থেকে ৬ জেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দুর্ধর্ষ বনদস্যু “জাহাঙ্গীর বাহিনী”।
অপহৃতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—হাফিজুল (২৪), ফাইজুর (২০), বেল্লাল মীর (৩৫), ছলেমান (৪০), হাসিব (২১)
তাদের মধ্যে হাফিজুল ও ফাইজুর দুই ভাই। তারা শরণখোলা উপজেলা–এর উত্তর রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা। অপরদিকে হাসিব পাথরঘাটা উপজেলা–এর পদ্মাস্লুইস এলাকার বাসিন্দা।
এর মাত্র একদিন আগে, মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতেও সুন্দরবনের ফুসফুসের চর এলাকা থেকে আরও ১২ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় একই বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলোর মধ্যে “জাহাঙ্গীর বাহিনী” সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী। তাদের কাছে রয়েছে বিপুল অস্ত্র এবং সদস্য সংখ্যাও অন্য বাহিনীর তুলনায় বেশি। ফলে জেলে-মৌয়ালদের কাছে তারা এখন এক মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।
রাজাপুর এলাকার এক জেলে-মহাজন জানান, রাত ১২টার দিকে ছাপড়াখালী এলাকার নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেদের ট্রলার ও নৌকায় হানা দেয় দস্যুরা। পরে অস্ত্রের মুখে ৬ জেলেকে তুলে নিয়ে যায় তারা।
তিনি বলেন, “একটার পর একটা অপহরণের ঘটনায় জেলেরা এখন বনে যেতে ভয় পাচ্ছে। মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে মুক্তিপণের টাকা দিতে দিতে ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।”
স্থানীয় জেলে ও মহাজনরা সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে আগের মতো র্যাবের বিশেষ অভিযান পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমান জানান, একদিন আগে অপহৃত ১২ জেলের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই আবারও ৬ জেলে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন,“জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন বিভাগ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের দক্ষিণাঞ্চলে নিয়মিত ও শক্তিশালী অভিযান না থাকায় দস্যুরা আবারও সংগঠিত হয়ে উঠছে। ফলে উপকূলীয় দরিদ্র জেলে পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
জেলে-মৌয়ালদের দাবি, শুধু আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান নয়—সুন্দরবনে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন টানা ও সমন্বিত অভিযান।
টিআর
- ১সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ফ্ল্যাট থেকে দেড় হাজার বিলাসবহুল পণ্য উদ্ধার
- ২সরিষাবাড়ীতে কাঁচা রাস্তা সংস্কার ও ড্রেনেজ কাজের উদ্বোধন
- ৩ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
- ৪যবিপ্রবিতে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’ উদযাপিত
- ৫রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে
- ৬জুলাইয়ের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে : রিজভী
- ৭সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মৎস্য আড়ত ইজারার দাবিতে মানববন্ধন
- ৮অপতথ্য প্রচারের অভিযোগে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম স্থগিত
- ৯ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৭২
- ১০টাঙ্গন নদীর ভাঙনে ঠাকুরগাঁওয়ে বিলীন ১৭টি ঘর
- ১চাঁদপুরে এক কালভার্ট বদলে দেবে ৮ গ্রামের মানুষের জীবন
- ২মে মাসে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় ধাক্কা
- ৩কেশবপুরে দুই দিনব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- ৪কমলগঞ্জে মনিপুরি গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
- ৫সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
- ৬রণক্ষেত্র দিল্লি: ভারতের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় আন্দোলনের’ ডাক সিজেপির
- ৭প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ, সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস
- ৮প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন রাশেদ খাঁন
- ৯বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করতে জনবল-প্রযুক্তি-অস্ত্র বাড়ানো হবে
- ১০আসাদুজ্জামান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী





পাঠকের মতামত