প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২২ ১:২৫ পিএম , আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০২২ ১:২৫ পিএম

“বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহা সুখে অট্টালিকার পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে”- কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী ছড়াটির নায়ক, আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি আজ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

কালের আবর্তনে বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে তালের পাতায় মোড়ানো নিপুণ কারুকার্য খচিত বাবুই পাখি ও তার বাসা। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বাবুই পাখির বাসা এখন বিলীন হতে চলেছে।

অথচ আজ থেকে এক যুগ আগেও গ্রাম-গঞ্জের মাঠ-ঘাটের তাল গাছে দেখা যেত এদের বাসা। চমৎকার বাসা বুনে বাস করায় এ পাখির পরিচিতি বিশ্বজোড়া। এক সময় বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দে গ্রাম বাংলার মানুষের সকালবেলা ঘুম ভাঙতো। বৈরী আবহাওয়া ও পরিবেশের কারণে এখন আর তা হয় না।

শিল্পী এ পাখিকে নিয়ে কবি রজনী কান্ত সেন তার স্বাধীনতার সুখ কবিতায় লিখেছেন, বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকি কর শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহা সুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ-বৃষ্টি ঝড়ে। বাবুই হাসিয়া কহে, সন্দেহ কি তায়? কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়। পাকা হোক তবু ভাই, পরেরও বাসা, নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা।

কবির এই চিরচেনা বাবুই পাখির অস্তিত আজ হুমকির মুখে। বসবাস উপযোগী পরিবেশ না থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে শৈল্পিক বাসার কারিগর বাবুই পাখি।

কথিত আছে বাবুই পাখি নিজের বাসা উজ্বল রাখতে রাতে জোনাকি পোকা ধরে এনে বাসায় রাখে। এরা প্রতিটি তালগাছে প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি বাসা তৈরি করে। বাসা তৈরি করতে এদের সময় লাগে ১০-১২ দিন। তালপাতা, খড়, কুটা, ঝাউ, কাশবন ও লতা-পাতা দিয়ে বাবুই পাখি উঁচু তালগাছে বাসা বাঁধে। প্রবল ঝড় ও বাতাসে টিকে থাকে তাদের বাসা। বাবুই পাখির শক্তবুননের এ বাসা টেনেও ছেড়া কঠিন।

বাবুই পাখি সাধারণত বিভিন্ন ফসলের বীজ, ধান, বিভিন্ন প্রজাতির পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু ও রেনু খেয়ে জীবনধারণ করে।

পাখি প্রেমিক আসাদুল হক জানায়, অসংখ্য প্রজাতির পশু, পাখি, কীট-পতঙ্গ আমাদের পরিবেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বাবুই পাখি বিচরণ ধরে রাখার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।

আরেক পাখি প্রেমিক সিপন বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও পরিবেশের কারণে অনেক প্রাণি হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকগুলো বিলুপ্তির পথে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের আগ্রাসী কার্যকলাপের বিরূপ প্রভাবেই এরা হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে দেশের গ্রামাঞ্চলে এখনো হঠাৎ করেই চোখে পড়ে বাবুই পাখির বাসা।আমরা ছোটবেলায় বই এ পড়েছি বাবুই পাখির সম্পর্কে ছিল অনেক সুন্দর একটি কবিতা তবে এখন আর দেখা মিলে না বাবুই পাখির বাসার।

শেয়ার

পাঠকের মতামত

সাতক্ষীরায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তররে বাজার তদারকি অভিযান

সাতক্ষীরায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তররে বাজার তদারকি অভিযানে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ...

ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীসহ অংশীজনদের নিয়ে পুষ্টি সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন

ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জিংকসমৃদ্ধ ফসলের গুণগত মান বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন ...

উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর খাবার নিয়ে নানা অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাঁতীতে অবস্থিত উল্লাপাড়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার ও ...

মাদকসেবী-বখাটেদের চিন্হিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে : সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আজিজ বলেছেন, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও মাদকদ্রব্য সমাজের ...

বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, চট্টগ্রামে এনসিপির শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আফতাব মজুমদার জয় নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ...