২০২৫-২৬ অর্থবছর
রেমিট্যান্সের ৫২ শতাংশই ঢাকা বিভাগে, রংপুরে মাত্র ১ শতাংশ

- মোট রেমিট্যান্স ৩,৫৫৮ কোটি ৯৪ লাখ ডলার
- একক জেলা হিসেবে শীর্ষে ঢাকা ও তলানিতে লালমনিরহাট
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো বৈধ পথের রেমিট্যান্সে অর্ধেকেরও বেশি বা প্রায় ৫২ শতাংশ একাই আহরণ করেছে ঢাকা বিভাগ। অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রবাসী আয়ের গতি এখনও অত্যন্ত ধীরগতিতে আটকে রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে জেলা ও বিভাগওয়ারী এমন বড় ব্যবধান ফুটে উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৮ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে একক বিভাগ হিসেবে ঢাকা বিভাগে এসেছে ১ হাজার ৮৪৮ কোটি ১২ লাখ ডলার, যা মোট আহরিত রেমিট্যান্সের ৫১.৯৩ শতাংশ। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৯০৬ কোটি ২৮ লাখ ডলার এবং সবচেয়ে কম রংপুর বিভাগে ৩৮ কোটি ২৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ ১০ জেলা
বিদায়ী অর্থবছরে একক জেলা হিসেবে ১ হাজার ৩৪৭ কোটি ৪২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এনে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা জেলা। ব্যাংকের কর্পোরেট কার্যালয়গুলোর বড় অঙ্কের লেনদেন ঢাকা কেন্দ্রিক হওয়ায় এই জেলায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সবচেয়ে বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম জেলা। অর্থবছরজুড়ে চট্টগ্রামের প্রবাসীরা বৈধ পথে পাঠিয়েছেন ৩২৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলার, যা জেলাভিত্তিক রেমিট্যান্স আহরণে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে কুমিল্লা জেলা। মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় বিপুল সংখ্যক কর্মী কর্মরত থাকায় বিদায়ী অর্থবছরে কুমিল্লা জেলায় রেমিট্যান্স এসেছে ২০৮ কোটি ২৭ লাখ ডলার।
প্রবাসীদের পাঠানো আয় প্রাপ্তিতে চতুর্থ স্থানে আছে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট জেলা। গত অর্থবছরে সিলেটের প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন ১৫৮ কোটি ৯ লাখ ডলার। নোয়াখালী জেলা রেমিট্যান্স পাঠানোর দিক থেকে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। এক বছরে এই জেলার প্রবাসীরা দেশে স্বজনদের কাছে পাঠিয়েছেন ১০৭ কোটি ৫৭ লাখ ডলার।
তালিকার ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে ফেনী জেলা। তুলনামূলক ছোট জেলা হওয়া সত্ত্বেও ফেনীর প্রবাসীরা বিদায়ী অর্থবছরে পাঠিয়েছেন ৯৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। সপ্তম শীর্ষ জেলা হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। অর্থবছরজুড়ে এই অঞ্চলের প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠিয়েছেন ৯১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এ তালিকায় অষ্টম অবস্থানে রয়েছে চাঁদপুর জেলা। নদীবেষ্টিত ও প্রবাসীপ্রবণ এই জেলার স্বজনরা বিদায়ী অর্থবছরে গ্রহণ করেছেন ৭৯ কোটি ৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। শীর্ষ দশের নবম স্থানটি নিজেদের করে নিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা। এক বছরে টাঙ্গাইলের প্রবাসীরা বৈধ উপায়ে দেশে পাঠিয়েছেন ৬৪ কোটি ১৮ লাখ ডলার।
রেমিট্যান্স আহরণে দেশের শীর্ষ ১০ জেলার তালিকায় দশম স্থানে অবস্থান করছে মুন্সীগঞ্জ জেলা। বিদায়ী বছরে মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৬০ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।
রেমিট্যান্স আহরণে সর্বনিম্ন ১০ জেলা
দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে রেমিট্যান্স পাঠানোর দিক থেকে সবার শেষে অবস্থান করছে লালমনিরহাট জেলা। বিদায়ী অর্থবছরে এই জেলায় মাত্র ১ কোটি ৮৩ লাখ ডলার এসেছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পঞ্চগড় জেলা এবং এই জেলা প্রবাসীর বিগত ১ বছরে বৈধ পথে দেশে পাঠাতে পেরেছেন মাত্র ২ কোটি ডলার। পার্বত্য জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম রাঙ্গামাটি রয়েছে শেষের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে। পাহাড়ি এই জেলায় গত অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো আয় পৌঁছেছে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার। পার্বত্য চট্রগ্রামের বাকি দুই জেলা বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির অবস্থান যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে। এই দুই জেলার প্রবাসীরা সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে যথাক্রমে ২ কোটি ২৭ লাখ ডলার ও ৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম পিছিয়ে পড়া জেলা ঠাকুরগাঁও রয়েছে তলানির ষষ্ঠ স্থানে। অর্থবছরজুড়ে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠাতে পেরেছেন ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সর্বনিম্ন ১০ জেলার তালিকায় সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলা। বিদায়ী বছরে এই জেলার স্বজনরা বৈধ পথে পেয়েছেন ৪ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।
অষ্টম সর্বনিম্ন রেমিট্যান্সপ্রাপ্ত জেলা হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে জয়পুরহাট জেলা। বিদায়ী অর্থবছরে জয়পুরহাটের প্রবাসীরা দেশে স্বজনদের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছেন ৪ কোটি ৫৭ লাখ ডলার।
উত্তরবঙ্গের প্রধান বৈষম্যের শিকার কুড়িগ্রাম জেলা তলানি থেকে নবম স্থানে রয়েছে। অর্থবছরজুড়ে কুড়িগ্রামের প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে পাঠিয়েছেন ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স পাওয়া ১০টি জেলার মধ্যে দশম স্থানে অবস্থান করছে নীলফামারী জেলা। বিদায়ী অর্থবছরে নীলফামারীর প্রবাসীরা দেশে পাঠাতে পেরেছেন ৪ কোটি ৯৯ লাখ ডলার।
ব্যবধানের কারণ ও প্রতিকার
খাত সংশ্লিষ্ট ও অর্থনীতিবিদদের মতে, বিভাগ ও জেলাগুলোর মধ্যে প্রবাসী আয়ের এই বিশাল ব্যবধানের প্রধান কারণ হলো উত্তরবঙ্গ ও পার্বত্য অঞ্চল থেকে বিদেশে যাওয়া অভিবাসীদের বড় অংশই অদক্ষ বা স্বল্পদক্ষ, ফলে তাদের আয়ের হার কম। বিপরীতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীরা তুলনামূলক বেশি বেতনে কাজ করছেন। এছাড়া ঢাকার ব্যাংকিং প্রধান কার্যালয়ের কর্পোরেট অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা জমা হওয়া এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবার অপ্রতুলতা ও হুন্ডির প্রাদুর্ভাবের কারণে এই বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এটি নিরসনে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোতে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন ও সহজ শর্তে অভিবাসন সুবিধা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এএ
- ১এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসককে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের শুভেচ্ছা
- ২কমিউনিটি ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ইমতিয়াজ উদ্দিন
- ৩কারিগরি শিক্ষা ও বৃত্তিতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী
- ৪হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬৭
- ৫প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক চলছে
- ৬গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুতের বিকল্প নেই
- ৭গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে বসবে সৌর প্যানেল
- ৮প্রবাসীদের সঞ্চয়কে নিরাপদ ও লাভজনক করতে চালু করেছি ‘বীর’ প্ল্যাটফর্ম
- ৯মধ্যপ্রাচ্যে কমছে জনশক্তি রপ্তানি, বাড়ছে ইউরোপে
- ১০প্রবাসী আয়ে শীর্ষে ফিরলো ইসলামী ব্যাংক
- ১পদ-পদবী সংকটে মানবেতর জীবন এমপিওভুক্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের
- ২জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৮৫ বিলিয়ন ডলার
- ৩শিগগিরই ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেতৃত্বের দৌড়ে কারা এগিয়ে?
- ৪বিজয়নগরে জোরপূর্বক বৃদ্ধের জায়গা দখলের অভিযোগ
- ৫প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে পাবনায় মানববন্ধন
- ৬চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন
- ৭ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নিঃস্ব হাজারো পরিবার, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি
- ৮আমি হত্যার পক্ষে নই, এজন্যই ইরানের সঙ্গে চুক্তি চাই : ট্রাম্প
- ৯তিস্তা ও অর্থনৈতিক করিডর উদ্যোগ বাস্তবায়নে আশাবাদী চীন
- ১০নতুন মন্ত্রিসভায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চাঁদপুর তিন আসনের এমপি মানিক





পাঠকের মতামত