প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২২ ৭:২৪ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দর ও বন্দর সহযোগী স্থাপনার নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখতে বাংলাদেশে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র কোস্টগার্ডের একটি প্রতিনিধিদল। আন্তর্জাতিক বন্দর নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড এই পরিদর্শনে এসেছে।

পরিদর্শনে নিরাপত্তাব্যবস্থার কোনো ঘাটতি শনাক্ত হলে তা বাস্তবায়নের সুপারিশ করবে সংস্থাটি। আগামী আগস্টে চূড়ান্ত পরিদর্শনে আসবে সংস্থাটি। সেই পরিদর্শনে বড় ধরনের কোনো ঘাটতি শনাক্ত হলে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাবে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ডের এই সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এমন সময় কোস্টগার্ডের সদস্যরা নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখতে এসেছেন, যখন সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। ডিপোর ১০০ কনটেইনার পুড়ে গেছে। রপ্তানি পণ্য মূলত ডিপোতে কনটেইনার বোঝাই করে বন্দরে এনে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়।

পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, রপ্তানির বড় অংশের গন্তব্য ইউরোপ–আমেরিকা। এসব দেশে পণ্য রপ্তানিতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সব সময় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাদের পর্যবেক্ষণগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা দরকার।

যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে, সেসব দেশে ‘আন্তর্জাতিক বন্দর নিরাপত্তা কর্মসূচি’র আওতায় বন্দর ও বন্দরসহায়ক স্থাপনার নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থা–সংক্রান্ত আইএসপিএস কোড (জাহাজ ও বন্দর স্থাপনার নিরাপত্তাঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম) বাস্তবায়নকে প্রাধান্য দেয় তারা। সমুদ্রে নাবিকদের জীবনের নিরাপত্তাবিষয়ক কনভেশন সেফটি অব লাইফ অ্যাট সি বা সোলাসের আওতায় আইএসপিএস কোড রয়েছে। ২০০৪ সালের ১ জুলাই থেকে এই কোড বাস্তবায়ন শুরু হয় বাংলাদেশেও।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসেছে। আজই তারা বন্দর পরিদর্শন করেছে। দলটির আগামীকাল বুধবার বন্দরসহায়ক স্থাপনা পরিদর্শনের কথা রয়েছে। পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদল তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবে।

এর আগে ২০১৭ সালে বন্দর পরিদর্শন করে মার্কিন প্রতিনিধিদলটি ১৬ দফা পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। সেই ১৬ দফা পর্যবেক্ষণের বাস্তবায়ন অগ্রগতি দেখতে ২০১৯ সালে পরিদর্শনে আসে তারা। তখন বন্দরের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিনিধিদলটি। এরপরও সাইবার নিরাপত্তায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানায়। আবার পণ্য খালাস নিতে আসা গাড়ির চালক ও সহকারীদের দীর্ঘ সময় বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থানকে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে তারা। করোনার কারণে দুই বছর বন্দর পরিদর্শন করেনি প্রতিনিধিদলটি। তাই এবারের পরিদর্শনে নিরাপত্তাসংক্রান্ত সব কটি বিষয় যাচাই করার কথা রয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মানুষ ও যানবাহন আসা-যাওয়ার ফটকে উন্নত মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু, রপ্তানি পণ্যের স্ক্যানিং কার্যক্রম, বন্দর এলাকায় সিসিটিভির আওতা বাড়ানো, সীমানাদেয়াল তদারকিতে ক্যামেরা বসানো, জেটি এলাকা থেকে পণ্য খালাস সরিয়ে নেওয়া, সন্দেহভাজন গাড়ি দৈবচয়ন ভিত্তিতে যাচাইয়ের মতো অনেকগুলো বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তুলে ধরেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড। এর মধ্যে অনেকগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। রপ্তানি পণ্য স্ক্যানিংয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল যেসব পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল, তার বেশির ভাগই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা স্ক্যানার যন্ত্র সংগ্রহের দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে। শিগগিরই তা সংগ্রহ করে রাজস্ব বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করা হবে। রপ্তানি পণ্য স্ক্যানিংয়ের আওতা বাড়বে।

অন্যদিকে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো সমিতির সভাপতি নুরূল কাইয়ূম খান বলেন, বেসরকারি ডিপোগুলোতে আইএসপিএস কোড বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর আগেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টকার্ডের প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছিল। পোশাকের বিদেশি ক্রেতারাও নিয়মিত নিরীক্ষা করেন ডিপোগুলো। তাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

 

বিপি/ আইএইচ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনা জেলা প্রশাসন আর বিএসবিআরএ তদন্ত কমিটি গঠন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৯ সদস্যের তদন্ত ...

চট্টগ্রামে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিক, ৩ শ্রমিকের মৃত্যু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের ঘটনায় তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ...