জাহাঙ্গীর আলম আনসারী, সিনিয়র রিপোর্টার
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ১:১১ এএম , আপডেট: এপ্রিল ২৭, ২০২৬ ১০:১৪ পিএম

এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের ঘনিষ্ঠ ও ঋণের নামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সহায়তাকারী হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জে কিউ এম হাবিবুল্লাহ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকিজ উদ্দিন, মোঃ সাব্বির, মিফতাহ উদ্দিন, কাজী মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রধান কার্যালয়ের অর্থ পাচার প্রতিরোধ কর্মকর্তা তাহের আহমেদ চৌধুরী, ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রিন্সিপাল ও বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, পান্থপথ শাখা, ঢাকায় কর্মরত নজরুল ইসলাম এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, পান্থপথ শাখার বর্তমান ম্যানেজার আবু নোমান মুহাম্মদ শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, পান্থপথ শাখা থেকে এস আলম গ্রুপের ২ হাজার কোটি টাকা পরস্পর যোগসাজশে দুর্নীতির মাধ্যমে সিঙ্গারপুর পাচার করেছেন-এমন অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুই সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে দুদক। একই সঙ্গে তাদের কার্যকাল, দায়দায়িত্ব সংক্রান্ত তথ্য, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, এনআইডি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এর সত্যায়িত ফটোকপি চাওয়া হয়েছে। এর সাথে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি,পান্থপথ শাখা হতে এস আলম গ্রুপ এবং গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান সমূহ যেসব ঋণ গ্রহণ করেছে সেগুলোর তথ্যও চেয়েছে দুদক।

উল্লেখিত কর্মকর্তাদের মধ্যে আকিজ উদ্দিন হলেন এস আলমের একান্ত সচিব। অভিযোগ আছে, কাগজেকলমে মনিরুল মওলা ব্যাংকটির এমডি থাকলেও অঘোষিত এমডি ছিলেন আকিজ উদ্দিন। আকিজ উদ্দিনের নির্দেশনা অনুযায়ীই সব কিছু করতেন মনিরুল মওলা। আর ইসলামী ব্যাংকের ঋণের দায়িত্বে ছিলেন মিফতাহ উদ্দিন। এই দুই কমকর্তা ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ ও মানবসম্পদ বিষয়গুলো দেখভাল করতেন।

আর জে কিউ এম হাবিবুল্লাহ ছিলেন এস আলম গ্রুপের কোম্পানি সেক্রেটারি। এরপর ঢাকা ব্যাংকের এভিপি এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের ভিপি ছিলেন। পরে তাকে ইসলামী ব্যাংকের ডিএমডি এবং পরবর্তীতে এডিশনাল এমডি করা হয়। ডিএমডি এবং এডিশনাল এমডি থাকাবস্থায় ইসলামি ব্যাংকের বিভিন্ন বিনিয়োগে গ্রাহক থেকে ঘুষ নিয়ে বিনিয়োগ সুবিধা এবং বিনিয়োগ লিমিট বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক দখলে নেওয়ার পরই শুরু হয় নামে-বেনামে টাকা বের করার আয়োজন। এ জন্য আগে যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকের মধ্যে নিজস্ব একটি অনুগত বাহিনী গড়ে তোলে এস আলম। প্রধান কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সব বিভাগ এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় শাখায় পদোন্নতি দিয়ে এসব কর্মকর্তাকে বসানো হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁদেরকে বরখাস্ত করা হয়।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ইনস্যুরেন্স ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে চ্যাম্পিয়ন পাইওনিয়ার

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স পিএলসি ‘ইনস্যুরেন্স ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ (আইআইসি) ২০২৬’-এ চ্যাম্পিয়ন ...

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আক্তার হোসেনের নিয়োগ বাতিল

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তার অবশিষ্ট ...