জাহাঙ্গীর আলম আনসারী, সিনিয়র রিপোর্টার
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৫ ৪:৪৫ পিএম

নিয়ম লঙ্ঘন করে ব্যাংক এশিয়ার দুইটি রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবে মোটা অঙ্কের ডলার জমা করে বিদেশে বসে খরচ করার দায়ে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে ব্যাংটিকে। বিষয়টি জানার পরও ব্যাংক এশিয়া কর্তৃপক্ষ গোপন রেখেছিল। পরে বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়ার পর ব্যাংকটিকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী একজন বাংলাদেশি নাগরিক বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিদেশে ব্যয় করতে পারেন। আর বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশ ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার সময় সঙ্গে আনা বৈদেশিক মুদ্রা যদি ১০ হাজার মার্কিন ডলারের কম হয়, তা নিজের কাছে রাখা বা ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ দেশে আনলে বিমানবন্দরে এফএমজে ফরমে ঘোষণা দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা ব্যাংকে জমা দিতে হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগের সাম্প্রতিক এক পরিদর্শনে দেখা যায়, ব্যাংক এশিয়ার দুটি রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিপুল পরিমাণ নগদ মার্কিন ডলার জমা হয়েছে। সেই অর্থ পরে বিদেশে খরচও করা হয়েছে।

তদন্তে দেখা যায়, ব্যাংক এশিয়ার ফারহানা করিম নামের এক গ্রাহক বিদেশ ভ্রমণের পুরোনো তারিখ দেখিয়ে একাধিকবার বা কখনো একই দিনে ১০ হাজার ডলারের বেশি জমা দেন। এসব জমা সবসময় তিনিই করেননি; অন্য কেউ তার হয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছেন। এভাবে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার ডলার জমা হয়। আরও আশ্চর্যের বিষয়, বিদেশে অবস্থানকালেও তিনি দেশের ভেতর থেকে জমা সম্পন্ন করেছেন। পরে এই অর্থ আরএফসিডি কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে খরচ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আলায়না চৌধুরী নামের আরেক গ্রাহক বিদেশে থাকাকালীন অন্য একজনের মাধ্যমে তার হিসাবে ৬৮ হাজার ডলার জমা দিয়েছেন। এরপর সেই অর্থও একইভাবে বিদেশে ব্যয় করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে বলা হয়েছে, এসব লেনদেন সম্পূর্ণ নিয়মবিরোধী। দেশীয় কার্ব মার্কেট থেকে সংগৃহীত বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে আরএফসিডি হিসাবে জমা করা হলেও, মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে খরচ করা। ব্যাংকের সহায়তা ছাড়া এ ধরনের নিয়মভঙ্গ সম্ভব নয় বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অনিয়মের দায়ে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংক এশিয়াকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, ব্যাংক এশিয়া এটা অপরাধ করেছে। তারা জানার পরও বিষয়টি গোপন রেখেছে। অন্যায়কে তারা প্রশ্রয় দিয়েছে। এজন্যই তাদেরকে জরিমানা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সোহেল আর কে হুসেইনের নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি। এমনকি তার হোয়াটসএ্যাপ নম্বরে বিষয়টি উল্লেখ করে মেসেজ দিলেও তিনি কোনো রিপ্লাই দেন নি।

ব্যাংকিং সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধরনের অনিয়ম শুধু ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি মানুষের আস্থা কমায় না, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকেও বিপর্যস্ত করে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের আরএফসিডি হিসাবের ওপর আরও কঠোর নজরদারি চালাতে হবে।

এএ

শেয়ার

পাঠকের মতামত

ইনস্যুরেন্স ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে চ্যাম্পিয়ন পাইওনিয়ার

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স পিএলসি ‘ইনস্যুরেন্স ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ (আইআইসি) ২০২৬’-এ চ্যাম্পিয়ন ...

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আক্তার হোসেনের নিয়োগ বাতিল

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তার অবশিষ্ট ...