তারল্য সহায়তা দিবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক
অনিশ্চিত গন্তব্যে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ অনুমোদন পাওয়া পদ্মা ব্যাংক


- মোট বিতরণকৃত ঋণ ৫৫১৯ কোটি টাকা
- খেলাপি ঋণ ৫১৭৪ কোটি টাকা
- মূলধন ঘাটতি ৫৮৩৬ কোটি টাকা
- কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সহায়তা চেয়েছিল ৪০০০ কোটি টাকা
- নিজেরা ম্যানেজ করতে অথবা অবসায়নে যেতে বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
>> ব্যাংকটির বিষয়ে বলার মতো কোনো অগ্রগতি আপাতত নেই: মুখপাত্র, কেন্দ্রীয় ব্যাংক
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি উপেক্ষা করেই ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় ৯টি ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছিল। এই ৯ ব্যাংকের একটি ছিল দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড। কিন্তু চার বছর না পেরোতেই ব্যাংকটি ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়ে। ধারাবাহিকভাবে গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে ২০১৭ সালে ব্যাংকটিতে হস্তক্ষেপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুনর্গঠন করা হয় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। ওই সময় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে বাধ্য হন। একই সময় অপসারণ করা হয় ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও। এরপর চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।
কিন্তু চেয়ারম্যান-এমডি পরিবর্তনের পরও ঘুরে দাড়াতে পারেনি ব্যাংকটি। এরপর ঋণ কেলেঙ্কারি আর অনিয়মের কালিমা মুছতে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি ব্যাংকটির নাম পরিবর্তন করা হয়। দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হয় পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড।
ওই সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে পদ্মা ব্যাংকের ৬৮ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা নিয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। বিনিময়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে জোগান দিতে হয়েছে ৭১৫ কোটি টাকার পুঁজি।
এছাড়া আগে থেকেই মেয়াদি আমানত ও কলমানি হিসেবে ফারমার্সকে ধার দেয়া প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা আটকে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের। মূলধন সহায়তা দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ব্যাংকটির পর্ষদের পরিচালক হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান।
এক সময় ব্যাংকটিকে ২৫২ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নজিরবিহীনভাবে একের পর এক নীতিছাড় দিয়েছে ব্যাংকটিকে। এত কিছুর পরও ব্যাংকটির খেলাপি ঋণসহ অন্যান্য আর্থিক সূচকে দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। আর পদ্মা ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিদেশী বিনিয়োগ আনাসহ যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, তার কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি।
এদিকে প্রতিনিয়তই বাড়ছে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি। পদ্মা ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ছিল ৫ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের মূলধন ঝুঁকিজনিত সম্পদের অনুপাত (সিআরএআর) নেমে এসেছে ঋণাত্মক ১৫০ দশমিক ২৭ শতাংশে, যা আন্তর্জাতিক কাঠামো ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী থাকা উচিত ন্যূনতম সাড়ে ১২ শতাংশ। সিআরএআর হচ্ছে, একটি ব্যাংকের মূলধন ও তার ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের অনুপাত, যেখানে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী সম্পদের হিসাব নির্ধারণ করা হয়।
তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ৯৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ব্যাংকটির মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ হল ৫ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা।
অপরদিকে, ব্যাংকটির ঋণ থেকে যে আয় হচ্ছে, তা দিয়ে আমানতের সুদ পরিশোধ করা হচ্ছে না। ফলে প্রতি বছর বড় অঙ্কের লোকসান গুনছে পদ্মা। গত বছরের জুন শেষে ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৫ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সুদ ছাড়া চলতি আমানত ও স্বল্প সুদবাহী আমানতের পরিমাণ যাথাক্রমে ২৭১ কোটি ও ২০৩ কোটি টাকা। উচ্চ সুদের আমানত ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য আমানতের পরিমাণ ২ হাজার ১২৬ কোটি টাকা।
জানা গেছে, পদ্মা ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা না দেখে গত বছরের মাঝামাঝি ব্যাংকটিকে অবসায়ন কিংবা মার্জারে অন্তর্ভুক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অফ-সাইট সুপারভিশনের পক্ষ থেকে ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্টকে সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগ এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলমান সংকট কাটানোর জন্য সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছিল পদ্মা ব্যাংক। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক পদ্মা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাথে বৈঠক করে তাদেরকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে কোনো প্রকার তারল্য সহায়তা দেয়া সম্ভব না। এবং তাদেরকে দুইটি পথও দেখিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালীর কাছ থেকে টাকা ম্যানেজ করা অথবা অবসায়নে যাওয়া।
এসব বিষয়ে জানতে পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী খান এবং ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. তালহার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ হয়নি। এমনকি বিষয়গুলো উল্লেখ করে তাদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ দিলে কোনো জবাব দেন নি।
এসব বিষয়ে কথা বললে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, পদ্মা ব্যাংকের বিষয়ে বলার মতো কোনো অগ্রগতি এখনো হয়নি। এ সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায় সেটা নিয়ে ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে এখন কাজ চলছে। এগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর অতি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলো নিয়েও কাজ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এএ
- ১আইডিআরএ’র সদস্য হলেন সিরাজুল ইসলাম
- ২লেনদেনের শীর্ষে মালেক স্পিনিং
- ৩যে কোনো ফরম্যাটে এটাই সবচেয়ে বড় জয় : শান্ত
- ৪উত্থানে শুরু পতনে শেষ
- ৫সাংবাদিকরা হবেন তথ্য কমপ্লেক্সের প্রথম ব্যবহারকারী : তথ্যমন্ত্রী
- ৬গণভোটকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে জামায়াত: এমপি খোকন
- ৭মৎস্যসম্পদে স্বনির্ভরতার প্রত্যয়ে নোয়াখালীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ
- ৮মানিকগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত
- ৯নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে : প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
- ১০রাজনীতি নিষিদ্ধের দুই বছর, কতটা ‘রাজনীতিমুক্ত’ যবিপ্রবি?
- ১কমোডিটি এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম ও সম্ভাবনা নিয়ে সিএসইর সেমিনার
- ২বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী-আমানসহ ৪ নতুন সদস্য
- ৩পেশাগত দক্ষতা ও গবেষণা উন্নয়নে যবিপ্রবির সঙ্গে তিন প্রতিষ্ঠানের চুক্তি
- ৪আজ কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- ৫প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে ইবিতে দোয়া মাহফিল
- ৬কুষ্টিয়ার ‘মসলা গ্রামে’ কৃষকদের সঙ্গে বিএনপি নেতার মতবিনিময়
- ৭রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই আজ
- ৮ঝিনাইদহের সাবেক সংসদ সদস্য নায়েব আলী গ্রেফতার
- ৯প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির চালিকাশক্তি হবে তরুণরা
- ১০কাঁটাময় শরীরে কোমল ফুল, শ্রীমঙ্গলে নতুন বিস্ময় ‘ক্যাকটাস’





পাঠকের মতামত