

বেসরকারি খাতের শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকটি শিকদার পরিবারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। বোর্ডে হস্তক্ষেপ করে কথিত ঋণের নামে বের করে নেয় সাধারণ মানুষের রাখা আমানতের টাকা। অনিয়ম-লুটপাটের কারণে এক সময়ের শক্তিশালী ন্যাশনাল ব্যাংকের নাম চলে আসে দুর্বল ব্যাংকের তালিকায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের ব্যাংক খাতেও পরিবর্তন শুরু হয়। ভেঙে দেয়া হয় ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে চেয়ারম্যান করে নতুন পর্ষদ গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয়ার পর আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছিলেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আমাদেরকে সময় ও সাপোর্ট দিতে হবে। সাপোর্ট পেলে ন্যাশনাল ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াবে।
পরে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ন্যাশনাল ব্যাংককে জামানত ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়। আবার অন্য ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি দিয়ে আরো ৯৮৫ কোটি টাকা ধার নিয়ে দেওয়া হয়। এসব টাকা ধার দেওয়ার মেয়াদ কয়েকবার শেষ হলেও পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। তারপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েক ধাপে সময় বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া চলতি হিসাবে ঘাটতি রেখে লেনদেন করার সুযোগ দেওয়া হয়, যার পরিমাণ দুই হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৯ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা ধার নেয় ব্যাংকটি।
এভাবে ১৫ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উন্নতি হয়নি ন্যাশনাল ব্যাংকের। বরং দিন দিন আরও অবনতি হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে কমছে আমানত। বেড়েছে খেলাপি ঋণ। এর বিপরীতে প্রভিশন এবং মূলধন ঘাটতিও বেড়েছে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের এসব বিষয় জানতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুকে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
ন্যাশনাল ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) আদিল চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানার জন্য তার মোবাইল নম্বরে ফোন দিলেও রিসিভ হয়নি। এমনিক তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেন নি।
ন্যাশনাল ব্যাংকের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংকের বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোঁজ খবর রাখছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর শেষে ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানতের স্থিতি ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি বছরের অক্টোবর শেষে ব্যাংকটির আমানত কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির আমানত কমেছে ৫ হাজার কোটি টাকা।
এসময় তারা খেলাপি ঋণও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। যেখানে খেলাপি ঋণ কমার কথা ছিল সেখানে উল্টো বেড়ছে।
তথ্য বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকের ঋণ স্থিতি ছিল ৪২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ছিল ২৩ হাজার ৭২২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
চলতি বছরের জুন শেষে ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ২৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই ৯ মাসে ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে চার হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ৩৮৮ কোটি টাকা। ব্যাংকের খেলাপি ঋণ থেকে নগদ আদায়ের অবস্থাও নাজুক। গত ৯ মাসে মাত্র ২৪১ কোটি টাকা নগদ আদায় করতে পেরেছে ব্যাংকটি।
খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ১৬ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। এ ৯ মাসে ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে পাঁচ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা।
তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল পাঁচ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুন শেষে তা বেড়ে হয়েছে আট হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। গত ৯ মাসে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি বেড়েছে দুই হাজার ৮১৫ কোটি টাকা।
বিদ্যমান নিয়মে একটি ব্যাংকের মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের (বেশিরভাগই আমানত) চার শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে হয়। আর সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ বা এসএলআর হিসেবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ রাখতে হয় ১৩ শতাংশ। ব্যাংকগুলো এসএলআরের উদ্বৃত্ত সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে ধার নেয়। তবে ন্যাশনাল ব্যাংকের উদ্বৃত্ত সিকিউরিটিজ বেশ আগেই শেষ হয়ে গেছে। পরে এসএলআর সংরক্ষণের সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখেও ধার করা হয়েছে।
ব্যাংকটি গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে এসএলআর ঘাটতিতে রয়েছে। ওই সময় ঘাটতির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের ২৫ জুন পর্যন্ত এসএলআর ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ১০ কোটি টাকা। অন্যদিকে সিআরআর ঘাটতি বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২৫২ কোটি টাকা।
এএ
- ১ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হচ্ছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’
- ২কমোডিটি এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম ও সম্ভাবনা নিয়ে সিএসইর সেমিনার
- ৩সারে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স : কৃষি সচিব
- ৪সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় স্থানীয় উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান
- ৫সংসদে আসছে ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী
- ৬সিটিজেনস ব্যাংকের সঙ্গে নেক পে’র চুক্তি সই
- ৭বিকাশে মুহূর্তেই আইডিএলসিতে এফডিআর খোলার সুবিধা
- ৮ইন্দোনেশিয়ায় ফের ভূমিকম্প
- ৯কাঁটাময় শরীরে কোমল ফুল, শ্রীমঙ্গলে নতুন বিস্ময় ‘ক্যাকটাস’
- ১০খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল
- ১চাঁদপুরে পিতার বিরুদ্ধে মেয়ের সংবাদ সম্মেলন
- ২বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী-আমানসহ ৪ নতুন সদস্য
- ৩প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে ইবিতে দোয়া মাহফিল
- ৪কুষ্টিয়ার ‘মসলা গ্রামে’ কৃষকদের সঙ্গে বিএনপি নেতার মতবিনিময়
- ৫পেশাগত দক্ষতা ও গবেষণা উন্নয়নে যবিপ্রবির সঙ্গে তিন প্রতিষ্ঠানের চুক্তি
- ৬নিরাপত্তাহীনতা থাকলে চিকিৎসকদের বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে না : প্রধানমন্ত্রী
- ৭শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে আজ ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
- ৮সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান রফিকুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন
- ৯সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে পিপলস লিজিং
- ১০জেলা প্রশাসন আর বিএসবিআরএ তদন্ত কমিটি গঠন





পাঠকের মতামত