ড. আখতার হোসেন
প্রবাসীদের জন্য সহজে বিনিয়োগের সুযোগ সরকারকে করে দিতে হবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেন। গত জুলাই মাসে আগামী দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। দেশের অর্থনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক পরামর্শদাতা হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে চলছেন খ্যাতনামা এ অর্থনীতিবিদ। দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিনের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে রেমিট্যান্স এবং প্রবাসীদের নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন তিনি।
বাণিজ্য প্রতিদিন: বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে কি কি পদক্ষেপ নেয়া প্রযোজন?
মো: আখতার হোসেন: প্রবাসীদের ইকোনোমিক সিস্টেমে আনতে হবে। তাদের প্রয়োজনীয় বস্তুগুলোতে সহজতর করতে হবে। যেমন ভিসা সহজীকরন, ভোটারআইডি, পাসপোর্ট নবায়ন তরান্বিত করা হবে প্রবাসিদের জন্য ইকোসিস্টেম তৈরি করা। উন্নত বিশ্বের সাথে যোগাযোগের জন্য কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করে ভিজিট ভিসা থেকে সব কিছুর ট্যাভেল একসেস আরো সহজতর করতে হবে। কূটনৈতিক ব্যার্থতা দূর করতে হবে। প্রবাসীদের অর্জিত অর্থ বিনিয়েগের জন্য উত্তম বিনিয়োগ ব্যবস্থা তৈরি করে দিতে হবে সরকারকে। সাথে পরবর্তী জীবনে পেনশনের সুব্যবস্থাসহ নিশ্চিত সেবামূলক ব্যবস্থা রাখতে হবে।
বাণিজ্য প্রতিদিন: রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাড়াতে পারে কোন বিষয়গুলো আপনি মনে করেন?
মো: আখতার হোসেন: রেমিট্যান্স বাংলাদেশে অর্থনীতির মূলনীতি। রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে বাধা হয়ে যেতে পারে আনস্কিল পারসন (অদক্ষ ব্যক্তি)। বিদেশে যাওয়া কর্মীদের সে দেশের চাহিদার উপর ভিত্তি করে স্কীল হতে হবে। তবে সে যে স্কীল হবে তার জন্য তাকে সরকারের অথরাইজড ইকোসিস্টেম কাজ করতে হবে। তা না হলে কাগজ কলমে অগ্রগতি থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন হবে। ওয়ার্কার স্কিল হলে রেমিট্যান্স বাড়বে দ্বীগুন আকারে।
বাণিজ্য প্রতিদিন: বর্তমানে রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় রেমিট্যান্স এর পরিবশে কেমন হবে?
মো: আকতার হোসেন: আমার বিবেচনায় রেমিট্যান্সের জন্য দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশিলতা আছে। গনতান্তিক দেশে একটু আধটু সমস্যা থাকবেই। এটা সমস্যা না নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সেই জন্য কূটনৈতিক ব্যার্থতা দূর করতে হবে। গ্লোবাল ভিলেজ পরিবারে রুপান্তরের সকল কাঠামো তৈরি করতে হবে। যত সমস্যা দূর করা যাবে তত রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে।
বাণিজ্য প্রতিদিন: প্রবাসীদের সমস্যাগুলো কি কি রয়েছে বলে আপনি একজন অর্থনীতিবীদ হিসেবে মনে করেন?
মো: আখতার হোসেন: প্রবাসী ওয়ার্কারগন খুব কষ্ট করে উপার্জন করে। তাদের উপার্জনের অর্থের বিনিয়োগ ব্যবস্থা সরকারকে করে দিতে হবে। তা না হলে তারা অপাত্রে অন্য দান করে উপার্জিত অর্থ নষ্ট করে ফেলবে। সে জন্য সরকারের পক্ষে মেঘা প্রজেক্টের জন্য ঋন না নিয়ে বন্ড ইস্যু করতে পারে, প্রবাসীরা সেখানে বিনিয়োগ করবে। এদিকে যেসকল প্রতিষ্ঠাান প্রতারনা করে, যেমন ডেসটিনি, যুবক বা ইভ্যালী, ইঅরেঞ্জের মতো প্রতিষ্ঠানকে কঠোর ভাবে প্রতিহত করতে হবে। এমন প্রতিষ্ঠানের যেন জন্ম না হয় দেশে।
এছাড়াও আমরা আামাদের দেশের যে ইনভেস্টমেন্ট ঘাটতি রয়েছে রয়েছে তা প্রবাসী বিনিয়োগের মাধ্যমে পূরন করা সম্ভব। আমরা বিদেশি বিনিয়োগের আশায় বসে থাকি। অথচ আমাদের দেশের টাকা বিনিয়োগের জায়গার অভাবে পাচার হয়ে যায় বা দেশে বিনিযোগের উত্তম মাধ্যম খুজে পাচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা। অথবা যে প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে সেই প্রতিষ্ঠানের অনাদায়ি ঋনে বা শেয়ারবাজার মনিপুলেট করে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। তা রোধ করতে হবে। আবার বিনিয়োগ যদি প্রবাস থেকে আসে তাদের বিনিয়োগ ফেরতের সহজ মাধ্যম মুনাফাসহ করে দিতে হবে।
বাণিজ্য প্রতিদিন: রেমিট্যান্স প্রণোদনা সিস্টেম বাড়াতে হবে কিনা?
মো: আকতার হোসেন: সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকরী উদ্যোগ রেমিট্যান্স প্রণোদনা ঠিক ধারাই রয়েছে। বাড়ানো বা কমানো এখনো পরিবর্তনের মতো সময় আসেনি। হুন্ডি ব্যবস্থা নির্মূলের জন্য ভবিষতে নতুন কোনো প্রণোদনা আসতে পারে, যা সরকার ঠিক করবে।
বাণিজ্য প্রতিদিন: প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কি করনীয় আছে ?
মো: আখতার হোসেন: রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের তাদের সম্মানের জায়গায় বসাতে হবে। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহিত করতে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অ-আর্থিক প্রণোদনা কিংবা সুবিধা দিতে বিভিন্ন প্রাধিকার সুবিধা সংবলিত “রেমিটার স্মার্ট কার্ড” চালু করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে রেমিটার বা বেনিফিশিয়ারিরা সরকারের বিভিন্ন সেবা দপ্তর থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ঢাকা বিমান বন্দরে প্রবাসীদের জন্য উন্নত সেবার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এছাড়া যে সমস্ত প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে অধিকতর অবদান রাখছেন তাদেরকে প্রায়োরিটি কার্ড প্রদান করা যেতে পারে।
বাণিজ্য প্রতিদিন: রেমিট্যান্সের জন্য প্রফেশনাল গ্রুফ কিভাবে সহায়তা করতে পারে?
মো: আখতার হোসেন: আমরা সাধারণত জানি প্রফেশনাল গ্রুফ আমাদের দেশে বেশি রেমিট্যান্স পাঠায় না। তবে তাদেরকে বাদ দেয়া যাবে না। উন্নত জীবন ধারনের জন্য অনেকেই শিক্ষা বা বসবাসের জন্য বিদেশে যেতে চায়। তারা বিদেশে গেলেও তাদের অনেকের পরিবার দেশেই থাকে। তাদের জন্যও তারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠায়। এছাড়াও প্রফেশনাল গ্রুফ দেশে বিনিয়োগের বড় মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
বিএইচ
- ১চাঁদপুরে ১৫০ ঘন্টা বিদ্যুৎবিহীন অর্ধশতাধিক পরিবার
- ২সিরাজগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
- ৩চাঁদপুরে নারীর পেট থেকে ৪ কেজি ৮ শ গ্রামের টিউমার অপসারণ
- ৪ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় ৮ বাংলাদেশি নারী আটক
- ৫জামায়াত-এনসিপির মব রাজনীতিই আ’লীগের ফেরার পথ তৈরি করছে
- ৬কুষ্টিয়ায় গাঁজাসহ দুইজন আটক
- ৭বাকৃবিতে শুরু হচ্ছে বিএসভিইআরের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন
- ৮সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ, অপ-সাংবাদিকতা পরিহার করতে হবে
- ৯ব্লু ইকোনমি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে
- ১০গাজীপুরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল সমাবেশ
- ১চাঁদপুরে একযোগে বদলি ৩১ ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা
- ২নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিসিক শিল্পনগরী’র গাছ বিক্রির অভিযোগ
- ৩আগামী রবিবার মহেশখালী আসছেন প্রধানমন্ত্রী
- ৪চাঁদপুরে ফুটবল মাঠ উদ্বোধন করলেন শেখ ফরিদ আহম্মেদ
- ৫মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারবে এমন বিচার বিভাগ চাই: আইনমন্ত্রী
- ৬জবির লোক প্রশাসন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন
- ৭ভরিতে ৩২৬৬ টাকা কমলো সোনার দাম
- ৮১৫ আগস্ট ৭৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর হাতে অবসর সুবিধার টাকা
- ৯লিথি গ্রুপের শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনার দাবিতে গাজীপুরে অবস্থান কর্মসূচি
- ১০সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ, অপ-সাংবাদিকতা পরিহার করতে হবে





পাঠকের মতামত